দারিদ্র্যের অন্যতম কারণ সুযোগের সীমাবদ্ধতা

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:৩০ এএম

উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান পল্লীকর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান ও অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেছেন, ‘মানুষের দারিদ্র্যের অন্যতম কারণ উপার্জন সুযোগের সীমাবদ্ধতা। এই বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে দরিদ্র এবং অতিদরিদ্র মানুষের দারিদ্র্য দূরীকরণে জীবিকায়নের সুযোগগুলো সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে পিকেএসএফ।’ গতকাল বুধবার পিকেএসএফ আয়োজিত এক ওয়েবিনারে এসব মন্তব্য করেন তিনি।

ওয়েবিনারে অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, ‘দারিদ্র্য ও দারিদ্র্যের কারণগুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রসপারিটি প্রকল্পের বহুমাত্রিক কার্যক্রমগুলো পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে কভিড-১৯ মহামারী পরিস্থিতিতে সৃষ্ট খাদ্যসংকট ও উপার্জনের সীমাবদ্ধতার পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে মোট ৩১ কোটি টাকা জরুরি অর্থ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।’

পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ বলেন, ‘বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের আশা প্রসপারিটি প্রকল্পটি জাতিসংঘ প্রণীত টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট এবং বাংলাদেশ সরকার গৃহীত ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। প্রকল্পটি প্রথম বছরে ৩০ হাজারের বেশি অতিদরিদ্র খানাকে চিহ্নিতকরণের মাধ্যমে জলবায়ু-সহিষ্ণু জীবিকায়ন ও পুষ্টিসেবার আওতায় নিয়ে এসেছে। বর্তমানে কাক্সিক্ষত ১০ লাখ মানুষের দোরগোড়ায় প্রকল্পের সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।’

ওয়েবিনারে অংশ নিয়ে এফসিডিও প্রতিনিধি জুডিথ হার্বাটসন ও ইইউ প্রতিনিধি মারিজিও চ্যান দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার প্রশংসা করেছেন। বাংলাদেশের দারিদ্র্য হ্রাসের এ প্রচেষ্টায় অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারা।

যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (সাবেক ডিএফআইডি) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের যৌথ অর্থায়নে পিকেএসএফ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘পাথওয়েজ টু প্রসপারিটি ফর এক্সট্রিমলি পুওর পিপল (পিপিইপিপি)’ প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে এ ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত হয়।

‘প্রসপারিটি’ নামে পরিচিত ছয় বছরমেয়াদি প্রকল্পটি ২০২৫ সালের মধ্যে আড়াই লাখ অতিদরিদ্র ১০ লাখ মানুষের দারিদ্র্য দূরীকরণে কাজ করবে। ২০১৯ সালে এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া প্রকল্পটি বাংলাদেশের দারিদ্র্যপীড়িত ১৫টি জেলার ৪৩টি উপজেলাভুক্ত প্রায় ২০০টি ইউনিয়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত