সংবাদ সম্মেলনে রুবানা হক

ঋণের মেয়াদ বাড়ানো ও নতুন করে প্রণোদনা প্রয়োজন

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:১৭ এএম

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ধাক্কা মোকাবিলায় আরও প্রণোদনা ও ঋণ সুবিধা চেয়েছে পোশাক কারখানা মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ। সংগঠনটি মনে করছে, লাখ লাখ শ্রমিকের এ শিল্পটি যাতে কোনোভাবেই বিপর্যয়ের সম্মুখীন না হতে হয় সেজন্যই তাদের এ প্রণোদনা প্রয়োজন। গতকাল সোমবার ‘কভিড-পূর্ববর্তী এবং চলমান কভিড পরিস্থিতিতে পোশাক শিল্পের বাস্তবতা’ শিরোনামে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি ড. রুবানা হক এ প্রণোদনা চেয়েছেন।

প্রসঙ্গত, গত মার্চে দেশে করোনা আঘাত হানে। তখন সরকারের পক্ষ থেকে ২ শতাংশ সুদে ৫ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়। পরে তা বৃদ্ধি করে এপ্রিল-জুলাই মাসের শ্রমিকের বেতনে যত টাকা প্রয়োজন তার ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া বড় শিল্পের জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকা এবং ছোট ও মাঝারি শিল্পের জন্য আরও ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ঋণ তহবিল ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রণোদনার অধিকাংশ অর্থই পোশাক খাতে বণ্টন হয়েছে।

প্রণোদনা বলতে ঠিক কী চাচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে রুবানা হক বলেন, আমরা চাই সরকার আমাদের যে ঋণ সুবিধা দেওয়া হয়েছিল সেগুলোর মেয়াদ দুই বছরের স্থলে পাঁচ বছর করুক। গ্রেস পিরিয়ড ছয় মাসের পরিবর্তে এক বছর করুক। এছাড়া করোনার শুরুতে স্বল্প সুদে সরকারের প্রণোদনায় শ্রমিকের বেতন পরিশোধ করা হয়েছিল। সম্ভব হলে সেভাবে নতুন সহায়তা দেওয়া যায় কি না তা সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনার অনুরোধও করছি। এছাড়া আমাদের একটি নীতি সহায়তা খুব প্রয়োজন। আবার অনেক ক্রেতা দেউলিয়া ঘোষণা করায় পেমেন্ট আটকে গেছে। সে ক্ষেত্রে আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তা চাচ্ছি।

করোনার দ্বিতীয় ধাক্কায় ক্রয়াদেশ বাতিল হয়নি। এরপরও কেন প্রণোদনা চাওয়া হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের ক্রয়াদেশ বাতিল হয়নি ঠিকই কিন্তু গত বছরের তুলনায় ৩০ শতাংশ হারে ক্রয়াদেশ কমেছে। পণ্যের দাম কমেছে। প্রত্যেকটি কারখানা সক্ষমতার চেয়ে কম ক্রয়াদেশ নিয়ে পরিচালনা করছে। এজন্য প্রণোদনার প্রয়োজন। আমরা তো এই টাকা নিয়ে চলে যাচ্ছি না। আমরা এটা আবার ফেরত দিয়ে দেব। শুধু টিকে থাকার জন্য এগুলো চাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘এ দুর্যোগপূর্ণ সময়টি মোকাবিলা করতে পারলেই আগামীতে আমাদের পোশাক শিল্পের রয়েছে অপার সম্ভাবনা। আমরা আশা করি, কভিডের দ্বিতীয় ঢেউ আগামী জুনের পর আর দীর্ঘায়িত হবে না। অতএব এটুকু সময়ে আমাদের অর্জনগুলো ধরে রাখতে সবাই মিলে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।’

লিখিত বক্তব্যে রুবানা বলেন, ‘পরিস্থিতিই বলে দিচ্ছে পোশাক শিল্পের আকাশে মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। এর জন্য এখনই প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করা আমাদের একা উদ্যোক্তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। যদিও ইতিপূর্বে ঘটে যাওয়া ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধকল্পে আমরা আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে আমাদের সম্পৃক্ততা ও চাপ অব্যাহত রেখে কাজ করছি, তারপরও শিল্পের সুরক্ষার জন্য এ মুহূর্তে নীতি সহায়তা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে, সরকার প্রদত্ত প্রণোদনা প্যাকেজটির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং প্রয়োজন সাপেক্ষে নতুন সহায়তা প্রদান শিল্পের জন্য অত্যন্ত জরুরি।’

সংবাদ সম্মেলনে তিনি পোশাক শিল্পের বর্তমান ঋণাত্মক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি, ক্রেতাদের মূল্য পরিশোধে দেরি করা, কম মূল্যে ক্রয়াদেশ নেওয়া, কিছু কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। এছাড়া করোনাকালে তার সংগঠন শ্রমিকদের জন্য যেসব পদক্ষেপ নিয়েছিল সেগুলোর বিষয়ে তুলে ধরেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত