হাতিয়ায় বরযাত্রীবাহী ট্রলারডুবি

কনে ও ৩ শিশুসহ নিহত ৭

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০২০, ০১:০০ এএম

নোয়াখালীর হাতিয়ায় মেঘনা নদীতে বরযাত্রীবাহী ট্রলার ডুবে কনেসহ কমপক্ষে সাতজন প্রাণ হারিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরের দিকে হাতিয়ার কেরিংচর থেকে ৮০-৮৫ জন বরযাত্রী নিয়ে ঢালচর যাওয়ার পথে চেয়ারম্যানঘাটের দক্ষিণ-পশ্চিমে মেঘনা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রলারটির বেশ কিছু আরোহী সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও ‘অনেক যাত্রী’ নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। তবে তার সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানাতে পারেনি।

উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায় গতকাল দুপুরে হাতিয়ার চানন্দি ইউনিয়নের কেরিংচর থেকে বরযাত্রীবাহী একটি ট্রলার মেঘনার ঢালচরের দিকে যাচ্ছিল। চেয়ারম্যানঘাটের দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং টাঙিরঘাটের দক্ষিণে আসার পথে স্রোতের তোড়ে ট্রলারটি উল্টে নদীতে ডুবে যায়। এরপর ট্রলারের ২৫-৩০ জন যাত্রী সাঁতরে ও নদীতে থাকা মাছ ধরার জেলেদের সহায়তায় তীরে ওঠে। পরে নদীতে থাকা জেলে ও এলাকাবাসীর সহায়তায় নদী থেকে ডুবে যাওয়া ট্রলারটি উদ্ধার করে তাতে সাতজনের লাশ পাওয়া যায়। এর মধ্যে নববধূসহ চার নারী ও তিন কন্যাশিশু রয়েছে।

ট্রলারডুবিতে নিহতরা হলো মোহাম্মদ ইব্রাহীমের মেয়ে নববধূ তাসলিমা বেগম (১৯), তার খালাতো বোন আসমা বেগম (২৩), নুর জাহান (৬৫), রাহেলা বেগম (৩০), লিলি আক্তার (৮), আশ্রিম আক্তার লামিয়া (৯) ও হোসনে আরা রুপা (৬)। তারা সবাই হাতিয়া উপজেলার চানন্দি ইউনিয়নের পূর্ব আজিমনগর গ্রামের বাসিন্দা।

উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা রফিক উল্যা ও পুলিশ কনস্টেবল সোহাগ জানান, ডুবে যাওয়া ট্রলারে থাকা অন্তত ৩০ জন জীবিত উদ্ধার হয়েছে। অন্যদের উদ্ধারে পুলিশসহ স্থানীয়রা কাজ করছেন। ট্রলারের যাত্রীরা বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে যাওয়ায় উদ্ধার করতে সমস্যা হচ্ছে।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরান হোসেন গতকাল সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে পুলিশ, কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার অভিযান চলছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত