সমীকরণটা এমন ছিল- গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামকে হারাতে পারলে চতুর্থ দল হিসেবে প্লে-অফের টিকিট মিলবে। কিন্তু লিগ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী সেই সমীকরণ মেলাতে পারেনি। ফলে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে সেরা চারে থাকার পথে ঝুলে রইল দলটি।
শনিবার দিনের প্রথম ম্যাচে চট্টগ্রামের কাছে ৩৬ রানে হেরেছে রাজশাহী। সবার আগে শেষ চার নিশ্চিত করা চট্টগ্রাম টেবিলের শীর্ষ স্থানও নিশ্চিত করে রেখেছিল আগেই।
লিগ পর্বে ৮ ম্যাচের ৭টিতেই জিতে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে তারা। রাজশাহী ৮ ম্যাচে ২ জয়ে ৪পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে পঞ্চম। বরিশাল ৪ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ।
দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে বেক্সিমকো ঢাকাকে হারাতে পারলে ফরচুন বরিশাল চতুর্থ দল হিসেবে প্লে-অফ নিশ্চিত করবে, বিদায় নেবে রাজশাহী। আর বরিশালও হেরে গেলে পয়েন্ট সমান হওয়ায় রান রেটের হিসেব আসবে। এদিন বড় ব্যবধানে হেরে রাজশাহী পিছিয়ে গেছে রানরেটেও। এখন বরিশালের বড় হারই কেবল তাদের প্লে-অফে খেলার দুয়ার খুলতে পারে।
লিটন দাস, সৌম্য সরকারের ব্যাটিং নৈপুণ্যের পর নাহিদুল ইসলামের বোলিং নৈপুণ্যে জিতেছে চট্টগ্রাম। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে চট্টগ্রাম স্কোর বোর্ডে ৪ উইকেটে ১৭৫ রানের পুঁজি গড়ে।
সৌম্য ও লিটন উদ্বোধনী জুটিতেই যোগ করেন ১২২ রান। সৌম্য ৪৮ বলে সর্বোচ্চ ৬৩ রান করেন। ৩ চারের সঙ্গে ৪ ছক্কা হাঁকান এই বাঁহাতি। লিটন খেলেছেন ৪৩ বলে ৫৫ রানের ইনিংস। ৫টি চারের সঙ্গে ১টি ছক্কা হাঁকান তিনি। এ ছাড়া শামসুর রহমান শুভ অপরাজিত ৩০ রান করেছেন। রাজশাহীর পক্ষে আনিসুল ইসলাম ইমন সর্বাধিক ২ উইকেট নিয়েছেন।
১৭৬ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কোনো ভালো জুটি গড়তে পারেনি রাজশাহী। ৩৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে দলটি। টপ অর্ডারের তিন ব্যাটারকেই ফেরান নাহিদুল।
পঞ্চম উইকেটে নুরুল হাসান সোহান ও মেহেদি হাসানের ব্যাটিং কিছুটা হলেও স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছিল রাজশাহীর। তবে মেহেদিকে ফিরিয়ে শরিফুল সেই জুটি ভাঙেন। অবশ্য কৃতিত্ব বেশি পাবেন নাহিদুল। বাউন্ডারি লাইনে দুর্দান্ত এই ক্যাচ নেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ১৩৯ রানের বেশি করতে পারেনি রাজশাহী। সোহান সর্বোচ্চ ২৮ ও মেহেদি ২৬ রান করেন। চট্টগ্রামের পক্ষে সর্বাধিক ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন নাহিদুল। জোড়া উইকেট নিয়েছেন জিয়াউর রহমান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম
১৭৫/৪ (২০ ওভার) (লিটন ৫৫, সৌম্য ৬৩, শামসুর ৩০; আনিসুল ২/২১)
মিনিস্টর গ্রুপ রাজশাহী
১৩৯/৮ (২০ ওভার, লক্ষ্য ১৭৬) (সোহান ২৮, মেহেদি ২৬; নাহিদুল ৩/১৯, জিয়াউর ২/১৭)
ফল: চট্টগ্রাম ৩৬ রানে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: নাহিদুল ইসলাম (চট্টগ্রাম)।
