স্থপতি এবং নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. ফরিদা নিলুফার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এবং অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এখনো তিনি উক্ত বিভাগে অধ্যাপনা করছেন। তিনি আরবান ডিজাইন বিষয়ে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জার্নালে ঢাকা মহানগরের নগরায়ণ সম্পর্কিত তার বেশ কিছু গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে।
আরবান ডিজাইন বিশেষজ্ঞ হিসাবে তিনি বিভিন্ন প্রকল্পসহ শিক্ষা ক্ষেত্রে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নানা দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। এখন বাংলাদেশে স্থপতি ইনস্টিটিউট এর পরিবেশ এবং নগরায়ণ বিষয়ক কমিটি পরিচালনা করছেন তিনি। ঢাকা মহানগরের বিদ্যমান বিভিন্ন সংকট, ঢাকায় নগরায়ন এবং করোনা মহামারি সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে দেশ রূপান্তরের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে কথা বলেছেন ওয়ারিস হাফিজ।
এই সময়ের ঢাকা মহানগরকে কীভাবে দেখছেন?
ফরিদা নিলুফার: ঢাকা মহানগরকে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি নগর হিসেবে দেখি। আমরা অনেক আগে থেকেই এই ঢাকা মহানগরকে বসবাসের অযোগ্য হিসেবে অভিহিত করে ফেলেছি। দিন দিন এর অবস্থা আরো খারাপ হচ্ছে। তবে, ঢাকা শহরকে কীভাবে বসবাসযোগ্য করে গড়ে তোলা যায় এ নিয়ে চলছে অনেক দীর্ঘমেয়াদি এবং স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা। সময়ের প্রেক্ষিতে অনেক পরিকল্পনা তৈরি হলেও সেগুলোর বাস্তবায়নের দৈন্যদশা আমাদের আলোর মুখোমুখি দাঁড় করাতে পারছে না। তার জন্য প্রয়োজন আরো বিচক্ষণ ও সুপরিকল্পিত প্রস্তাবনা এবং বাস্তবায়নের পদক্ষেপ। আমাদের প্রথমেই খুঁজে বের করতে হবে কোন সমস্যাগুলো নিরসন সবচেয়ে জরুরি এই মুহূর্তে ঢাকা মহানগরকে বাঁচানোর জন্য। তারপর সেগুলো নিয়ে আরো কীভাবে চিন্তাভাবনা করা যায়, কীভাবে বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা যায় সেগুলো নিয়ে ভাবতে হবে। শুধু পরিকল্পনা করলে হবে না। সেগুলোর সঙ্গে আর্থসামাজিক সেতুবন্ধন প্রয়োজন। পরিকল্পনাগুলো জনবান্ধব করা প্রয়োজন। তবেই হয়তো আমরা সুফল পেতে পারি।
ওয়ারিস হাফিজ: জনবান্ধব পরিকল্পনা বলতে আপনি কী বোঝাচ্ছেন?
ফরিদা নিলুফার: দেখুন, আমাদের ঢাকা শহরটির একটি প্রাণবন্ত ইতিহাস আছে। এমনকি নগরায়ণের অতীতে অনেক ক্রমবিকাশ আছে। সেগুলোর সঙ্গে আমাদের শিকড় জড়িত। এই ঢাকা মহানগর কিন্তু এক দিনে এভাবে গড়ে ওঠেনি। কিংবা অন্যভাবে বলতে গেলে একদিনে কিন্তু এখানে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়নি। এত আবাসন কিংবা রাস্তাঘাট যানবাহন আসেনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ এখানে এসেছে এবং আসছে তাদের ভাগ্যের অন্বেষণে। এখানে একদিকে যেমন উচ্চবিত্ত রয়েছে ঠিক তেমনি রয়েছে মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্ত মানুষ। শহরের প্রতিটি ক্ষেত্রে সবার অবস্থান অস্বীকার করা যায় না। কারণ সুপরিকল্পিত নগরায়ণের রূপরেখা এগুলোর সবকিছু ধারণ করে। মানুষের জীবনমান থেকে শুরু করে প্রতিদিনের জীবনের অভিজ্ঞতা সবকিছুই এর সঙ্গে জড়িত। এগুলোকে বিশেষ বিবেচনায় আনতে হবে যেকোনো নকশা প্রণয়নের ক্ষেত্রে যা আমরা অনেক সময়ই ব্যর্থ হই। সামগ্রিক জনসাধারণের চাহিদা প্রাপ্তি কী হতে পারে সেগুলোর বছরমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে। টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে নগরায়ণের প্রায়োগিক দিক বিবেচনা করতে হবে। শুধু দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের পাশাপাশি আমাদের এই মুহূর্তে অনেক স্বল্পমেয়াদি প্রকল্পের প্রয়োজন এবং সহজে কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায় সেগুলো নিয়ে ভাবতে হবে।
আমরা জানি আপনি বাংলাদেশে স্থপতি ইনস্টিটিউট-এর পরিবেশ এবং নগরায়ণ বিষয়ক কমিটি পরিচালনা করছেন এবং ইতিমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। এ সম্পর্কে কিছু বলুন।
