মরক্কোর পর কে?

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:৩৫ এএম

ইসরায়েলের সঙ্গে আরব বিশ্বের সম্পর্ক ভালো হতে শুরু করেছে। যদিও এই ভালোয় ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক উত্তরণের পথ আরও সংকীর্ণ হয়ে আসছে। কিন্তু তাতে কিছু যায়-আসে না যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তিধর দেশের। উল্টো দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের সঙ্গে আরব দেশগুলোর সম্পর্কোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের লোভনীয় প্রস্তাব ফিরিয়ে দিতে পারল না মরক্কো। আরব বিশে^র চতুর্থ দেশ হিসেবে এবার ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করল তারা। গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের কাছ থেকে টেলিফোনে প্রস্তাব পাওয়ার পরপরই তাতে রাজি হয়ে যান মরক্কোর বাদশাহ ষষ্ঠ মোহাম্মদ।

চুক্তি অনুসারে, পশ্চিম সাহারার ওপর মরক্কোর আধিপত্যের স্বীকৃতি দেবে যুক্তরাষ্ট্র। ওই অঞ্চলে স্বাধীনতাকামীদের সঙ্গে কয়েক দশক ধরে বিরোধ চলছে মরক্কোর। মরোক্কান প্রভাব থেকে বেরিয়ে সেখানে আলাদা রাষ্ট্র গড়ার চেষ্টা করছে আলজেরিয়া সমর্থিত পলিসিও ফ্রন্ট। ফিলিস্তিনিরা এই চুক্তিরও তীব্র বিরোধিতা করেছে। তারা বলছে, আরব দেশগুলো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গড়ার বহুদিনের দাবি পূরণ হওয়ার আগে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি না দেওয়ার অবস্থান থেকে সরে গেছে।

তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ম্যাডি ওয়েইজম্যান এএফপিকে বলেন, ‘আমেরিকার বিভক্ত হতে যাওয়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে মরক্কোকে দেওয়া উপহার এটা। এই উপহার মরক্কোর জাতীয় পরিচং ও পররাষ্ট্রনীতিকে প্রভাবিত করবে।’ চুক্তি অনুসারে ইসরায়েলের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করবে মরক্কো। দুই দেশের মধ্যে চালু হবে সরাসরি বিমান চলাচলও। ইসরায়েল-মরক্কো চুক্তির বিষয়ে হোয়াইট হাউজের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার বলেছেন, দূতাবাস খোলার উদ্দেশ্য নিয়ে  তারা তাৎক্ষণিকভাবে রাবাত ও তেল আবিবে লিয়াজোঁ অফিস আবারও চালু করতে যাচ্ছেন। তারা ইসরায়েলি ও মরোক্কান প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতাও বাড়াবেন।

প্যালেস্টাইন লিবারেশন অরগানাইজেশনের নির্বাহী কমিটির সদস্য বাসাম আস-সালহি মরক্কো-ইসরায়েল সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ চুক্তির প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ২০০২ সালের আরব শান্তি উদ্যোগ থেকে যেকোনো আরব দেশের পশ্চাদপসরণ গ্রহণযোগ্য নয়। এতে ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার অস্বীকার করা হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে ইসরায়েলের বিরোধ আরও বেড়ে যাবে।

তবে মরক্কো এক রাজকীয় ফরমানে জানিয়েছে, মরক্কান বাদশাহ মোহাম্মদ বৃহস্পতিবার ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে ফোন করে বলেছেন, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দ্বন্দ্বের সমাধান হিসেবে দ্বি-রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষেই রয়েছে রাবাত। বাদশার মতে, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে চলমান বিরোধের চূড়ান্ত এবং দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের একমাত্র পথ হচ্ছে পারস্পরিক সমঝোতা হওয়া।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত