নাসিরনগরে হত্যা মামলায় নিরীহদের হয়রানির অভিযোগ

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:০৪ এএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে সৈয়দ তনন হত্যা মামলায় জড়িত নয় দাবি করে কয়েকজন ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাদের স্বজনরা। তাদের দাবি, ঘটনাস্থলে না থাকলেও তাদের মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। তবে মামলার বাদী ও পুলিশ বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছে, যারা সশরীরে উপস্থিত ছিল বলে সাক্ষী পাওয়া গেছে তাদেরই আসামি করা হয়েছে।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ৯ নভেম্বর নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের আলিয়ারা গ্রামে একটি যৌথ মালিনাধানী পুকুর নিয়ে অংশীদারদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই সময় সৈয়দ তনন নামে একজন নিহত হন। ১১ নভেম্বর নিহতের ভাই সৈয়দ তাকবির আহমেদ বাদী হয়ে সৈয়দ ওসমানসহ ১৭ জনকে এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাত আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করে নাসিরনগর থানায় হত্যা মামলা করেন।

আসামি সৈয়দ তারেকের স্ত্রী সায়মা আক্তার বলেন, এ মামলায় ঘটনাস্থলে ছিলেন না এবং অন্য জেলায় বাড়ি এমন ব্যক্তিদেরও আসামি করে হয়রানি করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারের ভয়ে কোনো পুরুষ মানুষ গ্রামে থাকেন না। সব বাড়ি এখন পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে।

মামলার আসামি সৈয়দ ফুয়াদের ভাই আবুল হোসেন জানান, যৌথ মালিকাধীন পুকুরে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে চলতি বছরের ১৬ মার্চ আলিয়ারা গ্রামের সৈয়দ সুমন গংদের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন একই গ্রামের সৈয়দ ওসমান গনি। পরে পুলিশ এসে পুকুর থেকে ড্রেজার মেশিন তুলে দেয়। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান অফিসে বিষয়টির মীমাংসা এবং সৈয়দ সুমন ও তার সহযোগীদের ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। কিন্তু সুমন এ রায় না মেনে ওসমান গনিকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকেন। এর জেরে ৮ নভেম্বর ওসমান গনিকে মারধর করেন সুমনের চাচা সৈয়দ মাসুদ। এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে ৯ নভেম্বর উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনায় নিরীহদের মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করছে।

আবুল হোসেন আরও জানান, ঘটনার সময় তার ভাই ঢাকায় অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। তার গ্রামের বাড়িও হবিগঞ্জে। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে অনাকাক্সিক্ষতভাবে তার ভাই ফুয়াদকে আসামি করা হয়েছে। অথচ সে এর সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত ছিল না।

নিরীহ লোকজনকে মামলায় জড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার বাদী সৈয়দ তকবির বলেন, ‘ঘটনায় যারা জড়িত এবং যারা সশরীরে উপস্থিত ছিল তাদেরই আমরা আসামি করেছি। বাইরের কাউকে আসামি করে হয়রানি করার অভিযোগ সঠিক নয়।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাসিরনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কবির হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সৈয়দ তনন হত্যা মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তারা সবাই একই এলাকার এবং তারা এ ঘটনায় জড়িত বলে সাক্ষী-প্রমাণ মিলছে। আর একজন আসামির বাড়ি হবিগঞ্জে। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে সাক্ষী পাওয়া যাচ্ছে। মামলায় নিরীহ কাউকে হয়রানি করা হচ্ছে না। মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে মামলাটির তদন্ত করছে।’

হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক আহমেদ বলেন, যৌথ পুকুর নিয়ে মামলা ও ৮০ হাজার টাকা জরিমানা হয়েছিল সেই বিষয়ে আমি অবগত। তাছাড়া মামলায় নিরীহদের হয়রানির বিষয়টি আমি জেনেছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত