জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেতা হলেন তারিক আনাম খান। পুরস্কার প্রাপ্তি নিয়ে তিনি কথা বললেন দেশ রূপান্তরের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সুদীপ্ত সাইদ খান
অনুভূতি...
পুরস্কার প্রাপ্তির অনুভূতি অনেক আনন্দের। আমার অবশ্য একটু বেশিই ভালো লাগছে কারণ গতানুগতিকতার বাইরে গিয়ে ‘আবার বসন্ত’ সিনেমায় আমরা কাজ করেছি। এজন্য আমার আনন্দটা আরও দ্বিগুণ হয়ে গেছে। আরেকটা বড় দিক হচ্ছে একা তো কিছু করা যায় না। আমার অনেক ভালো একটা সিনেমার টিম ছিল। পরিচালক অনন্য মামুন এবং নায়িকা স্পর্শিয়াও ভালো কাজ করেছে। সবার দুর্দান্ত কাজের ফলেই ভালো একটা সিনেমা হয়েছে। আর পুরস্কার প্রাপ্তির চেয়েও বড় কথা হচ্ছে আমাদের চলচ্চিত্র এগিয়ে যাচ্ছে। চলচ্চিত্র এগিয়ে যাক, সেটাই প্রত্যাশা করি। এখন যে ক্রান্তিলগ্ন পার করছে, সেই ক্রান্তিকাল কেটে যাক, চলচ্চিত্র অঙ্গন আরও সমৃদ্ধ হোক, নতুন ভাবনায়, নতুন আঙ্গিকে এগিয়ে যাক চলচ্চিত্র শিল্প।
সেরা নায়ক...
বয়স বলে কোনো কথা নেই। যেকোনো বয়সেই যে কেউ পুরস্কার পেতে পারে। অভিনেতার কোনো বয়স নেই। আর আমি পুরস্কার পেয়েছি কেন্দ্রীয় চরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে। এখন ট্রেন্ডটা অনেক চেঞ্জ হয়ে গেছে। নায়কের সেই তথাকথিত রূপটা এখন আর নেই। হলিউড বা আন্তর্জাতিক পুরস্কারগুলোর দিকে তাকালেও দেখবেন বেস্ট লিড ক্যারেক্টার, বেস্ট নেগেটিভ ক্যারেক্টার এমন ক্যাটাগরি। এখন মূল বিষয় হলো, নায়কের চেয়ে বড় কথা হচ্ছে চরিত্রটা কী বলছে, তার ব্যাপ্তি কী, তার গুরুত্ব কতটা সেটা। আমাদের সিনেমায় শেষ বয়সে গিয়ে একজন মানুষের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির গল্পটা বলা হয়েছে। এটার সঙ্গে আমার একটা মিল আছে। বয়স হয়ে গেলেই যে একজন অভিনেতার সবকিছু শেষ হয়ে যায় তা কিন্তু নয়, বয়স হলে একজন অভিনেতা আরও বেশি ঋদ্ধ হন, আরও বেশি মনোযোগী হন ভালো কাজ করার জন্য। সেই দিকটাই বড় দিক বলে আমার মনে হয়।
উৎসর্গ...
আমি এই সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে একটা ঘোষণা দিতে চাই যে, আমার এই প্রাপ্তি আমি আমাদের সদ্যপ্রয়াত গুণীজন আলী যাকেরের উদ্দেশে উৎসর্গ করলাম । উনার প্রতি সম্মান জানাতেই আমার এই নিবেদন।
বোঝাপড়া...
আমরা একটা ভিন্ন জার্নি, ভিন্ন ভাবনা নিয়ে মাঠে নামি। এর আগে আমি মামুনের সঙ্গে ইন্দুবালা নামের একটা ওয়েব সিরিজ করেছিলাম। সে সময়েই মামুনের সঙ্গে আমার বোঝাপড়া তৈরি হয়। সেই সময়েই মামুন ভাবে যে তারিক ভাইয়াকে দিয়ে ভালো কিছু করি না কেন। ও আমাকে ভাইয়া ভাইয়া বলে ডাকে। তো এরপর মামুন আমাকে নিয়ে গল্পটা ভেবে এসে আমাকে জানায়। আমি বললাম ঠিক আছে করো চলি। তারপর ফান্ড-টান্ড জোগাড় করে সিনেমাটা ও করল। অভিনয়ের সময় পুরস্কার পাব কি না এসব চিন্তা মাথায় ছিল না, মুভিটা চললেই আমরা খুশি হব, এমন ভাবনায় ছিল।
শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা...
আমরা সবাই মিলে যখন কাজটা করি, তখন একটা জার্নি ঠিক করে নিয়েছিলাম যে কীভাবে কী করব, আমরা অল্প পরিসরের মধ্যেই কাজ করেছি। সাধারণ সাদামাটাভাবেই কাজ করেছি।
ক্যারিয়ারে সেরা কাজ...
আমি কোনোটাকেই ওইভাবে দেখি না। আমি যখন কাজ করি তখন ভাবি শেষ যে কাজটা করছি সেটা যেন সেরা হয়, মানে আগে যে ভুল করেছি সেগুলো যেন এখানে রিপিট না হয়। এ কাজটা যেন অন্য কাজগুলোর চেয়ে ভালো হয়। এমন ধারণা থেকেই সব কাজ করি। ফলে ওই অর্থে কোন কাজ সেরা সেটা বলতে পারব না।
