রাজধানীর শ্যামপুরে সান স্টিল নামে একটি রিরোলিং মিলের কর্মচারী দেলোয়ার হোসেন (১৯) আগুনে পুড়ে মারা গেছেন। গতকাল সোমবার ভোররাতে ওয়াসা রোডের একটি টিনশেড বাড়িতে আগুনে পুড়ে মারা যান দেলোয়ার।
দেলোয়ারের স্বজনরা জানান, স্বল্প আয়ের কর্মচারী হওয়ায় বড় ভাই ও চার সহকর্মীর সঙ্গে শ্যামপুর ওয়াসা রোডের একটি টিনশেড বাড়িতে ভাড়া থাকতেন দেলোয়ার। প্রতিদিনের মতো রবিবার ডিউটি শেষ করে বাসায় ফিরে ঘুমিয়ে পড়েন। কিন্তু ঘুম থেকে আর ওঠা হয়নি তার। অগ্নিকা-ে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে তাদের টিনশেড বাসাটি। সেই সঙ্গে নিভে গেছে তার জীবনপ্রদীপ। ডিউটিতে থাকায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছেন তার ভাই ও সহকর্মীরা। এ ঘটনায় পুড়ে ছাই হয়ে গেছে সেখানকার কমপক্ষে ২১টি ঘর।
ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্তব্যরত কর্মকর্তারা জানান, রবিবার দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে শ্যামপুর ওয়াসা রোডে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর দেলোয়ারের লাশ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের ডিউটি অফিসার লিমা খানম বলেন, সেমিপাকা দোতলা বাড়িটির ওপরতলায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগে। খবর পেয়ে আমাদের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ভোর পৌনে ৫টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে দোতলার একটি রুম থেকে এক তরুণের মৃতদহ উদ্ধার করা হয়। তার নাম দেলোয়ার বলে জানা যায়। কদমতলী থানা পুলিশের কাছে মৃতদেহটি হস্তান্তর করা হয়েছে। আগুনে ২১টি ঘর পুড়ে গেছে। কদমতলী থানার উপপরিদশর্ক (এসআই) মো. বাহাউদ্দিন বাবলা জানান, আগুনে রুমের ভেতরেই পুড়ে মারা যান দেলোয়ার। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।
