বঙ্গবন্ধুর অবমাননা সহ্য করা হবে না : তথ্যমন্ত্রী

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:০৮ এএম

কোনোভাবেই কোনো ইস্যুতে বঙ্গবন্ধুর অবমাননা সহ্য করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। গতকাল শনিবার দুপুরে মুজিববর্ষ উপলক্ষে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবকে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল কর্র্তৃক বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও সাংবাদিকতা বিষয়ক বই বিতরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মুজিববর্ষ আমরা যেভাবে পালন করতে চেয়েছিলাম করোনার কারণে সেভাবে পালন করতে পারছি না। মুজিববর্ষের শেষের দিকে এসে একটি অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে আজকে নানা প্রসঙ্গ টেনে সমাজে অস্থিরতা তৈরি করার অপচেষ্টা হচ্ছে, আমাদের এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকরা দেশের মানুষকে পথ দেখায়। আমাদের স্বাধিকার আদায়ের আন্দোলনে যেমন সাংবাদিকদের অনন্য ভূমিকা ছিল, ঠিক একইসঙ্গে স্বাধীনতা সংগ্রামেও অনবদ্য ভূমিকা ছিল। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীনতার জন্য সাংবাদিকদের লেখনী, পত্রিকার সংবাদ মানুষের মনন তৈরি করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। যারা সমাজকে পিছিয়ে দিতে চায়, যারা মধ্যযুগের সমাজব্যবস্থা কায়েম করতে চায়, তাদেরকে যারা পৃষ্ঠপোষকতা করে, তাদের বিরুদ্ধেও আজ কলম নিয়ে সোচ্চার হওয়ার সময় এসেছে। নানা ইস্যু তৈরি করে যারা বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা ও সমাজে হানাহানি তৈরি করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সোচ্চার হতে হবে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু একটি নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত জাতিকে স্বাধীনতার মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত করেছেন। হাজার হাজার বছরের ইতিহাসে বাঙালি জাতিসত্তা সৃষ্টি হওয়ার পর বাঙালি কখনো স্বাধীন ছিল না। বাঙালি সার্বিকভাবে কখনো নিজেদের শাসন করতে পারেনি। বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চলে বিভিন্ন সময়ে কিছু স্বাধীন রাজা ছিল, কিন্তু পুরো বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চল নিয়ে পুরো স্বাধীন রাজ্য কখনো ছিল না। হাজার হাজার বছরের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুই প্রথম বাঙালিকে স্বাধীনতার মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত করে এক সাগর রক্ত পাড়ি দিয়ে বাঙালিদের জন্য স্বাধীন জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। বঙ্গবন্ধু শুধু বাংলাদেশের বাঙালিদের নেতা নন, তিনি পুরো বিশ্বের বাঙালিদের নেতা।’

বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালে প্রেস কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা করেছেন উল্লেখ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে বিচারিক পর্ষদ হিসেবে প্রেস কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। কিন্তু ’৭৪ সালের পর ৪৫ বছরের বেশি কেটে গেছে, আজকে প্রেস কাউন্সিলের যেটুকু ক্ষমতা আছে সেটুকু ক্ষমতা আজকের প্রেক্ষাপটে খুব বেশি কার্যকর নয়। সেজন্য আমরা প্রেস কাউন্সিলের ক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। প্রেস কাউন্সিল আইন সংশোধনের পর্যায়ে রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি আগামী সংসদ অধিবেশনে সেটি উপস্থাপনের জন্য। এ আইন পাস হলে প্রেস কাউন্সিলের ক্ষমতা অনেক বাড়বে।’

প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. মমতাজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রেস কাউন্সিলের সদস্য ও দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক, প্রেস কাউন্সিলের সদস্য ও বিএফইউজের যুগ্ম মহাসচিব এম এ মজিদ, বিএফইউজের সহ-সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সালাউদ্দিন মো. রেজা ও সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত