ইলেকটোরাল কলেজ ভোটে বাইডেনের জয় নিশ্চিত

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:৫৮ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ইলেকটোরাল কলেজ ভোটেও জয় পেয়েছেন জো বাইডেন। গত সোমবারের এ জয়ের পর তিনি বলেছেন, ‘জনগণের ইচ্ছার জয় হয়েছে।’ নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২৩২ ইলেকটোরাল কলেজ ভোটের বিপরীতে ৩০৬ ভোটে জয় নিশ্চিত করেছেন বাইডেন।

ইলেকটোরাল কলেজ হচ্ছে কর্মকর্তাদের একটি প্যানেল, যাদের ইলেকটরস বলা হয়। এরা এককথায় নির্বাচকমন্ডলী। প্রতি চার বছর পরপর এটি গঠন করা হয়। এরাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট বাছাই করেন। সাধারণত ইলেকটররা খুব বেশি আলোচনায় আসেন না। কিন্তু এবার নির্বাচনের ফল নিয়ে ট্রাম্প ক্রমাগত প্রশ্ন তোলা ও আইনি পদক্ষেপসহ নানাভাবে ফল পাল্টানোর চেষ্টা করেছেন মামলা করার মাধ্যমে। ফলে প্রতি রাজ্যের ভোটের দিকেই নজর ছিল সবার।

সোমবার মূলত ক্যালিফোর্নিয়ার ৫৫ জন ইলেকটরের মাধ্যমেই বাইডেনের ২৭০ ভোট নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। মিশিগান ও জর্জিয়াসহ কয়েকটি রাজ্যে কড়া নিরাপত্তায় ভোটগ্রহণ আয়োজন করা হয়েছিল। মিশিগানে সহিংসতার আশঙ্কায় আইনসভার অফিসগুলো বন্ধ ছিল।

ভোটের ফল ওয়াশিংটন ডিসিতে পাঠানো হবে এবং কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে আগামী ৬ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক গণনা হবে। ওই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। এটিই আগামী ২০ জানুয়ারি বাইডেনের শপথ নেওয়ার পথ তৈরি করবে।

গত মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, ইলেকটোরাল কলেজ ভোটে বাইডেন জয়ী হলে জানুয়ারিতে তিনি অফিস ছেড়ে যাবেন। যদিও নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তিনি ক্রমাগতভাবে করেই যাচ্ছেন, কিন্তু তার কোনো প্রমাণ তিনি দিতে পারেননি।

ইলেকটোরাল কলেজ ভোটের আগে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, সবকিছু শেষ হয়ে যায়নি। সম্ভবত একজন অবৈধ প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছেন বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে নির্বাচনের প্রায় দেড় মাস পর বিজয়ী জো বাইডেনকে অভিনন্দন জানালেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও বাইডেনের শাসনামলে সেসব সমাধানে আশা প্রকাশ করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট। বিবৃতিতে ক্রেমলিন বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টের প্রতিটি ক্ষেত্রে সাফল্য প্রত্যাশা করেন ভøাদিমির পুতিন। তিনি আত্মবিশ্বাসী যে, বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য বিশেষ দায়িত্ব বহনকারী দুই দেশ রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও তারা বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সত্যিই অবদান রাখতে পারবে।

বিবৃতিতে পুতিন বলেছেন, ‘সমতা এবং পারস্পরিক সম্মানসূচক নীতির ওপর ভিত্তি করে রুশ-যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা উভয় দেশের পাশাপাশি গোটা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরই স্বার্থ পূরণ করবে। আমার দিক থেকে সহযোগিতা ও যোগাযোগের জন্য আমি প্রস্তুত।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত