বাঁচা-মরার লড়াই রিয়াল মাদ্রিদের

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:৫১ এএম

রেকর্ড ১৩ বারের চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদের আজ বাঁচা-মরার লড়াই। বরুশিয়া মনশেনগ্লাডবাখের সঙ্গে নিজেদের মাঠে আজ জয় ছাড়া কোনো ফলে স্বস্তি নেই তাদের। ড্র করলেও টুর্নামেন্টের ইতিহাসে প্রথমবার গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হবে স্প্যানিশ জায়ান্টকে।

আসলে আজকের ফিক্সারে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে এই ‘বি’ গ্রুপ। সব দলেরই সুযোগ আছে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার। ৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে গ্লাডবাখ। ৭ পয়েন্ট রিয়াল ও শাখতারের। কিন্তু হেড টু হেডে দুবার রিয়ালকে হারানো ইউক্রেনীয় ক্লাব এগিয়ে দ্বিতীয় স্থানে। তারা খেলবে ইন্তার মিলানের মাঠে, যাদের সংগ্রহ ৫ খেলায় ৫ পয়েন্ট। 

রিয়াল মাদ্রিদ বরাবরই চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপাকে পাখির চোখ করে। কিন্তু এই মৌসুম তাদের সেই লক্ষ্য গ্রুপেই আটকে যাওয়ার জোগাড়। ১৯৮৫-৮৬ মৌসুমের উয়েফা কাপের তৃতীয় রাউন্ডের পর গত ২৮ অক্টোবরই প্রথম মুখোমুখি হয় দু’দল (২-২ গোলে ড্র)। ৩৫ বছর আগের লড়াইয়ে প্রথম লেগে নিজেদের মাঠে রিয়ালকে ৫-১ গোলে হারিয়ে গ্লাডবাখ মনে করেছিল পরবর্তী রাউন্ডে উঠেই গেছে তারা। কিন্তু নিজেদের মাঠে ফিরতি লেগে রিয়াল জিতে যায় ৪-০তে। গ্লাডবাখের মাঠে দেওয়া অ্যাওয়ে গোল হয়ে ওঠে গুরুত্বপূর্ণ। আজ কি ১৯৮৫-৮৬’র ঘটনার পুনরাবৃত্তি করতে পারবে রিয়াল?

জয় ছাড়াও রিয়াল উঠতে পারে শেষ ১৬তে, যদি ইন্তার হারায় শাখতারকে। সেক্ষেত্রে গ্লাডবাখ ৯ পয়েন্ট, আর রিয়াল ৮ পয়েন্ট নিয়ে ইন্তারকে হেড টু হেডের হিসাবে টপকে নকআউট পর্বে উঠবে। তবে রিয়াল যদি ড্র করে, শাখতার হারায় ইন্তারকে, তাহলে বাদ পড়বে রিয়াল-ইন্তার দুই জায়ান্টই। আর এমন বিদায় ফরাসি কিংবদন্তি জিদানের কোচিং পদটাও নাড়িয়ে দিতে পারে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ইতিমধ্যেই জিদানের স্থলে সাবেক টটেনহ্যাম কোচ মরিসিও পচেত্তিনোকে বসিয়ে দিয়েছে। অবশ্য সাবেক অধিনায়ক ইকার ক্যাসিয়াস জিদানের পক্ষেই রায় দিলেন, ‘জিজু অসাধারণ কোচ, আমার ভালো বন্ধু। মাদ্রিদের বাজে দিন না আসার জন্য সে যেকোনো কিছুই করবে। তাছাড়া অতীতে কী হয়েছে তা নিয়ে সে ভাবে। অবশ্যই সে পরের ম্যাচ (আজ) নিয়ে ভালো কিছুর পরিকল্পনা করছে।’ কোচ জিনেদিন জিদানও জয়ের কথাই বলেছেন, ‘আমাদের মাথায় একটাই ভাবনা তিন পয়েন্ট যোগ করে গ্রুপের শীর্ষে থাকা। নিজেদের একটা টিম হিসেবে দেখানোর দারুণ সুযোগ এই ম্যাচ।’

এমন গুরুত্বপূর্ণ দিনে রিয়ালে খুশির খবর সার্জিও রামোসের ফেরা। সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ডিফেন্ডার দানি কারভাহালও ফিরছেন। রামোসকে ছাড়া চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলা ১০ ম্যাচের ৮টিতেই হেরেছে রিয়াল।

ইন্তার তাকিয়ে আছে রোমেলু লুকাকুর দিকে। পরের রাউন্ডে পা রাখার জন্য তাদের গোল মেশিনই এখন একমাত্র ভরসা। আগের রাউন্ডে গ্লাডবাখের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন বেলজিয়ান স্ট্রাইকার। লুকাকু কি পারবেন ২০১১-১২ সাল থেকে চলে আসা ইন্তারের আক্ষেপ মেটাতে? ওই মৌসুমের পর থেকে কোনোবারই চ্যাম্পিয়নস লিগ গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি ইতালিয়ান ক্লাবটি। এবার প্রি-কোয়ার্টারে পা রাখতে হলে ইন্তারকে আজ জিতলেই চলবে না, মাদ্রিদে রিয়াল-মনশেনগ্লাডবাখ ম্যাচ যেন ড্রতে না শেষ হয় সেই প্রর্থনাও করতে হবে।

লুকাকু নিজে আত্মবিশ্বাসী দলকে পরের রাউন্ডে তোলার ব্যাপারে। গত ১৩ ম্যাচে ১২ গোল করা স্ট্রাইকার বলেন, ‘ক্যারিয়ারে এত ভালো আমি কখনই খেলিনি। আশা করি এ ধারাবাহিকতায় দলের চাহিদা মেটাতে পারব।’ গত মৌসুমে ইন্তারের হয়ে প্রথম খেলতে এসেই ৩৪ গোল করেছিলেন। ১৯৯৭-৯৮-এ ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনাল্ডোও এ ক্লাবের হয়ে অভিষেক মৌসুমে একই পারফরম করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত