‘বহুরূপী’ অপরাধচক্রের ১০ সদস্য গ্রেপ্তার

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০৪:০৪ এএম

অভিনব কায়দায় প্রতারণা ও অর্থ লুটে জড়িত ‘বহুরূপী’ অপরাধচক্রের হোতাসহ ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে তাদের কাছ থেকে একটি দামি প্রাইভেটকার, ডিবি লেখা জ্যাকেট, ওয়্যারলেস সেট, এক জোড়া হ্যান্ডকাফ ও পুলিশ লেখা একটি স্টিকার উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলো মহসিন শেখ (৩০), আনিছুর রহমান (৫০), সেন্টু মুন্সি (৪০), জুয়েল মিয়া (৩০), শাহিন শেখ (২৫), মহব্বত শেখ (৩২), আবুল কালাম (৫০),  সুলতান মোল্লা (৩৪), হেমায়েত শেখ (৫৫) ও কাইয়ুম শেখ (৪৫)। এদের মধ্যে গতকাল শুক্রবার চক্রের হোতা মহসিন শেখ ও তার অন্যতম চার সহযোগী আনিছুর, সেন্টু ও জুয়েলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের মাধ্যমে এক দিনের রিমান্ডে নিয়েছে ডিবির লালবাগ জোনাল টিম।

ডিবির কর্মকর্তারা জানান, রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশে নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় এই চক্রের সদস্যরা কখনো রিকশাচালক, আবার কখনো ফেরিওয়ালা সেজে ঘুরে বেড়ায়। খুঁজে বেড়ায় সহজ-সরল ও পরোপকারী মানুষজনকে। এমন কাউকে পেলে এই চক্রের সদস্য নিজেকে মূর্খ ও অশিক্ষিত হিসেবে উপস্থাপন করে জানায়, সে রাস্তায় একটি বিদেশি মুদ্রা (রিয়াল) পেয়েছে, কিন্তু কোথায় কীভাবে ভাঙাবে কিছুই জানে না। রিয়েল ভাঙিয়ে দিলে সহজ সরল ব্যক্তিকে কিছু টাকা দেওয়ার প্রস্তাবও দেয়। উপকার হবে ভেবে টার্গেট করা ব্যক্তি রিয়েল ভাঙিয়ে দিলে ছদ্মবেশী রিকশাচালক বা ফেরিওয়ালা উপকারকারীর ফোন নম্বর নিয়ে নেয়। পরবর্তী সময়ে ফোনে তারা যোগাযোগ করে জানায় যে, তার কাছে আরও রিয়েল আছে। সেগুলো সে অর্ধেক দামে বিক্রি করবে। এমন প্রলোভনে লোকটি রাজি হলে টাকা নিয়ে তাদের পছন্দমতো জায়গায় নির্দিষ্ট তারিখ ও সময়ে লোকটিকে আসতে বলে। এদিকে রিকশাচালক বা ফেরিওয়ালা পরিচয়ের ব্যক্তি তাদের চক্রের অপর একটি দলকে ডিবি পুলিশ সাজিয়ে ওই সময়ে নির্ধারিত স্থানে পিস্তল, ওয়্যারলেস সেট ও হ্যান্ডকাফসহ মাইক্রোবাস বা একাধিক প্রাইভেটকারে অপেক্ষা করতে থাকে।

ডিবি কর্মকর্তারা জানান, রিকশাচালক বা ফেরিওয়ালা পরিচয়ধারী ব্যক্তি কাপড়ে মুড়িয়ে রিয়েলের নামে কাগজ বা অন্য কোনো জিনিস নিয়ে এসে কথিত রিয়েল ক্রেতার হাতে তা দিয়ে টাকা নিয়ে বলে যে পুলিশ আসছে তাড়াতাড়ি চলে যান। এ কথা বলে কথিত রিয়েল বিক্রেতা টাকা নিয়ে সটকে পড়ে। আর কথিত রিয়েলের ক্রেতা একটু অগ্রসর হলেই ওঁৎ পেতে থাকা ভুয়া ডিবি দলের সদস্যরা রিয়েল ক্রেতাকে আটক করে তাদের গাড়িতে উঠিয়ে নেয়। তার কাছে অবৈধ রিয়েল আছে এমন অভিযোগ তুলে মামলা বা মিডিয়ায় প্রচার করার ভয় দেখিয়ে কাছে থাকা নগদ টাকা, মোবাইল ফোন বা অন্যান্য মূল্যবান জিনিস ছিনিয়ে নেয়। এ ছাড়া রিয়েল ক্রেতার কাছে এটিএম কার্ড থাকলে বুথ থেকে টাকা তুলে নেয় বা বিকাশে টাকা থাকলে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা ট্রান্সফার করে নেয়। এক সময় রিয়েল ক্রেতাকে সুবিধাজনক স্থানে নামিয়ে দিয়ে অপরাধীরা চলে যায়।

ডিবির লালবাগ জোনাল টিমের সহকারী কমিশনার (এসি) মো. ফজলুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, গ্রেপ্তার চক্রের সদস্যরা বহুরূপী অপরাধ চক্র। এই চক্রের সদস্যরা মূলত দুই ধাপে তাদের অপরাধ কর্মকাণ্ড করে থাকে। প্রথম ধাপে চক্রের সদস্যদের কেউ রিকশাচালক বা ফেরিওয়ালা সেজে ঘোরাঘুরি করে। কোনো সহজ সরল ও পরোপকারী মানুষকে টার্গেট করে তার কাছে মুদ্রা বিক্রির কথা বলে প্রতারণা করে। এরপর একই ভিকটিমকে ভিন্ন পরিচয়ে মানে ভুয়া ডিবি সেজে জিম্মি করে তার সবকিছু কেড়ে নেয়।

এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, এই চক্রের মতো আরও একাধিক চক্র সক্রিয় রয়েছে রাজধানী ও এর আশপাশে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টাও চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত