বিশ্বে এক মাসে মৃত্যু বেড়েছে ৬৯%

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২০, ০২:২৫ এএম

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ প্রথমবারের চাইতে আরও প্রবল ধাক্কা দিয়েছে। গেল বছরের শেষ দিকে চীনের উহানে ভাইরাসটি প্রথম শনাক্ত হলেও মার্চ নাগাদ তা ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বে। মাঝে জুন মাস থেকে সংক্রমণে কিছুটা ধীর গতি এলেও অক্টোবর থেকে ফের বাড়তে শুরু করেছে। নভেম্বরে এসে নতুন রোগী শনাক্ত আর মৃত্যুতে প্রতি দিনই হচ্ছে নতুন নতুন রেকর্ড। কেবল নভেম্বর মাসের এই কয়দিনে আগের মাসের তুলনায় মৃত্যু বেড়েছে প্রায় ৬৯ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডমিটারসের তথ্য অনুসারে ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বজুড়ে করোনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১০ লাখ ১১ হাজার ২২৭ জন। ৩০ দিন পর ২৭ অক্টোবর সেই সংখ্যা হয় ১১ লাখ ৭৩ হাজার ৮৬৬ জন। আলোচ্য এক মাসের মধ্যে নতুন করে মৃত্যু হয় ১ লাখ ৬২ হাজার ৬৩৯ জনের। তবে নভেম্বরের ২৭ তারিখে করোনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৪ লাখ ৪৮ হাজার ৩৯৩ জনে। ২৭ অক্টোবর পরের এই সময়টাতে নতুন করে মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ৭৪ হাজার ৫২৭ জনের, যা আগের ৩০ দিনের চাইতে ১ লাখ ১১ হাজার ৮৮৮ জন বা ৬৮ দশমিক ৮০ শতাংশ বেশি। 

ওয়ার্ল্ডমিটারসের হিসাব অনুসারে গতকাল শনিবার রাত ৮টা অবধি বিশ্বের ২১৭টি দেশ ও অঞ্চলে শনাক্ত হওয়া মোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৬ কোটি ২১ লাখ ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ১৪ লাখ ৫১ হাজার ৮০০ জনের বেশি মানুষের। এই সময়ের মধ্যে অবশ্য সেরে ওঠা মানুষের সংখ্যাও ৪ কোটি ২৯ লাখ ছাড়িয়েছে।

বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১ কোটি ৩০ লাখ ৮৬ হাজার ২৬৮। দেশটিতে করোনায় মারা গেছে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৮৪২ জন।

ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় ভারতের অবস্থান দ্বিতীয়। ভারতে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৯৩ লাখ ৯ হাজার ৭৮৭। দেশটিতে করোনায় মারা গেছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৭১৫ জন।

ব্রাজিল আছে তৃতীয় অবস্থানে। ব্রাজিলে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৬২ লাখ ৪ হাজার ২২০। দেশটিতে করোনায় মারা গেছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৯৭৪ জন।

তালিকায় ফ্রান্সের অবস্থান চতুর্থ। রাশিয়া পঞ্চম। স্পেন ষষ্ঠ। যুক্তরাজ্য সপ্তম। ইতালি অষ্টম। আর্জেন্টিনা নবম। কলম্বিয়া দশম।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। চীনে করোনায় প্রথম কোনো রোগীর মৃত্যু হয় চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি। তবে তার ঘোষণা আসে ১১ জানুয়ারি। চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি চীনের বাইরে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় থাইল্যান্ডে। করোনার প্রাদুর্ভাবের পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। গত ২ ফেব্রুয়ারি চীনের বাইরে করোনায় প্রথম কোনো রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ফিলিপাইনে। ১১ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনাভাইরাস থেকে সৃষ্ট রোগের নামকরণ করে ‘কভিড-১৯’। ১১ মার্চ করোনাকে বৈশ্বিক মহামারী ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত