ডিজিটাল কৃষি তথ্য সেবা নিশ্চিতে বরাদ্দ বাড়াচ্ছে সরকার। ৬৮ কোটি টাকার চলমান প্রকল্পে কাজের আওতা বাড়িয়ে করা হচ্ছে ১০৯ কোটি টাকা। অন্যদিকে পঞ্চবটী থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হবে। এতে ব্যয় হবে ২ হাজার ২২৭ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় (একনেক) মোট ৪ প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।
কাল মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে তিনি সভায় যুক্ত হবেন।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, প্রকল্পটির মূল অনুমোদিত বরাদ্দ ছিল ৬৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা। প্রথম সংশোধনীতে ব্যয় বাড়িয়ে করা হচ্ছে ১০৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা। অর্থাৎ এর খরচ বাড়ছে ৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা। প্রকল্পটির সময় বাড়ছে ২ বছর। প্রকল্পের সংশোধনের কারণ ব্যাখ্যা করে কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, প্রকল্পটির অনুমোদিত ডিপিপিতে এআইএসের ঢাকা আঞ্চলিক অফিস স্থাপনের জন্য তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্মিতব্য ভবনে ৫ হাজার বর্গফুটের একটি ফ্লোর বরাদ্দের সংস্থান ছিল। তুলা উন্নয়ন বোর্ডের ওই ভবনের নির্মাণকাজ এখনো শুরু হয়নি এবং পরবর্তী সময়ে ভবনটি নির্মাণ করা সম্ভব হলেও সেখানে এআইএসকে ফ্লোর স্পেস বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হবে না বলে তুলা উন্নয়ন বোর্ড জানায়। তার নির্মাণাধীন ভবনের ২ তলা সম্প্রসারণ করতে হচ্ছে।
চরখালী-তুষখালী-মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা সড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণ প্রকল্পে সংশোধনী হচ্ছে। সড়কটি বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলা ও পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার সঙ্গে বিভাগীয় শহর বরিশালের নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ স্থাপন হবে। মোট প্রকল্প ব্যয় ১৪৯ কোটি টাকা। প্রকল্পের মূল ব্যয় ছিল ১০৪ কোটি টাকা। ২০২১ সালে এর কাজ শেষ হবে।
পঞ্চবটী থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের আওতায় পঞ্চবটী থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত বিদ্যমান সড়ক দুই লেনে প্রশস্তকরণ ও দুই লেন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের মাধ্যমে মুন্সীগঞ্জ জেলার সঙ্গে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ জেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর ও ব্যয়সাশ্রয়ী করা হবে। নারায়ণগঞ্জ সদর ও মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় ২০২১ সাল থেকে ২০২৫ সালের জুন নাগাদ এটি বাস্তবায়ন হবে। ব্যয় হবে ২ হাজার ২২৭ কোটি টাকা।
প্রকল্পের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন হবে ৪৪.৫০ একর, মাটির কাজ ৭০১১৪০ ঘন মিটার, পেভমেন্ট ও আনুষঙ্গিক কাজ ১০.৭৫ কিলোমিটার, মধ্যবর্তী প্রতিবন্ধক নির্মাণ ১৪.৭৯ কিলোমিটার, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ হবে ৯.০৬ কিলোমিটার। ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের সড়ক উন্নয়ন ও ড্রেনেজ নেটওয়ার্কসহ নাগরিক সেবা উন্নতকরণে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এতে ব্যয় হবে ১ হাজর ৫৭৫ কোটি টাকা। ২০২৪ সাল নাগাদ এর কাজ শেষ হবে। এর মাধ্যমে সিটি করপোরেশন এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যসম্মত নগরী গড়ে তোলা, সড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণের মাধ্যমে যানজট নিরসনসহ উন্নততর যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
