প্রেস ক্লাবে তথ্যমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে আঘাতকারীদের শাস্তি পেতেই হবে

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:০০ এএম

কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের ওপর যারা আঘাত হেনেছে, তাদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া জনগণের দাবি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, যাদের কাছে ভাস্কর্য অগ্রহণযোগ্য, তাদের নিজের বা বাবার ছবিও তাদের রাখার কথা নয়। গতকাল রবিবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৫৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় সমসাময়িক প্রসঙ্গে এ কথা বলেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে প্রায় এক লাখ মসজিদভিত্তিক মক্তব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, প্রতিজন আলেম সেখানে মাসে সাড়ে ৪ হাজার টাকার বেশি সরকারি ভাতা পাচ্ছেন, যা আরও বাড়বে। কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতির দাবি ১০০ বছরে কেউ পূরণ করেনি। জননেত্রী শেখ হাসিনা এই কওমি মাদ্রাসাকে স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং এরপর সেখান থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরিও পেয়েছে। এই উপমহাদেশে ইসলামি আরবি বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি শতবর্ষের পুরনো। কেউ সেই দাবি পূরণ করেনি। জননেত্রী শেখ হাসিনা ইসলামি আরবি বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন।

তিনি আরও বলেন, আজকে ভাস্কর্য আর মূর্তিকে এক বানিয়ে ফেলা হচ্ছে। ভাস্কর্য পৃথিবীর সব দেশেই আছে। এমনকি সৌদি আরবেও শাসকদের অবয়বসহ বহু ভাস্কর্য আছে। ইরানে ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনির ভাস্কর্যসহ বহু ভাস্কর্য আছে, তুরস্কে আছে। যারা পাকিস্তানি ভাবধারায় বিশ্বাস করে, পাকিস্তান ভেঙে গেল বলে যারা বুক চাপড়ায় তাদের অনুসারীদের সেই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ভাস্কর্য আছে, কবি ইকবালের ভাস্কর্য আছে।

অবিভক্ত বাংলার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহওয়ার্দীকে আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে শ্রদ্ধা জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সভাপতি হোসেন শহীদ সোহওয়ার্দীর নেতৃত্বে যখন আওয়ামী লীগ সর্বপাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকার গঠন করে, তখনই ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের সংবিধান রচিত হয়, তার আগে পাকিস্তানের কোনো সংবিধান ছিল না। আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয়  সরকার গঠন করার পরই মাতৃভাষা দিবস হিসেবে একুশে ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা শুরু হয় এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে শহীদ মিনার নির্মিত হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজে হোসেন শহীদ সোহওয়ার্দীকে নেতা হিসেবে মানতেন এবং অগাধ শ্রদ্ধা রাখতেন।

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের উপদেষ্টা লায়ন চিত্ত রঞ্জন দাসের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম, সাংবাদিক শাবান মাহমুদ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা, সাংবাদিক মানিক লাল ঘোষ প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত