দাম কমছে সবজির ফের বেড়েছে আটা-ময়দার

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২০, ০৩:৫২ এএম

অবশেষে রাজধানীসহ সারা দেশে সবজির দাম কমতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে সরবরাহও বেড়েছে। ঢাকায় অধিকাংশ সবজির কেজি ৪০-৬০ টাকার মধ্যে। গত সপ্তাহের ২০০ টাকা কেজি দরের কাঁচামারিচ মিলছে ৮০-১০০ টাকায়। দামে একটু বেশি হলেও মিলছে মুড়িকাটা নতুন পেঁয়াজও। তবে আমন মৌসুম শুরু হলেও এখনো সব ধরনের চালের দাম বাড়তি। সঙ্গে আবারও বেড়েছে আটা ও ময়দার দাম।

গত বুধবার রাতে রাজধানীর সবচেয়ে বড় পাইকারি সবজির বাজার কারওয়ান বাজারে দেখা যায়, সবজিবোঝাই একের পর এক ট্রাক বাজারে প্রবেশ করছে। ট্রাক থেকে মালামাল স্থানান্তরের জন্য ভ্যানগাড়িগুলো ছোটাছুটি করছে কার আগে কে ট্রাকের কাছে পৌঁছাতে পারে। লোডাররাও (যারা ট্রাক থেকে পণ্য নামায়) ব্যস্ত সময় পার করছেন। এক ট্রাকের পণ্য নামানো শেষ তো আরেক ট্রাকের পানে ছুটছেন তারা। দম ফেলারও ফুরসৎ নেই তাদের। আড়তদাররাও ব্যস্ত পণ্য বুঝে নেওয়ার জন্য। নিলামে বা চুক্তিতে কৃষক-পাইকারের কাছ থেকে এসব পণ্য তারা কিনে নিচ্ছেন। পরদিন সকালে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে এসব পণ্য বিক্রি হবে।

ওই বাজারে মানিকগঞ্জ থেকে সবজি নিয়ে আসা কৃষক দীন মোহাম্মদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বন্যার পর নতুন যে সবজি লাগানো হইছিল সেগুলো এখন তুলতে শুরু করেছি। সবার ক্ষেতের সবজিই এখন তোলা শুরু হইছে। তাই আগের চেয়ে অনেক কম দামে বিক্রি করতে হয়। এখনো যে দাম পাওয়া যাচ্ছে তাতে পুষবে। বিষয় হইছে কষ্ট, নিজে এসে বিক্রি করতে পারলে একটু বাড়তি পর্তায় (লাভ) পড়ে।’

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, শীতকালীন সবজি থরেথরে সাজানো রয়েছে খুচরা দোকানগুলোয়। দামও আগের চেয়ে বেশ কম। প্রতিকেজি শিম মিলছে ৫০-৭০ টাকা দরে। আকার ও মানভেদে প্রতিটি ফুলকপি-বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪৫ টাকা। কেজিপ্রতি শালগম ৪০-৫০, মুলা ৩০-৩৫, পেঁপে ৩০, পটোল ৫০-৬০, ঢেঁড়স ৫০-৫৫, বেগুন আকার ও মানভেদে ৫০-৮০ এবং খিরা ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি উচ্চে ও করলা বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০, চিচিঙা ও ঝিঙে ৬০, কাঁচামরিচ ৮০-১০০, টমেটো ১০০, গাজর ৮০-১০০, নতুন আলু ১৪০ ও পুরাতন আলু ৪০-৪৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে এখনো প্রতিকেজি বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকা দরে।

বাজারে এসেছে কালিসহ পেঁয়াজ। মানভেদে এসব পেঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকায়। পুরাতন দেশি পেঁয়াজ ৭০-৮০; চীন ও তুরস্কের পেঁয়াজ ৩৫-৪০, দেশি রসুন ১১০-১২০, ও চীনের রসুন বিক্রি হচ্ছে ৯০-১০০ টাকা দরে। বাজারে কিছুটা বাড়তি আদার দাম। চীনের আদা বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ টাকায়।

রাজধানীর হাতিরপুল কাঁচাবাজারের বিক্রেতা মোহাম্মদ মনির হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত ৪-৫ দিন ধরে বাজারে সবজির আমদানি (সরবরাহ) বেশ ভালো। এজন্য দাম অনেক কমেছে। সব ধরনের সবজিই এখন বাজারে আসছে। বড় কোনো দুর্যোগ না হলে দুই সপ্তাহ পর বাজারের চেহারা পাল্টে যাবে। তখন দামও অনেক কমে আসবে।’

এদিকে আমনের মৌসুম শুরু হলেও এখনো তার কোনো প্রভাব পড়েনি চালের বাজারে। প্রতি কেজি মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৮-৬০ টাকা দরে। আর মাঝারি মানের চাল বিক্রি হচ্ছে ৫২-৫৪ টাকা। এছাড়া মোটা চালের জন্য ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪৭-৪৮ টাকা। আমনের পূর্ণ মৌসুম শুরু হলে মোটা ও মাঝারি মানের চালের দামে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা বিক্রেতাদের। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির দোহাই দিয়ে কেজিপ্রতি খোলা আটা ও ময়দার দাম ২ টাকা বেড়েছে। বাজারভেদে পণ্যটির খুচরা দামেও পার্থক্য রয়েছে।

চট্টগ্রামেও কমেছে সবজির দর : চট্টগ্রাম নগরীতেও কমতে শুরু করেছে সব ধরনের সবজির দাম। শীতকালীন সবজির সরবরাহও বেড়েছে। তবে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে আলু। প্রতি কেজি বরবটি সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২০ টাকা কমে বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা দরে। এছাড়া করলা ৭০, কাঁকরোল ৬০, ঢেঁড়স ও পটোল ৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এসব সবজির দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি কমছে ১০ টাকা।

গতকাল প্রতিকেজি বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়; যা গত সপ্তাহে ছিল ৫০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৩০ টাকা কমে ফুলকপি ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বেগুন ও গাজর বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়; যা গত সপ্তাহে ছিল ৭০-৮০ টাকা। তবে আলুর কেজি ৪৮ টাকা। মিষ্টি কুমড়ো আর ঝিঙ্গা বিক্রি হয়েছে কেজি ৫০ টাকা দরে।

রেয়াজউদ্দিন বাজারের খুচরা বিক্রেতা খলিলুর রহমান বলেন, ‘প্রচুর সবজি আসা শুরু হয়েছে। পর্যাপ্ত সরবরাহের কারণে দাম কমছে। শীতকালীন সবজি পর্যাপ্ত এলে দাম আরও কমবে। আলুর দাম পাইকারিতে বেশি থাকায় কমছে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত