জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন ইউনিক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহা. নূর আলী এবং তার স্ত্রী সেলিনা আলী। গতকাল মঙ্গলবার আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আসাদুজ্জামান নূর আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাদের জামিন দেন। ওই দিন মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছে আদালত।
রাজধানীর নিউ ইস্কাটন এলাকায় ইউনিক হাইটস অ্যাপার্টমেন্টের একটি ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রেশন নিয়ে বিরোধের জেরে জালাল আহমেদ স্পিনিং মিলস এবং শাহ ফতেউল্লাহ টেক্সটাইল মিলসের মালিক সেলিম আহমেদ গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি নূর আলী দম্পতির বিরুদ্ধে ওই মামলাটি করেন। এই মামলায় ইউনিক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর আলী ও চেয়ারম্যান সেলিনা আলীকে গ্রেপ্তারের জন্য গত সোমবার পরোয়ানা জারি করে আদালত। এর পরদিনই আদালতে হাজির হন তারা।
আসামিপক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট গাজী শাহ আলম ও অ্যাডভোকেট মো. আবু তালেব জামিন আবেদনের শুনানি করেন। অন্যদিকে বাদীপক্ষে অ্যাডভোকেট ফারুকুর রহমান জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত শুনানির আগামী ধার্য তারিখ পর্যন্ত মোহা. নূর আলী ও তার স্ত্রী সেলিনা আলীর জামিন মঞ্জুর করেন।
জামিনের শুনানিতে আসামিদের আইনজীবী শাহ আলম তালুকদার বলেন, ‘বাদী নিজের দোষ ঢাকতে মামলা করেছেন। তিনি ফ্ল্যাটের দখল নিয়ে ভোগ করছেন, কিন্তু সময়মতো নিবন্ধন করেননি। ওই প্রকল্পে আরও ফ্ল্যাটগ্রহীতা আছেন, তাদের ফ্ল্যাট সময়মতো নিবন্ধন করা হয়েছে। এটা হয়রানিমূলক মামলা। জামিন প্রার্থীরা সম্মানিত ও স্বনামধন্য ব্যবসায়ী।’
নূর আলীর আইনজীবী মো. আবু তালেবের দাবি, মামলায় বাদী প্রতারণা ও জালিয়াতির যে অভিযোগ করেছেন সে ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি।
মামলার নথি অনুযায়ী, সরকারি জমির ওপর ভবন নির্মাণ করে ফ্ল্যাট বিক্রি বাবদ বাদীর কাছ থেকে ২ কোটি ৯২ লাখ ৮২ হাজার টাকা নেন আসামিরা। চুক্তি অনুযায়ী ২০১৫ সালে ওই ফ্ল্যাটটি রেজিস্ট্রেশন না করায় তাদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে গত ১৬ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজির হওয়ার জন্য বিচারক তাদের নামে সমন পাঠায়। কিন্তু নির্ধারিত দিন ২৭ অক্টোবর তারা হাজির না হওয়ায় সমন জারিকারকের উপস্থিতিতে পরবর্তী শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করেন বিচারক। কিন্তু নির্ধারিত ওই দিন গত সোমবার সমন জারিকারক মো. হানিফুর রহমান মজনু হাজির হলেও আসামিরা আদালতে হাজির হননি। পরে বাদীপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে আসামিদের গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করেন বিচারক। তবে আসামিরা আদালতে হাজির না থাকলেও তাদের আইনজীবী ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি গাজী মো. শাহ আলম উপস্থিত ছিলেন।
