বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর ও উসকানির অভিযোগ

খালেদা তারেক ফখরুলের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:২০ এএম

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর ও ভাস্কর্যবিরোধী প্রচারণায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে একটি মামলার আবেদন হয়েছে। গতকাল বুধবার জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে দণ্ডবিধির ৫০০/৫০৬/৪২৭/১০৯ ধারায় আবেদনটি করেন। সেখানে মানহানি ও হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে।

ঢাকার মহানগর হাকিম সত্যব্রত সিকদার বাদীর জবানবন্দি শুনে এ বিষয়ে আদেশের জন্য আজ বৃহস্পতিবার দিন রেখেছেন।

এদিকে ভাস্কর্য নিয়ে মামলাকে আওয়ামী লীগের পরিকল্পিত প্রজেক্ট বলে উল্লেখ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল ঠাকুরগাঁও শহরে নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের  জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

এবি সিদ্দিকীর করা মামলার আর্জিতে হেফাজত ইসলামের আমির জুনাইদ আহমেদ বাবুনগরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মুহাম্মদ মামুনুল হক এবং ইসলামী আন্দোলনের নেতা সৈয়দ ফয়জুল করিমকেও আসামি করা হয়েছে।

গত ১৩ নভেম্বর রাজধানীর তোপখানা রোডের বিএমএ ভবন মিলনায়তনে হেফাজত ইসলামের আলোচনা সভায় সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মামুনুল হক ‘বাংলাদেশে কোনো ধরনের ভাস্কর্য থাকবে না এবং জাতির পিতার ভাস্কর্য করতে দেওয়া হবে না’ এমন হুমকি দেন বলে আরজিতে অভিযোগ করা হয়।

মামলার আবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে বাদী এবি সিদ্দিকী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আগামীকাল (আজ বৃহস্পতিবার) আদেশের জন্য রেখেছেন।’

তিনি আরও জানান, মামলার আর্জিতে ভাস্কর্য নিয়ে হেফাজত নেতাদের বক্তব্য উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, স্বাধীনতাবিরোধীরা জাতির পিতা, দেশের মানচিত্র, জাতীয় পতাকা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি করে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে হেয়প্রতিপন্ন করছে। আর তাদের মদদ দিয়েছে বিএনপির শীর্ষ নেতারা। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নস্যাৎ করতে এবং জাতির পিতার চিহ্ন মুছে ফেলার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে স্বাধীনতাবিরোধী, জঙ্গিবাদী গোষ্ঠী গত ৪ ডিসেম্বর রাতে কুষ্টিয়ায় জাতির পিতার ভাস্কর্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর করেছে। তাই ন্যায়বিচারের স্বার্থে আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানানো হয়।

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যসহ অন্যান্য ভাস্কর্য নিয়ে কটূক্তি ও উসকানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট আইনে ঢাকার একটি আদালতে গত সোমবার জুনায়েদ বাবুনগরী, মামুনুল হক ও ফয়জুল করিমের বিরুদ্ধে আলাদা দুটি মামলা করা হয়। আদালত মামলার বাদী বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল মালেক ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের আর্জি আমলে নিয়ে এ বিষয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেয়।

ভাস্কর্য নিয়ে মামলা আওয়ামী লীগের পরিকল্পিত প্রজেক্ট : ভাস্কর্য নিয়ে মামলা আওয়ামী লীগের ‘পরিকল্পিত প্রজেক্ট’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলের নেতাদের মামলার মধ্যে রাখা এবং তাদের নিশ্চিহ্ন করতেই এটি আওয়ামী লীগের পরিকল্পিত প্রজেক্ট। আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের ১৫টি মামলা দেওয়া হয়েছে।’ গতকাল ঠাকুরগাঁও শহরে নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জননেত্রী পরিষদের এক নেতার দায়িত্ব হলো আমাদের নামে মামলা দেওয়া। তারা জনগণের সম্মুখীন হতে পারে না। গণতন্ত্রকে তারা ভয় পায়। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে ভয় পায়। তারা বিরোধীদলীয় নেতা-নেত্রীর বিরুদ্ধে মামলা-মোকদ্দমা দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চায়। ক্ষমতায় টিকে থাকতে আওয়ামী লীগ সেই গ্রাম্য মোড়লের মতো আবির্ভূত হয়েছে। তাদের কাজই হচ্ছে জনগণকে অস্থির করে রাখা।’

তিনি আরও বলেন, ‘গণতন্ত্রকে যখন দাবিয়ে রাখা হয়, তখন উগ্রবাদের উত্থান ঘটে। সেটাই আওয়ামী লীগ করছে। আওয়ামী লীগের কারণে অপশক্তি আজ দেশে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। আমরা এ বিষয়ে সরকারকে সচেতন করছি। আওয়ামী লীগকে সতর্ক করছি এবং আন্তর্জাতিকভাবে সতর্ক করছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত