ভাস্কর্য ইস্যুতে সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে আসতে চায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। আলেমরা এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ধর্মভিত্তিক এই সংগঠনটির নেতারা। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে এসব কথা বলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হেফাজতে ইসলামের নেতা এবং বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার (বেফাক) মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, ‘সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি এবং চেষ্টা করে যাচ্ছি। সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মধ্যে দিয়েই এই সমস্যার সমাধান যেন সুন্দরভাবে সমাপ্ত হয়।’
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশের পর সাংবাদিকরা জানতে চান কবে নাগাদ এই বৈঠক হবে। জবাবে মাহফুজুল বলেন, ‘সময় এখনো ঠিক হয়নি, যোগাযোগ চলছে। আমরা আশাবাদী যে দ্রুত সময়ের মধ্যে বৈঠকের ব্যবস্থা হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির মাওলানা নূরুল ইসলাম। তিনি ভাস্কর্য বিষয়ে হেফাজতে ইসলামের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক এবং ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির সৈয়দ ফয়জুল করীমের নামে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে হওয়া মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
কুষ্টিয়ায় জাতির জনকের ভাস্কর্য ভাঙার সঙ্গে জড়িতদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে শাস্তি চান বলেও জানান নূরুল ইসলাম। তবে কুষ্টিয়ার ঘটনায় ইতিমধ্যে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার দুই মাদ্রাসাছাত্রের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘কুষ্টিয়ার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত আমরা চাই। তবে সিসিটিভি ফুটেজ দেখা যায় চিকন দুজন মানুষ উঠেছে, কিন্তু ধরে আনল মোটা মোটা দাঁড়িওয়ালা দুজন। সুতরাং তদন্ত কীভাবে...? সিসিটিভি ফুটেজের দুজনকে উঠতে দেখা গেল, নামতে তো দেখা গেল না।!’
অন্যদের মধ্যে হেফাজতের উপদেষ্টা আবুল কালাম, আব্দুল হামিদ, আব্দুল আউয়াল, আহমদ আবদুল কাদের, অ্যাডভোকেট আব্দুর রাকিব, যুগ্ম মহাসচিব জুনায়েদ আল হাবীব, মামুনুল হক, সহকারী মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী, সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক আতাউল্লাহ আমিন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
গত ১৩ নভেম্বর ঢাকার গেণ্ডারিয়ার ধূপখোলার মাঠে ‘তৌহিদী জনতা ঐক্যপরিষদের’ ব্যানারে এক সমাবেশ থেকে মুজিববর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা করা হয়। একই দিনে রাজধানীর বিএমএ অডিটরিয়ামে বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে শানে রিসালাত কনফারেন্সে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মামুনুল হক প্রকাশ্যে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা করেন। এরপর গত ২৭ নভেম্বর চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে এক মাহফিলে অংশ নিয়ে হেফাজতে ইসলামের আমির জুনাইদ বাবুনগরী হুমকি দেন যে, কোনো দল ভাস্কর্য বসালে তা টেনেহিঁচড়ে ফেলে দেওয়া হবে। তাদের এ ধরনের বক্তব্যের প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যেই গত ৪ ডিসেম্বর গভীর রাতে কুষ্টিয়ায় জাতির জনকের নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ দেখে কুষ্টিয়া শহরের জুগিয়া পশ্চিমপাড়া ইবনে মাসউদ মাদ্রাসার দুই ছাত্র এবং তাদের উসকে দেওয়ার অভিযোগে ওই মাদ্রাসার দুই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ভাস্কর্য বিরোধিতা এবং ভাঙচুরের ঘটনায় জুনাইদ বাবুনগরী ও মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে ঢাকার আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ‘ভাঙচুরকারী ও ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা করে উসকানিদাতাদের’ বিরুদ্ধে সংবিধান এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ এসেছে হাইকোর্ট থেকেও।
