গত চার বছরেও চট্টগ্রাম দক্ষিণাঞ্চলের চার লাখ গ্রাহককে প্রি-পেইড মিটার সুবিধা দিতে পারেনি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুতের অপচয়, অনিয়ম ও হয়রানি রোধে নগরীর ১০ লাখ গ্রাহকের মধ্যে ৬ লাখকে প্রি-পেইড মিটারের আওতায় আনা হয়েছে। নতুন প্রকল্পের অনুমোদন পেলেই বাকি গ্রাহকরাও এ সুবিধা পাবেন।
নগরীর শুলকবহর এলাকার মকবুল হোসেন নামে এক গ্রাহক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এলাকার বেশ কয়েকটি বিল্ডিংয়ে দুই বছর আগে প্রি-পেইড মিটার বসানো হয়েছে। ওরা বিদ্যুৎ অফিসে টাকা-পয়সা দিয়ে তদবির করে এসব মিটার বসিয়েছে। কিন্তু আমরা তদবির করিনি বলে আমাদের বিল্ডিংয়ে এখনো প্রি-পেইড পাইনি। তাই তো এখনো অতিরিক্ত বিলের ঝামেলা পোহাতে হয় আমাদের বিল্ডিংয়ের ভাড়াটেদের।’
পিডিবির কর্মকর্তারা জানান, ২০০৪ সালে দেশে বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পিডিবির অধীনে ‘প্রি-পেমেন্ট মিটারিং প্রজেক্ট ফর ডিস্ট্রিবিউশন সাউদার্ন জোন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ২০১৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে চট্টগ্রামে প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের কাজ শুরু হয়। এর অধীনে পিডিবির চারটি বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগে (নগরের আগ্রাবাদ, স্টেডিয়াম, পাহাড়তলী ও খুলশী) মিটার বসানোর কাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো এ প্রকল্পের অধীনে ১ লাখ ৩৯ হাজার গ্রাহককে প্রি-পেইড মিটারের আওতায় আনা হয়। পরে নগরীর পাথরঘাটা, কালুরঘাট, ষোলশহর, বাকলিয়া, মাদারবাড়ী, হালিশহর, নিউমুরিং, রামপুর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগে এ কার্যক্রম শুরু হয়। তবে এসব বিভাগের অধীন বেশির ভাগ এলাকায় এখনো প্রি-পেইড মিটার বসানো সম্ভব হয়নি।
চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার আলী হোসেন নামে এক গ্রাহক বলেন, মিটার না পেয়ে ৪ লাখ গ্রাহক বিপাকে ‘আগে প্রি-পেইড মিটারে রিচার্জ করতে একটু সমস্যা পোহাতে হতো। এখন তা অনেকটা কমছে। তবে এটা ঠিক, প্রি-পেইড মিটার বসিয়ে ভুতুড়ে বিলের যন্ত্রণা থেকে বাঁচছি। এখন যতক্ষণ কার্ডে টাকা থাকবে, ততক্ষণ বিদ্যুৎ জ্বলবে।’
এ প্রসঙ্গে পিডিবি চট্টগ্রাম দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী শামসুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিদ্যুৎ অপচয়, অনিয়ম ও হয়রানি রোধে পিডিবি কর্র্তৃপক্ষ ‘প্রি-পেমেন্ট মিটারিং প্রজেক্ট ফর ডিস্ট্রিবিউশন সাউদার্ন জোন’ শীর্ষক এ প্রকল্প হাতে নেয়। ইতিমধ্যে গত চার বছরে চট্টগ্রাম দক্ষিণাঞ্চলের ছয় লাখ গ্রাহককে প্রি-পেইড মিটার সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। বাকি চার লাখ গ্রাহককে এ সুবিধা দিতে নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন পেলে বাকিরাও প্রি-পেইড মিটার পাবেন। চট্টগ্রামের সব গ্রাহককে এই প্রকল্পের আওতায় আনা গেলে প্রচুর বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে।