ফরিদা নিলুফার: প্রথমে আমি বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট এবং সেই সঙ্গে সব সম্মানিত স্থপতিদের ধন্যবাদ জানাই আমাকে এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করার সুযোগ প্রদানের জন্য। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে তাদের পরিবেশ এবং নগরায়ণ কেন্দ্রিক যে চিন্তাভাবনা সেটি আমাকে উজ্জীবিত করে। উৎসাহিত করে। তখন আশা জাগে ঢাকা মহানগরটিকে আমরা একদিন পরিবেশবান্ধব নগরীতে পরিণত করতে পারব। এই কমিটির মাধ্যমে আমরা ইতিমধ্যে ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়রের কাছে এই শহরটিকে কীভাবে বাসযোগ্য করা যায় সেটি নিয়ে স্বল্পমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার চিন্তা ধারা সম্পর্কে অবগত করেছি। বিশেষ করে কীভাবে সেগুলোকে নিয়ে বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট কাজ করতে পারে ঢাকা সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সেগুলোর প্রাথমিক একটি খসড়া তৈরি করেছি। যেখানে সবুজ নগরায়ণের প্রায় প্রত্যেকটি বিষয় সেক্টর অনুযায়ী প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
এখানে স্বল্পমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বলতে কি বোঝাচ্ছেন?
ফরিদা নিলুফার: আমাদের নগর ব্যবস্থাপনায় কিছু নীতিমালা আছে। শহরকেন্দ্রিক নীতিমালা আছে আবার পৌরসভাগুলোর জন্য আছে। তবে যে বিষয়গুলোকে আরো বেশি প্রাধান্য দিতে হবে যেমন আমাদের সংস্কৃতি, স্থানীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা-স্বাস্থ্য এমনকি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। যেমন বর্তমান করোনা মহামারির সময়ের প্রেক্ষিতে আমাদের জীবনযাত্রার বা জীবনধারণের মানের অনেক ক্ষেত্রেই পরিবর্তন হয়েছে বা হচ্ছে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, সেই পরিবর্তনগুলো যদি আমরা সঠিকভাবে নগরায়ণের মধ্যে নিয়ে আসতে না পারি তাহলে কিন্তু সেই নাগরিক পরিবর্তনগুলো দীর্ঘমেয়াদি হবে না এবং সেটি কিন্তু আরো ভয়াবহ হতে পারে ভবিষ্যতে। তাই আমাদের একদিকে যেমন দীর্ঘমেয়াদি কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নাগরিকদের চাহিদা অনুযায়ী পরিবর্তন পরিবর্ধন হবে, ঠিক তেমনি সমসাময়িক সমস্যাগুলোর কথা চিন্তা করে স্বল্পমেয়াদি পরিবর্তনগুলো চিহ্নিত করতে হবে নগর ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে। আগেই বলেছি নাগরিকদের চাহিদার কথা ভাবতে হবে। কোনটিকে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সেটি খুঁজে বের করতে হবে। সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। তাহলেই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবসম্মতভাবে জনবান্ধব হবে।
সেই পরিকল্পনাগুলো নিয়ে কিছু বলুন।
ফরিদা নিলুফার: প্রথমেই আসি শহরের রাস্তাঘাটগুলো নিয়ে। আমাদের পায়ে হাঁটার রাস্তা নেই বললেই চলে। এটি কিন্তু আমরা স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে এলাকাভিত্তিক কাজ শুরু করতে পারি। পর্যায়ক্রমে এটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত হবে। সবগুলো এলাকায় আস্তে আস্তে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে আমাদের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এমনকি নাগরিকদের সেফটির বিষয়গুলো স্থানীয়ভাবে পরিকল্পনার মধ্যে আনতে হবে। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘসূত্রতা আমাদের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের জন্য অনেক ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সে ক্ষেত্রে তরুণ স্থপতিদের আরো বেশি দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। কারণ আমি দেখেছি, তারা দায়িত্বপ্রাপ্ত হলে অনেক কঠিন সমস্যার সহজ সমাধান খুব স্বল্প সময়ের মধ্যেই বের করতে পারে। ইতিমধ্যে স্থপতি ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের প্রত্যেকটি জায়গায় স্থপতিদের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করার কাজে সহায়তা করে যাচ্ছে সুস্থ নগরায়ণের লক্ষ্যে। ‘সেন্টার অব এক্সেলেন্স ফর আরবান ডেভেলপমেন্ট’গঠন এবং তাতে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে স্থপতি ইনস্টিটিউট স্থানীয় সরকারগুলোকে নগরায়ণ প্রক্রিয়ায় সহায়তা প্রদানে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারগুলোকে আরো এগিয়ে আসতে হবে।
আবার যেমন ধরুন আমাদের এই ঢাকা মহানগরে কিন্তু পুরোনো বা ঐতিহ্যবাহী অনেক স্থাপনা আছে। যেগুলোকে রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে আমরা শহরটিকে তো আরো বেশি ঐতিহ্যমণ্ডিত করতে পারি! আমরা দীর্ঘমেয়াদি ল্যান্ডস্কেপের পরিকল্পনা করতে পারি। পর্যায়ক্রমে স্বল্পমেয়াদি টার্গেট ঠিক করে সেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারি। আমাদের যেমন গভীর ও অগভীর জলাধার রয়েছে যা সাধারণ যে কোনো শহরের ইকোসিস্টেমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি শহরে শুধু মানুষ থাকবে কেন? এখানে প্রাকৃতিক শৃঙ্খলা থাকতে হবে। তবেই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব। ‘ঢাকা শহরের জায়গা নেই, গাছপালা হবে কীভাবে’এমন কথা বললে চলবে না। বরং এভাবে ভাবতে হবে যতটুকু জায়গা আছে সেখান থেকেই আমাদের সবুজায়ন শুরু করতে হবে। সে ক্ষেত্রে ছোট ছোট সবুজায়ন, বসার জায়গা শহরের মাঝখানে কিন্তু করে উঠতে পারে যা সাধারণত উন্নত বিশ্বে আমরা সচরাচর দেখি। এখানে আশার কথা হচ্ছে, ইতিমধ্যে ঢাকা সিটি করপোরেশন এ ধরনের বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছে যাতে তরুণ স্থপতিরা বর্তমানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে।
আমাদের বুড়িগঙ্গার জন্য গর্ব করা উচিত। এ নদীকে সঠিকভাবে ব্যবহার করে আমরা অনেক কিছুই পেতে পারি। বিশেষ করে এই জায়গাগুলোই কিন্তু আমাদের মানসিক বিকাশের পরিপূরক। এই জায়গাগুলোর জন্য বিশেষ পরিকল্পনা দরকার। আমি বলতে চাচ্ছি, এভাবে আমাদেরই ভাগ করতে হবে বছরভিত্তিক কোনগুলো আগে উন্নত করার প্রয়োজন এবং কোনগুলো হয়তো দীর্ঘ মেয়াদের জন্য প্রয়োজন। নইলে একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুফল পেতে পেতে আমাদের সামনে চলে চলে আসবে অন্য সমস্যা। তখন কিন্তু এটি আর কাজে লাগবে না।
আমরা যত দূর জানি ঢাকা শহরের আবর্জনা ব্যবস্থাপনা, নাগরিক সুবিধা, পরিবেশ সংরক্ষণ এই বিষয়গুলো নিয়েও আপনারা কাজ করছেন। এ বিষয়ে বলুন।
ফরিদা নিলুফার: আসলে বিষয়গুলো সামগ্রিক। একটিকে বাদ দিয়ে আরেকটি সুফল পাওয়া সম্ভব নয়। যেমন ধরুন বর্জ্য নিষ্কাশনের রাস্তার ধারের ডাস্টবিন। সেগুলোকে আমরা বর্তমানে অনেক বেশি প্রাধান্য দিচ্ছি। এমনকি সিটি করপোরেশনের সঙ্গে এসব বিষয় নিয়ে স্থপতি ইনস্টিটিউটের অনেক ধরনের পরিকল্পনা এবং পর্যালোচনা হয়েছে। একটি যুগোপযোগী ডাস্টবিন কিন্তু অনেক জটিল একটি জায়গা নকশা প্রণয়নের ক্ষেত্রে। সে ক্ষেত্রে নাগরিক অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর তার সম্পৃক্ততা না থাকলে দেখবেন ডাস্টবিন কিংবা টয়লেট যা-ই বলি না কেন রাস্তার পাশে রয়েছে ঠিকই, কিন্তু কেউ সেটি ব্যবহার করছে না। আর তখনই এগুলো জনবান্ধব কিংবা বাস্তবসম্মত হবে না।
এসবের প্রভাব পড়বে নগরায়ণের ওপর। তাই আমাদের স্বল্পমেয়াদি-দীর্ঘমেয়াদি দুই ধরনের পরিকল্পনা চিন্তা করতে হবে। আর অনেক বেশি জন সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম হাতে নিতে হবে নাগরিক স্বাস্থ্য সম্পর্কিত এবং সেটি হতে হবে খুব সাধারণ এবং সহজেই বাস্তবায়নযোগ্য। আসলে মূল কথা হচ্ছে, নাগরিকরা যতক্ষণ পর্যন্ত অনুধাবন করতে না পারবে শহরটি তার, এখানেই তার আবাস তার আগ পর্যন্ত এই শহরটির জন্য তারা কিছুই করবে না, আর এটিই হয়ে আসছে বছরের পর বছর। অন্যদিকে কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অনুধাবন করতে হবে এবং জনগণকে নিয়ে পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়ন করতে হবে।
করোনা মহামারির অভিজ্ঞতা থেকে নগরায়ণ আর নগর ব্যবস্থাপনায় আপনাদের পরিকল্পনা কি?
ফরিদা নিলুফার: চলমান করোনাভাইরাস শুধু বাংলাদেশের জন্য নয় সমগ্র বিশ্বকে থমকে দিয়েছে। যেটা নিয়ে এখন সব পর্যায়েই গবেষণা চলছে। বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট আইসোলেশন সেন্টারের জন্য একটি নকশা সম্পর্কিত গাইডলাইন প্রস্তুত করে গত এপ্রিল মাসেই। আমি ছিলাম সেটা তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে। সেখানে বিশেষজ্ঞ স্থপতিরা কাজ করেছেন এবং গণস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অভিমত সংযোজিত হয়েছে। জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য সেই ধারণা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহে তাদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য পাঠানো হয়েছে। কারণ আমাদের উপলব্ধি ছিল কীভাবে আমরা এই মহামারিকে নিজেদের পর্যায়ে প্রতিরোধ করতে পারি; হাসপাতালগুলোতে এমনকি বাসা-বাড়িতে। তা ছাড়া অফিসগুলো পুনরায় খুললে কীভাবে আমরা নিরাপদ কর্মক্ষেত্র তৈরি করতে পারি সেগুলো নিয়েও কাজ হয়েছে গত জুন মাসে। সেটি প্রকাশ করেছে স্থপতি ইনস্টিটিউট। যেখানে আমরা একটি অফিস ব্যবস্থাপনার প্রায় সবগুলো বিষয় বিশেষভাবে বিবেচনায় রেখে ছিলাম নিরাপদ কর্মক্ষেত্র তৈরির উদ্দেশ্যে। সেখানেও আমাদের একটি অভিজ্ঞ টিম কাজ করেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশীয় আন্তর্জাতিক সভা-সেমিনারের মাধ্যমে আমরা এগুলো নিয়ে আরো বিশদভাবে আলোচনা-পর্যালোচনা করছি এবং ভবিষ্যৎ কার্যপ্রণালী নিয়ে কাজ করছি এক সঙ্গে।
আপনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের অধ্যাপক, বিভাগীয় প্রধান ও ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দীর্ঘদিন গবেষণায় জড়িত। আপনার ছাত্র-ছাত্রী এবং তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন।
ফরিদা নিলুফার: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি আমার কাছে মনে হয়, সেটি হচ্ছে সম্পৃক্ততা। তরুণ স্থপতিদের অবশ্যই নিজেদের শহর-নগর নিয়ে অনেক বেশি ভাবতে হবে। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে হবে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে উপলব্ধি করতে হবে। গঠনমূলক চিন্তা করতে হবে তার সমাধান নিয়ে। এমনকি নগরকেন্দ্রিক এই গঠনমূলক চিন্তাগুলোকে সাধারণ জনগণের সামনে নিয়ে আসতে হবে তাদের উপলব্ধির জন্য। তাদের উপলব্ধির মধ্যে শহরকে নিয়ে আসতে হবে। এ কথা বলে রাখা ভালো বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটে আমি এবং আমার টিম এসব বিষয় নিয়ে পেশাগত পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছি। তা ছাড়া শিক্ষাগত জ্ঞানকে আরো কীভাবে প্রায়োগিক করে গড়ে তোলা যায় সেগুলো নিয়ে আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো ভাবতে হবে। সব ধরনের আশা নিয়েই কিন্তু এগিয়ে যেতে হবে।
