ম্যারাডোনা ওয়েসিস প্যাসারেলা পোপ ও শেফিল্ড

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:৫৫ এএম

ডিয়েগো ম্যারাডোনার জীবন অজস্র ঘটনা-দুর্ঘটনার সমাহার। তার মধ্যে কয়েকটা ঘটনা আলাদা করা হয়েছে, কারণ এগুলো ফুটবল ঈশ্বরের ব্যক্তিসত্তাকে ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলেছিল।

ওয়েসিস ব্যান্ডের সঙ্গে

১৯৯৭ সালে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে ছিল ম্যানচেস্টারের ইংলিশ রক ব্যান্ড ওয়েসিস। কারণ সেই বছরই প্রকাশিত হয়েছিল তৃতীয় অ্যালবাম ‘বি হেয়ার নাও’। সে বছরেরই অক্টোবরে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়ে আকর্ষণের কেন্দ্রে ম্যারাডোনা। সেই সময়ে বুয়েনস আয়ার্স সফরে গিয়েছিল ওয়েসিস। ম্যারাডোনার জনপ্রিয়তা সম্পর্কে ওয়েসিসের লিড ভোকাল লিয়াম গ্যালাহার বলেন, ‘আমরা একটা বারে পান করছিলাম। তখনই ৩০ জনের একটা দল হুড়মুড়িয়ে ঢুকে পড়ে। মনে হলো একটা লাল পিঁপড়ের দল ঢুকে পড়েছে। এরা কারা জিজ্ঞাসা করে জানলাম দলবল নিয়ে পাবে এসেছে ম্যারাডোনা। বুয়েনস আয়ার্সে তার জনপ্রিয়তা দেখে আমাদের মাখা ঘুরে যাওয়ার জোগাড়। কষ্ট করে এক ফাঁকে তার সঙ্গে ছবিও তুলেছিলাম। সে আমাদের শাসিয়ে বলেছিল, ‘আমি যাদের সঙ্গে রাত কাটাই সেদিকে নজর দিলে কিন্তু খুন করব।’

ম্যারাডোনার সঙ্গে

প্যাসারেলার ঝামেলা

১৯৮৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কোচ ছিলেন কার্লোস বিলার্দো। তিনিই দু’বারের অধিনায়ক ড্যানিয়েল প্যাসারেলাকে সরিয়ে আর্মব্যান্ড দেন ম্যারাডোনাকে। দলে প্যাসারেলা তখনো খেলেন। ম্যারাডোনার সঙ্গে তার টুকটাক ঝামেলা লেগেই থাকত। তিনিই প্রথম ম্যারাডোনার বিরুদ্ধে ড্রাগ নেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তারপর কী হয়েছিল শুনুন ম্যারাডোনার কণ্ঠে, ‘ড্রাগ নিই অস্বীকার করি না, কিন্তু পরিষ্কার বলেছিলাম, মেক্সিকোতে আসার পর আর নিইনি। এরপর দলবিরোধী কাজের অভিযোগ করলাম প্যাসারেলার বিরুদ্ধে। ফিওরেন্তিনায় ও খেলত তখন। ইতালিতে সবাই জানত যে প্যাসারেলা মাঝেমধ্যেই যায় মোনাকোতে। আসলে এক বিখ্যাত ফুটবলারের স্ত্রীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক ছিল, সেই কারণেই।’ ম্যারাডোনা এসব অভিযোগ করেন টিম মিটিংয়ে। আর সেই মিটিংয়ের পরই প্যাসারেলা ডায়রিয়ার অজুহাতে একটিও ম্যাচ না খেলে মেক্সিকো থেকে দেশে ফিরে গিয়েছিলেন।

পোপকে গোল্ড শিলিং বেচতে বলেছিলেন ম্যারাডোনা

বিশ্বজুড়ে খ্রিস্টদের ধর্মগুরু পোপ জন পলের সঙ্গে ছিয়াশির বিশ্বকাপ জয়ের পর দেখা করতে গিয়েছিলেন ম্যারাডোনা। তখন পোপ তাকে বলেন, ‘ভ্যাটিকান বিশ্বজুড়ে গরিব বাচ্চাদের নিয়ে চিন্তিত এবং তাদের নিয়ে ভাবছে।’ পোপের মুখের ওপর ম্যারাডোনা উত্তরে বলেন, ‘আপনার ভ্যাটিকানের সোনার গোল্ড শিলিংগুলো বেচে দুস্থ বাচ্চাদের উন্নতির জন্য খরচ করুন।’

শেফিল্ড ইউনাইটেডে

খেলা হয়নি

অল্পের জন্য ইংলিশ ক্লাব শেফিল্ড ইউনাইটেডে খেলা হয়নি ম্যারাডোনার। মাত্র ১৭ বছরে সই প্রায় করেই ফেলেছিলেন। কিন্তু আর্জেন্টিনার তৎকালীন সামরিক সরকারের চাপে দেড় লাখ পাউন্ডের বিনিময়ে তাকে বেলাডেতে যেতে হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত