বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর

গ্রেপ্তার ৪ জনকে রিমান্ডের আবেদন

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:৩১ এএম

কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভাঙচুরের মামলায় গ্রেপ্তার চারজনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। গতকাল সোমবার কুষ্টিয়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক রেজাউল করিমের আদালতে তাদের হাজির করে এ আবেদন করা হয়। বিচারক আজ মঙ্গলবার শুনানির দিন ধার্য করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুষ্টিয়া মডেল থানার পরিদর্শক নিশিকান্ত দাস বলেন, ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে দুই মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর ১০ দিন এবং একই মাদ্রাসার শিক্ষকদের সাতদিন করে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।

ভাস্কর্য ভাঙচুরের মামলায় গ্রেপ্তাররা হলেন কুষ্টিয়ার জুগিয়ার ইবনে মাসউদ মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র আবু বক্কর ওরফে মিঠুন (১৯) ও সবুজ ইসলাম ওরফে নাহিদ (২০) এবং একই মাদ্রাসার শিক্ষক মো. আলামিন (২৭) ও মো. ইউসুফ আলী (২৭)।

ঢাকায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনে হেফাজতে ইসলামসহ কয়েকটি ধর্মভিত্তিক সংগঠনের বিরোধিতার মধ্যে গত শুক্রবার গভীর রাতে কুষ্টিয়া পৌর শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরদিন সকালে তা সবার নজরে আসে। পরে ঘটনাস্থলে থাকা সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ। সেই ফুটেজে দেখা গেছে, শুক্রবার রাত সোয়া ২টার পর টুপি মাথায় পাজামা-পাঞ্জাবি পরিহিত দুজন পায়ে হেঁটে এসে বাঁশের মই বেয়ে উঠে বঙ্গবন্ধুর নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় গত শনিবার রাতে কুষ্টিয়া পৌরসভার সচিব কামাল উদ্দীন বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেন। এরপর ওইদিন রাতেই অভিযান চালিয়ে ইবনে মাসউদ মাদ্রাসার দুই ছাত্র এবং তাদের সহযোগিতা করার জন্য প্রতিষ্ঠানটির দুই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের বয়ানে উদ্বুদ্ধ হয়ে দুই মাদ্রাসাছাত্র আবু বক্কর ও সবুজ ইসলাম বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর করেছে। ঘটনার রাতে তারা দুজন একসঙ্গে মাদ্রাসা থেকে হেঁটে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে কুষ্টিয়া শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে যান। ভাস্কর্য নির্মাণে ব্যবহৃত বাঁশের মই বেয়ে দুজন ওপরে ওঠেন। এরপর সবুজ পিঠে থাকা ব্যাগ থেকে হাতুড়ি বের করেন। পরে দুজন মিলে ভাস্কর্য ভাঙচুর করেন। আট মিনিট ধরে ভাঙচুরের পর তারা আবার হেঁটে মাদ্রাসায় ফিরে যান। পরদিন সকালে তারা বিষয়টি মাদ্রাসার শিক্ষক আল আমিন ও ইফসুফকে জানান। তারা দুই ছাত্রকে পালিয়ে যেতে পরামর্শ দেন। দুই ছাত্র পরে তাদের নিজ নিজ বাড়িতে চলে যান। পুলিশ অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে।

কুষ্টিয়া পৌরসভা কর্র্তৃপক্ষ শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে বঙ্গবন্ধুর তিনটি ভাস্কর্য নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। একই বেদিতে জাতীয় চার নেতার ভাস্কর্যও থাকবে। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধুর একটি ভাস্কর্য স্থাপনের কাজ প্রায় শেষের দিকে ছিল। শুক্রবার রাতের হামলায় ভাস্কর্যটির ডান হাত, মুখমণ্ডল ও বাঁ হাতের আংশিক ভেঙে ফেলা হয়। ওই ঘটনার পর থেকে দুদিন ধরে কুষ্টিয়া শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ, মিছিল ও মানববন্ধন করছেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা। একইসঙ্গে প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে সারা দেশ।

ঢাকায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনকে কেন্দ্র করে হেফাজতে ইসলামসহ কয়েকটি ধর্মভিত্তিক সংগঠন বিরোধিতা করে আসছিল। এরমধ্যে গত বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে ‘মধুসূদন দে’র ভাস্কর্য ভাঙার পর কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার ঘটনা ঘটে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত