বয়সভিত্তিক পর্যায় থেকেই এক সঙ্গে খেলছেন। সতীর্থ নাজমুল হোসেন শান্তর মধ্যে তখনই ভালো অধিনায়কের গুন খোঁজে পেয়েছিলেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। আর বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে তো শান্তর নেতৃত্বে রীতিমতো মুগ্ধ এই অলরাউন্ডার। শান্তকে তাই জাতীয় দলের ভবিষ্যত অধিনায়কও মনে করছেন সাইফউদ্দিন।
বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে শান্তর নেতৃত্বেই মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহীর হয়ে খেলছেন সাইফউদ্দিন। যদিও তাদের দল খুব একটা ভালো জায়গায় নেই। পাঁচ দলের আসরে শেষ চারে খেলতে হলে শনিবার গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের বিপক্ষে জিততেই হবে তাদের। আবার ফরচুন বরিশালের ম্যাচের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে।
এ অবস্থায় দলীয় লক্ষ্য, এখন পর্যন্ত নিজের ও দলগত পারফরম্যান্স, শান্তর নেতৃত্বসহ বিভিন্ন বিষয়ে সংবাদামাধ্যমে কথা বললেন সাইফউদ্দিন।
প্রশ্ন: একটা ম্যাচ আছে, জিততেই হবে। আবার বরিশালের শেষ ম্যাচের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। এমন অবস্থায় দলের ভাবনা কি?
সাইফউদ্দিন: প্রত্যেক ম্যাচের আগে পরিকল্পনা থাকে ভালো ক্রিকেট খেলার, ম্যাচ জেতার। দুর্ভাগ্য যে আমরা শেষের চার-পাঁচটা ম্যাচ ভালো ক্রিকেট খেলে ক্লোজলি গিয়ে হেরেছি। এজন্য…। এটা ক্রিকেটে হয় আসলে। যেহেতু আমাদের সুযোগ আছে, লক্ষ্য থাকবে কালকের ম্যাচটা জেতার।
প্রশ্ন: ইনজুরি থেকে ফেরার পর ম্যাচ খেলার সঙ্গে কতটা খাপ খাওয়াতে পেরেছেন?
সাইফউদ্দিন: যেহেতু প্রেসিডেন্ট কাপে ভালো খেলেছিলাম, ভালো একটা আশা ছিল যে এ টুর্নামেন্টে ভালো কিছু করব। যাই হোক, বলে কয়ে তো আর ইনজুরি আসে না। তারপরও একটা ইনজুরি থেকে উঠে এসে আবার ভালো ক্রিকেট খেলা, আগের শেপে আসা কিছুটা তো সময় লাগে। তারপরও চেষ্টা করছি নিজের শত ভাগ দেয়ার। হয়তো অনেক সময় হবে, অনেক সময় হবে না। চেষ্টা রয়েছে আমার।
প্রশ্ন: আপনি শুরু থেকে খেলতে পারেননি। এই দলটায় বড় কোনো তারকা ছিল না। তারপরও খুব এক্সাইটিং খেলেছে, ক্লোজ কিছু ম্যাচ হেরেছে। রেজাল্ট ওইভাবে না হলেও দলের প্রতি যে প্রত্যাশা ছিল সেটি ফুলফিল হয়েছে বলে মনে করেন?
সাইফউদ্দিন: আমি তো প্রথম থেকেই ম্যাচগুলো দেখেছি টিভিতে এবং মাঠে। যারা ইয়াং আছে বা সিনিয়র-জুনিয়র, হয়তো বড় তারকা নেই, তবে আলটিমেটলি সবাই ভালো ক্রিকেট খেলছে। ছোট ছোট সিলি কিছু মিসটেকের কারণে হয়তোবা ম্যাচ থেকে বের হয়ে যাচ্ছি। বিশেষ করে ১৮ বা ২০তম ওভারে। আমিও একটা ম্যাচে ভালো বল করতে পারিনি। শেষের ওভারগুলোতে যদি ছোটখাট ভুল না করি আমাদের পক্ষে জয় আসা সম্ভব।
প্রশ্ন: টেবিল টপার চট্টগ্রামের সঙ্গে আপনাদের ম্যাচ। প্রথম দেখায় আপনারা তাদের বিপক্ষে হেরেছেন মাত্র ১ রানে। এটা কি মানসিকভাবে সহায়তা করবে কিনা, যে শক্তিশালী দলটিকে আপনারা হারাতেও পারবেন?
সাইফউদ্দিন: চট্টগ্রাম নিঃসন্দেহে খুব ভালো খেলছে। ওরা ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং তিন ডিপার্টমেন্টেই দুর্দান্ত করছে। আমরা যদি শেষ ম্যাচটা দেখি ২০০ প্লাস রান করে হেরেছি। ব্যাটসম্যানদের বাড়তি একটা আত্মবিশ্বাস আছে। বোলাররা খারাপ করছে, ইনশা আল্লাহ তারাও ভালো করবে। খারাপের পর ভালো আসে, এটার জন্য আমি নিজেও অপেক্ষা করছি। ভালো কিছু হবে আশা করি।
প্রশ্ন: শান্তকে মাঠে খুব ইনভলভ দেখা যাচ্ছে। তার ক্যাপ্টেনসি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
সাইফউদ্দিন: কোনো সংশয় নেই, শান্ত শুধু ফাইটার ক্রিকেটার না, ফাইটার ক্যাপ্টেনও। কারণ সে মাঠে ফিল্ড সেট আপ, ক্যাপ্টেনসি, দলকে যেভাবে বুস্ট আপ করে সত্যি প্রশংসনীয়। আমি তো ছোটবেলা থেকে সেই অনূর্ধ্ব-১৫, ২০১০ সাল থেকে দেখে আসছি। ও (শান্ত) এবং মিরাজকে এক সাথে। তখন হয়তো মিরাজ বেশি ক্যাপ্টেনসি করত। তারপরও মিরাজ ইনজুরড থাকলে বা অসুস্থতার কারণে ম্যাচ মিস করলে বেশিরভাগ সময় শান্তই ক্যাপ্টেনসি করত। তো আসলে মিরাজ-শান্ত দুজনের নেতৃত্বই আমরা ছোটবেলা থেকে উপভোগ করতাম। আর আমরা জানি ভবিষ্যতে, মাশা আল্লাহ যেভাবে ব্যাটিং করছে, যদি ধারাবাহিক থাকে ৪-৫ বছর পর নেতৃত্ব হয়তো ওই পাবে।
যদি দেখেন এইচপি, এ টিম, হাই পারফরম্যান্স সব জায়গায় নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। ওর ভেতরে সেই গুণাবলি আছে বিধায় দায়িত্ব পাচ্ছে। এবং ড্রাফটের পর যখন আমাকে জিজ্ঞেস করা হয় সারোয়ার ইমরান স্যার বা টিমের বাকিরা, আমি বলেছি কোনো সংশয় নেই । ওর ক্যাপ্টেনসি বা ওর অ্যাটিচ্যুড সব কিছু আমার ভালো লাগে। তো টিম ম্যানেজমেন্ট ওর প্রতি আস্থা রেখেছে। এখনো ও কিন্তু অসাধারণ ক্যাপ্টেনসি করছে হয়তোবা টিম হিসেবে রেজাল্ট ওইভাবে পাচ্ছি না। তবে ওর ক্যাপ্টেনসি মাঠের ভেতরে বাইরে বুস্ট আপ অসাধারণ।
প্রশ্ন: ক্যাপ্টেন সেঞ্চুরি করল, ওই ম্যাচটা আপনারা হেরে গেলেন। শান্ত ম্যাচটা কীভাবে নিয়েছে বা শেষে কি বলেছে আপনাদের?
সাইফউদ্দিন: ও নরমাল ছিল। আমি আর মেহেদি রাজশাহী টিমের মেইন বোলার। তো আমরা যখন ৮ ওভারে ৮০ রান দেই, আসলে স্বাভাবিক একটা অসাধারণ ইনিংস খেলা ক্রিকেটারকে জয় উপহার দিতে পারিনি। এই জিনিসটা ওর কেমন খারাপ লেগেছে জানি না কিন্তু আমার নিজের কাছে খুব খারাপ লাগছিল। যদি আরেকটু ইকোনমিক্যাল হতে পারতাম, পাওয়ার প্লে-তে একটা দুইটা উইকেট বের করে দিতে পারতাম। ও যেই ইনিংসটা খেলেছে জয় প্রাপ্য ছিল। ইমন (পারভেজ হোসেন ইমন) অসাধারণ ব্যাটিং করেছে। তারপরও অনেক খারাপ লাগছিল, সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা ছিল না। যদি সুযোগ আসে চেষ্টা করব এই ভুলগুলো যেন আর না করি।
প্রশ্ন: খালেদ মাহমুদ সুজন বলছিলেন, এই টুর্নামেন্টে পেসাররা যেভাবে ভালো করছে তাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে (ওয়ানডতে) পেস বান্ধব উইকেট ভালো হবে। পেসার হিসেবে আপনার কি চাওয়া?
সাইফউদ্দিন: আমি ইংল্যান্ড বা উপমহাদেশে বোলিং করে এসেছি। ভালো চ্যানেলে বল করলে, গুড লেংথে বল করলে অর্থাৎ হিটিং এরিয়াতে বল না দিলে সব উইকেটেই আপনি বেনিফিট পাবেন। পেস বান্ধব উইকেটে যদি আপনি কাট খেলান, ড্রাইভ খেলান তাহলে পেস উইকেটেও আপনি সফল হতে পারবে না। তো আমরা ওই জিনিসটা নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত না। অ্যাকুরেসি, লাইন মেইনটেইন, কন্ট্রোল বোলিংয়ের চিন্তাভাবনা থাকে। ওইটা যদি করতে পারি যে কোনো উইকেটে সাফল্য পাওয়া সম্ভব। এভাবেই কাজ করি এবং চিন্তা করি।
