দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্চের পর সর্বোচ্চ সংক্রমণ

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২০, ০৩:৪৪ এএম

দক্ষিণ কোরিয়ায় গত মার্চের পর এক দিনে সর্বোচ্চ করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সেখানে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ৫৮৩ জন।

একসময় করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সফল হয়ে সুনাম কুড়ানো এশিয়ার এ দেশটি এখন মহামারীর তৃতীয় ঢেউ মোকাবিলার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

নতুন করে কঠোর সামাজিক দূরত্ব বিধি আরোপের পরও সেখানে মহামারী পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার রাজধানী সিউল ও এর আশপাশের এলাকায় নতুন করে কড়া দূরত্ব বিধি আরোপ করেছে।

দ্বিতীয় দফা করোনাভাইরাস সংক্রমণের সময় আরোপিত বিবিনিষেধ শিথিলের এক মাস পরই সরকার এই কড়াকড়ির পদক্ষেপ নিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার দ্রুত বিধিনিষেধ শিথিল করায় সংক্রমণে ফের ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে।

গত ৬ মার্চের পর বৃহস্পতিবার প্রথম দক্ষিণ কোরিয়ায় দৈনিক সংক্রমণ ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে।

সিউলের কোরিয়া ইউনিভার্সিটির সংক্রামক রোগ বিভাগের অধ্যাপক কিম উ-জু বলছেন, ‘অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ আর মানুষ অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়তে থাকার কারণে বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছিল। কিন্তু পদক্ষেপটি অকালেই নেওয়া হয়ে গেছে।’

দক্ষিণ কোরিয়ায় ধর্মীয় সমাবেশ থেকে প্রথম দফা সংক্রমণ ছড়িয়েছিল ফেব্রুয়ারিতে। তবে বর্তমানে সংক্রমণ রাজধানী ঘিরে ছড়িয়ে পড়ায় আক্রান্তদের শনাক্ত করা এবং এর বিস্তার ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

‘কোরিয়া ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন এজেন্সি’ (কেডিসিএ) বলছে, নতুন করে যারা করোনায় শনাক্ত হয়েছে; তার মধ্যে ৫৫৩ জনই স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত। এর মধ্যে ৭৩ শতাংশ রাজধানী সিউলের। এর আগে সেখানে সংখ্যাটা এত বেশি ছিল না।

কেডিসিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা লি সাং-ওন বলেছেন, কঠোর দূরত্ববিধি মেনে না চললে দক্ষিণ কোরিয়ায় ডিসেম্বরের শুরুর দিক পর্যন্ত দৈনিক সংক্রমণ ৪০০ থেকে ৬০০-এর মধ্যেই ঘোরাফেরা করবে।

দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী পার্ক নিয়ং-হু স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে টিভিতে সম্প্রচারিত এক বৈঠকে বলেন, করোনা আপনার এবং আপনার পরিবারের দরজায় কড়া নাড়ছে; বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সংক্রমণের বিস্তার খুবই উদ্বেগজনক।’

দক্ষিণ কোরিয়ায় এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩২ হাজার ৩১৮ জনের এবং মারা গেছে ৫১৫ জন।

ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার বিশ্বজুড়ে ৬ লাখ ১০ হাজারের কাছাকাছি মানুষের মধ্যে করোনা সংক্রমিত হয়। এদিন মারা যায় ১২ হাজার ৯ জন।

যুক্তরাষ্ট্রে এক দিনে ২ হাজার ৩০৪ জন মারা গেছে। ক্যালিফোর্নিয়া ও টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে সর্বোচ্চ সংক্রমণ হয়েছে। এদিন আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ৮১ হাজারের বেশি মানুষ। আক্রান্ত ও মৃতের তালিকায় শীর্ষে থাকা দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৬৮ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে। মোট আক্রান্ত হয়েছে ১ কোটি ৩১ লাখ।

আক্রান্তের হিসাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৯২ লাখ ৬৬ হাজার ৬৯৭। এর মধ্যে ১ লাখ ৩৫ হাজার ২৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ব্রাজিলে আক্রান্তের সংখ্যা ৬১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৯৮। এর মধ্যে ১ লাখ ৭০ হাজার ৭৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত