এরদোয়ানের কবিতায় নাখোশ ইরান

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:০৫ এএম

আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে এক সামরিক প্যারেডে গত বৃহস্পতিবার অংশ নেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। নাগোরনো-কারাবাখ যুদ্ধে আর্মেনিয়ার বিরুদ্ধে আজারবাইজানের বিজয় উদযাপনের অংশ হিসেবে ওই প্যারেডে অংশ নেন এরদোয়ান। সেখানেই তার আবৃত্তি করা এক কবিতা নিয়ে ইরান ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে আলজাজিরা।

আরাস নদী কীভাবে আজেরি ভাষার মানুষদের আজারবাইজান ও ইরানকে পৃথক করেছে তা নিয়ে এরদোয়ানের কবিতায় দুঃখপ্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৮৮০ সালের দিকে প্যান-টার্কিজম আন্দোলনের প্রসঙ্গও কবিতায় রয়েছে। ওই আন্দোলনে তুর্কিদের একত্র করার মতবাদ প্রচার করা হয়েছিল। কবিতায় এরদোয়ান বলেন, ‘তারা আরাস নদী বিভক্ত করেছে আর তা পূর্ণ করেছে পাথর ও রড দ্বারা। আমি তোমাদের কাছ থেকে আলাদা হব না। তারা আমাদের জোর করে আলাদা করেছে।’

এই কবিতা নিয়ে ইরানিদের ক্ষিপ্ত হওয়ার কারণ আরও ভালোভাবে বুঝতে ২০০ বছর আগের রাশিয়া-পার্সিয়ান যুদ্ধের প্রসঙ্গ আনতে হবে। ওই যুদ্ধ সমাপ্ত হয় একটি চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে যা ‘ট্রিটি অব টার্কিমেনচি’ নামে পরিচিত। এই চুক্তির ফলে দক্ষিণ ককেশাসের বিশাল অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ পায় রাশিয়া এবং আরাস নদীকে ইরান ও তুরস্কের সীমানা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। এই অঞ্চলগুলো বর্তমানে আজারবাইজান, আর্মেনিয়া ও তুরস্কের অংশে পড়েছে। চুক্তিটি ইরানিদের কাছে একটি লজ্জাজনক বিষয় হিসেবে ধরা হয়।

ইরানে প্রায় কয়েক লাখ আজেরি ও হাজার হাজার আর্মেনীয় বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। ইরানে বসবাসরত লাখ লাখ আজেরি বংশোদ্ভূত নাগরিকের সঙ্গে এখনো সীমান্তের ওপারের আজেরিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। এরদোয়ানের কবিতার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ এক টুইট বার্তায় লিখেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট কি উপলব্ধি করতে পারেননি যে তিনি আজারবাইজানের সার্বভৌমত্বকে ছোট করেছেন? আমাদের ভালোবাসার আজারবাইজানকে নিয়ে কেউ কথা বলতে পারবে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত