যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বুধবার ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে মারা গেছে ৩ হাজার ২৬০ জন। গত মঙ্গলবারও দেশটিতে এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড হয়। ওই দিন মৃত্যু হয়েছিল ২ হাজার ৯৮১ জনের। এর আগে গত সপ্তাহেও করোনা আক্রান্ত ২ হাজার ৮৮৫ জনের মৃত্যু হয়, যা ছিল ওই সময় পর্যন্ত এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। করোনার প্রথম দফা ঢেউ আঘাত হানার পর এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ছিল ২ হাজার ৭৫২ জন। গত ১৫ এপ্রিল এই সংখ্যা রেকর্ড করা হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারসের পরিসংখ্যান অনুসারে গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে করোনাভাইরাস মহামারী শুরু হওয়ার পর থেকে কোনো দেশে এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা এটি। সংস্থাটির হিসাবে দেশটিতে গতকাল পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে শনাক্ত হয়েছে ১ কোটি ৫৮ লাখ ২৪ হাজারের বেশি। এর মধ্যে মারা গেছে অন্তত ২ লাখ ৯৬ হাজার ৭৭৭ জন। দেশটিতে অবশ্য আক্রান্তদের মধ্যে ৯২ লাখের বেশি আরোগ্য লাভ করেছে। তবে এখনো ৬২ লাখ ৯৪ হাজারের বেশি করোনা আক্রান্ত রোগী রয়েছে। আর তাদের মধ্যে এক লাখ ছয় হাজারেরও বেশি রোগী যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি আছে। এটিও সর্বোচ্চ সংখ্যা। কোনো দেশে করোনা আক্রান্ত হয়ে একসময়ে এত বেশি মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়নি।
দেশটির অনেকগুলো রাজ্যের হাসপাতালগুলো রোগী প্রায় উপচে পড়েছে। লোকজন অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ বন্ধ ও বড় ধরনের জনসমাবেশ না এড়ালে আসছে সপ্তাহগুলোতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা।
করোনাভাইরাস সংকট সামাল দিতে না পারায় দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছেন, অপরদিকে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যানুযায়ী, গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৬ কোটি ৯৪ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৫ লাখ ৭৯ হাজার ১১৯ জনের। এই সময়ের মধ্যে অবশ্য আরোগ্য লাভ করেছে ৪ কোটি ৮১ লাখ ২৪ হাজারের বেশি মানুষ।
দেশ হিসেবে করোনায় আক্রান্তের দিক থেকে প্রথম অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মোট মৃতের দিক থেকেও প্রথমে রয়েছে দেশটি।
আক্রান্তের হিসাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৯৭ লাখ ৭৯ হাজার ৬০৬। এর মধ্যে ১ লাখ ৪১ হাজার ৮০০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ব্রাজিলে আক্রান্তের সংখ্যা ৬৭ লাখ ৩০ হাজার ৫১২। এর মধ্যে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
আক্রান্ত অনুপাতে মেক্সিকোতে মারা গেছে অনেক। সেখানে ১২ লাখের মতো রোগী শনাক্ত হয়েছে। অথচ মারা গেছে অন্তত ১ লাখ ১১ হাজার মানুষ।
আক্রান্ত হিসাবে তালিকায় রাশিয়ার অবস্থান চতুর্থ। ফ্রান্স পঞ্চম। যুক্তরাজ্য ষষ্ঠ। ইতালি সপ্তম। স্পেন অষ্টম। আর্জেন্টিনা নবম। কলম্বিয়া দশম। উৎপত্তিস্থল চীনে আক্রান্তের সংখ্যা ৮৬ হাজার ৬১৯। এর মধ্যে ৪ হাজার ৬৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
