মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা

৬ বছর পর আত্মসমর্পণ সাবেক এমপি রানার ভাইয়ের, জামিন নামঞ্জুর

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:৫৯ এএম

টাঙ্গাইলে মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার আসামি সাবেক পৌর মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তির জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।

ছয় বছর আত্মগোপনে থাকার পর গতকাল বুধবার সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানার এই ভাই টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। শুনানি শেষে বিচারক মো. সিকান্দার জুলকার নাইন তার জামিন নামঞ্জুর করেন।

টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মনিরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের জানান, সকালে মুক্তি তার বাবা সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান ও ভাই আমানুর রহমান খান রানাকে নিয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরে ডিবির বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা অস্ত্র মামলায় জামিন আবেদন করেন। কিন্তু আদালত তা নাকচ করে দেয়। আসামিপক্ষে আবদুল বাকী মিয়াসহ ২০-২৫ এবং বাদীপক্ষে আইনজীবী মো. রফিকুল ইসলাম শুনানি করেন।

২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ তার কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। ফারুক হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ২০১৪ সালের আগস্টে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আনিসুল ইসলাম রাজা নামে একজনকে আটক করে। পরে তার স্বীকারোক্তিতে এ হত্যাকাণ্ডে তৎকালীন এমপি আমানুর রহমান খান রানা, তার ছোট ভাই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের তৎকালীন সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পার জড়িত থাকার বিষয় উঠে আসে। এ ঘটনার এক সপ্তাহ পর ডিবি মোহাম্মদ আলী নামে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করে। তিনিও আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে এ হত্যার পরিকল্পনার সঙ্গে রানার অন্য দুই ভাইÑ টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি ও ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন এবং সানিয়াত খান বাপ্পার নাম জানান। এরপরই কাকন ও বাপ্পা গা-ঢাকা দেন। আর ১৫ নভেম্বর রানা ও মুক্তি আত্মগোপন করেন। ২২ মাস পর রানা আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত। প্রায় দুই বছর পর জামিনে মুক্ত হন তিনি।

২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তদন্ত শেষে রানা, তার তিন ভাইসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় ডিবি। ২০১৫ সালে ডিবি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পোড়াবাড়ি থেকে দুটি পিস্তলসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। পরে ওই ব্যক্তি জানান, পিস্তলটি মুক্তি তাকে রাখতে দিয়েছিলেন। এ ঘটনায় করা মামলায় ডিবি মুক্তিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। বর্তমানে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। তবে রানার অন্য দুই ভাই কাকন ও বাপ্পা এখনো পলাতক।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত