বৃষ্টি ঝরিয়ে কমবে কুয়াশা, বাড়বে শীত

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:৩৮ এএম

কুয়াশায় আচ্ছন্ন পুরো দেশ। অধিকাংশ স্থানেই নেই সূর্যের দেখা। কিছু স্থানে সামান্য সময়ের জন্য দেখা মিললেও থাকছে না রোদের তেজ। দিনের তাপমাত্রা কমে গিয়ে রাতের তাপমাত্রার কাছাকাছি চলে এসেছে। ঘন কুয়াশায় দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ¦ালিয়ে চলছে যানবাহন। রাস্তাঘাটে লোকসমাগম কমেছে। গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনের সঙ্গে এমন বিরূপ আবহাওয়ায় মানুষ আরও ঘরবন্দি হয়েছে। রাজধানীতেও দিনভর ছিল কুয়াশার দাপট। সামান্য সময়ের জন্য সূর্যের দেখা মিললেও রোদে তেজ ছিল না। দিনের তাপমাত্রা আগের দিনের চেয়ে প্রায় ৩ ডিগ্রি কমেছে। ছুটির দিনে রাস্তায় জনসমাগম কম থাকলেও শীতবস্ত্র কিনতে বিপণিবিতানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় ছিল। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, এ অবস্থা শুধু বাংলাদেশেই নয়, দিল্লি থেকে শুরু করে বিহার, উত্তর প্রদেশসহ ভারতের বড় অংশজুড়েই আরব সাগর থেকে আসা এ কুয়াশায় আচ্ছন্ন। এমন অবস্থা থাকতে পারে আজও। আজ ও কাল হালকা বৃষ্টির মাধ্যমে বিদায় নিতে পারে এ কুয়াশা। এরপর বাড়বে শীত। শিগগির শুরু হতে পারে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ।

অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ রুহুল কুদ্দুস গতকাল রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ভূমধ্যসাগর ও আরব সাগর থেকে আসা কুয়াশায় ঢেকে আছে বাংলাদেশ ও ভারতের বড় অংশ। শনিবারও (আজ) কুয়াশা অব্যাহত থাকতে পারে। হালকা বৃষ্টি ঝরিয়ে দুদিনের মধ্যে এই কুয়াশা বিদায় নেবে।

তিনি জানান, আজ রংপুরে সামান্য বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আগামীকাল ময়মনসিংহ ও রাজশাহীসহ আরও কিছু স্থানে বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টির পর কুয়াশা অনেকটাই কমবে এবং তখন তাপমাত্রা অনেক কমে গিয়ে শীত বাড়বে। মধ্য ডিসেম্বর থেকে কিছু স্থানে মৃদু শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে।

অধিদপ্তর জানিয়েছে, কুয়াশার কারণে এবং সূর্যের দেখা না মেলায় সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা অনেকটাই কমেছে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় কাছাকাছি চলে এসেছে। অধিকাংশ স্থানের দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২০-২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। তবে রাতের তাপমাত্রা কমেনি বরং কিছু স্থানে বেড়েছে। গতকাল দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল কক্সবাজারে ২৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল সীতাকু-ে ১৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন রাজধানীতে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে চট্টগ্রামে গত পাঁচ দিন ধরে কুয়াশার দাপট চলছে। চট্টগ্রাম ব্যুরো জানিয়েছে, গতকাল ছুটির দিন এবং কুয়াশার সঙ্গে শীতের আবেশ থাকায় সকাল থেকে পথচারী ছিল হাতেগোনা। কুয়াশার কারণে ব্যক্তিগত গাড়ি ও গণপরিবহন চলাচল করেছে ধীরগতিতে। দুপুরের পর সূর্যের দেখা মিললেও বিকেল হতেই আবার জেঁকে বসে কুয়াশা। এদিন চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চট্টগ্রামের পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ ড. শহীদুল ইসলাম জানিয়েছেন, আজও শীতের প্রকোপ থাকবে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া আগামী দুই-তিন দিন কুয়াশা স্থায়ী হতে পারে।

আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে অধিদপ্তর জানিয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। তবে রংপুর বিভাগের দুই-এক জায়গায় হালকা বা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে। রাত থেকে দুপুর পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা থাকতে পারে এবং তা কোথাও কোথাও বিকেল পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত