চিনিকল বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার দাবি ফখরুলের

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:১৬ এএম

রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল বন্ধের সরকার সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘সরকারের এ সিদ্ধান্ত অমানবিক ও অদূরদর্শী। ঘরে ঘরে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ক্ষমতায় এসে এখন ঘরে ঘরে বেকার সৃষ্টি করছে তারা। চিনিকল বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে চিনিকলগুলো খুলে দিয়ে আখমাড়াই শুরু করার জোর দাবি জানাই।’ গতকাল সোমবার দলটির সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার বিরোধী দল ও মতের মানুষদের নিশ্চিহ্ন করে দীর্ঘকাল ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখার চিন্তায় বিভোর। এ কারণেই জনগণের ভালো-মন্দ দেখার সময় তাদের নেই। সরকার আকস্মিকভাবে ছয়টি চিনিকল বন্ধ ও তিনটি বন্ধের নোটিস দেওয়ায় লাখ লাখ আখচাষি এবং হাজার হাজার শ্রমিক-কর্মচারী চরম বিপাকে পড়েছে। সৃষ্টি হয়েছে হতাশা ও অনিশ্চয়তা।’

তিনি বলেন, ‘এর আগে সরকার ২৫টি পাটকল আকস্মিকভাবে বন্ধ করে দিয়ে হাজার হাজার শ্রমিক-কর্মচারীকে বেকার করে দিয়েছে। এবার দেশি চিনির চাহিদা থাকার পরও সরকার আকস্মিকভাবে চিনিকল বন্ধ করে দেওয়ায় বাজারে চিনির সংকট সৃষ্টি হবে। অথচ এ সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল ঘরে ঘরে চাকরি দেওয়া। ক্ষমতায় গিয়ে উল্টো তারা ঘরে ঘরে বেকার সৃষ্টি করছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই চিনিকলকেন্দ্রিক অঞ্চলগুলোতে সাধারণ মানুষসহ কৃষকের প্রধান শস্য আখ। আখ চাষের এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকা- এ চিনিকলগুলোকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হয়ে থাকে। সরকারের এ ভ্রান্ত সিদ্ধান্তে তৃণমূলের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হবে। আখ চাষের এলাকাগুলোতে বর্তমানে লাখ লাখ একর জমিতে আখ দন্ডায়মান। ঠিক যে মুহূর্তে কৃষকরা আখ কাটবে, সে মুহূর্তে সরকারের এ হটকারী সিদ্ধান্তে কৃষকরা দিশেহারা।’

তিনি আরও বলেন, ‘উৎপাদিত আখ নিয়ে কৃষকরা কী করবে, তা নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় নির্ঘুম রাত পার করছে। যদিও সরকার বলছে, এ আখগুলো পাশর্^বর্তী চিনিকলে ক্রয় করা হবে, কিন্তু সেই চিনিকলগুলো অনেক দূরে হওয়ায় পরিবহনে যে খরচ লাগবে তা আখের মূল্য থেকে অনেক বেশি। এ চিনিকলগুলো সুনামের সঙ্গে যুগ যুগ ধরে চিনি উৎপাদন করে এলেও বর্তমানে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হওয়ার কারণ-চিনিকলগুলোর সব স্তরে বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর একক নিয়ন্ত্রণ, লুটপাট, দুর্নীতি এবং অব্যবস্থাপনা। এসব কারণে অন্যান্য কলকারখানার মতো চিনিকলগুলোরও বেহাল অবস্থা।’

বর্তমান নির্বাচন কমিশন অযোগ্য একটি প্রতিষ্ঠান : এদিকে নীলফামারীতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে নির্বাচন কমিশনকে দলীয় সংস্থা হিসেবে বিবেচনা করে প্রশাসনকে ব্যবহার করে তারা তাদের মতো করে নিয়ে নিতে চায়। এ কারণে নির্বাচন কমিশনের ওপর জনগণের আস্থা চলে গেছে।’

গতকাল দুপুরে ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁও যাওয়ার পথে বিমানযোগে জেলার সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে হাস্যকর ও অযোগ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এ কমিশন কোনো বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন দিতে পারেনি। বরং তারা নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত