জন্মহার বাড়াতে আর্টফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহারে জাপান

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২০, ১১:০৫ এএম

জন্মহারের হ্রাস ঠেকাতে আর্টফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি ব্যবহার করবে জাপান সরকার। এর পেছনে ঢালা হবে বিপুল অর্থ।

বিবিসি জানায়, লোকজন যাতে তাদের পছন্দের জীবনসঙ্গী খুঁজে বের করতে পারে, সেজন্যে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগানো হবে।

স্থানীয় সরকারগুলোকে এরকম প্রকল্প চালাতে সামনের বছর থেকে আর্থিক সহায়তা দেবে কেন্দ্রীয় সরকার।

গত বছর জাপানে জন্ম নিয়েছিল মাত্র ৮ লাখ ৬৫৪ হাজার শিশু। এটি নিম্ন জন্মহারের ক্ষেত্রে এক নতুন রেকর্ড।

বিশ্বে যেসব দেশে জন্মহার সবচেয়ে কম, জাপান তার একটি। সেখানে জন্মহার কমছে বহু বছর ধরে, ফলে এখন জাপান মূলত প্রবীণদের দেশে পরিণত হয়েছে।

অনেক বছর ধরে এই ধারা পাল্টানোর জন্য চেষ্টা করছে সরকার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ সেরকম একটি পদক্ষেপ।

সামনের বছর জাপানের কেন্দ্রীয় সরকার এজন্যে স্থানীয় সরকারগুলোর জন্য দুই বিলিয়ন ইয়েন বা ১ কোটি ৯০ লাখ ডলার বরাদ্দ করেছে।

জাপানে অনেক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ম্যাচ-মেকিং বা ঘটকালি সেবা দিয়ে থাকে। কোনো কোনো এলাকার কর্তৃপক্ষ এজন্যে এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করছে।

যারা জীবনসঙ্গী খুঁজছেন, তাদের যে ফর্মটি পূরণ করতে হয়, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স দিয়ে সেটি বিশ্লেষণ করে এই কাজ অনেক ভালোভাবে করা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বর্তমানে চালু থাকা ব্যবস্থায় ঘটকালি দক্ষতা খুব সীমিত। সম্ভাব্য পাত্র-পাত্রী খোঁজার সময় এখানে কেবল বয়স বা আয়ের সীমাকে বিবেচনায় নেয়া হয়। একেবারে যেরকম সঙ্গী কেউ খুঁজছেন, কেবল সেরকম কেউ থাকলেই তাকে সার্চ রেজাল্টে খুঁজে পাওয়া যায়।

জাপানি গণমাধ্যম জানায়, সরকারের এই তহবিল যোগানো হবে আরও উন্নত প্রযুক্তি তৈরির জন্য। যেখানে পাত্র-পাত্রী খোঁজার ক্ষেত্রে কারও সখ এবং মূল্যবোধের মতো বিষয়গুলোকেও বিবেচনায় নেয়া যাবে।

সরকারের একজন মন্ত্রী ফরাসী বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘যেসব স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘটকালির সেবা চালু করেছে বা করতে যাচ্ছে, আমরা বিশেষ করে তাদেরকেই সাহায্য দেয়ার পরিকল্পনা করছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি এরকম সহায়তার মাধ্যমে আমরা জাপানের জন্মহার কমার বর্তমান ধারাটি উল্টে দিতে পারবো।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত