শারমিন আক্তার। বয়স আট বছর। ছোট এই শিশুটির জীবন যেন বাঁধা পড়েছে লোহার তৈরি শিকলে। এক বছর ধরে শারমিনকে শিকলে বেঁধে রাখা হচ্ছে। কারণ সে মানসিক ভারসাম্যহীন। গত বুধবার সকালে শিকলবন্দি শিশু শারমিনের সঙ্গে দেখা হয় বাউফল পৌর শহরের হাসপাতাল রোডে। সঙ্গে তার বাবা আলম মোল্লা ও মা হালিমা বেগম। তারা ভিক্ষা করেন। তাদের বাড়ি উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামে। চিকিৎসকরা বলছেন, উপযুক্ত চিকিৎসা পেলে শিশুটি সুস্থ হয়ে যাবে।
শারমিনের বাবা আলম মোল্লা বলেন, ‘প্রায় দেড় বছর ধরে শারমিন অসুস্থ। প্রায়ই সে কাউকে না বলে ঘর থেকে রাস্তায় বেরিয়ে যায়। আবার তাকে খুঁজে বাড়িতে নিয়ে আসি। দূরে কোথাও হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে এক বছর ধরে তাকে শিকল দিয়ে আটকে রাখতেছি। ভিক্ষা করতে বের হলেও তাকে সঙ্গে করে নিয়ে বের হই। ডাক্তার বলছে, ওকে সঠিকভাবে চিকিৎসা দিলে সে মানসিক ভারসাম্য ফিরে পেতে পারে; কিন্তু আমাদের পক্ষে ওর সুচিকিৎসা করানো অসম্ভব। কারণ আমরা ভিক্ষা করে খাই।’
শারমিনের মা হালিমা বেগম বলেন, ‘এক বছর হয় আমার মাইয়াডার মাথা খারাপ অইছে। মন যেইহানে চায়, সেইহানে চইল্লা যায়। তাই শিকল দিয়া বাইন্দা রাখতেছি। অর বাবা আর আমি ভিক্ষা করে সংসার চালাই। তাই আমরা যেহানে যাই, হেইহানে ওরে লইয়া যাই।’
শারমিনের বিষয়ে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক এ এস এম সায়েম বলেন, ‘শারমিন মানসিক ভারসাম্যহীন। উপযুক্ত চিকিৎসা পেলে সে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যাবে।’
