বিজয় দিবসে প্রধানমন্ত্রী

যেকোনো পরিস্থিতি সহনশীলতার সঙ্গেই মোকাবিলা করতে হয়

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২০, ০১:৫৮ এএম

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, যেকোনো পরিস্থিতি সহনশীলতার সঙ্গেই মোকাবিলা করতে হয়, সেটাই করতে হবে। আমি সবাইকে এ কথাই বলব। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে গতকাল বুধবার আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে সভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে কথা ওঠার চেষ্টা হয়েছে। বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ সমান সুযোগ নিয়ে চলবে। একটা কথা বলব এই মাটিতে হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ সব ধর্ম; অর্থাৎ আমরা মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ আছি বলে অন্য ধর্মের মানুষকে অবহেলার চোখে দেখব তা নয়। মনে রাখতে হবে সবাই এক হয়ে মুক্তিযুদ্ধে রক্ত ঢেলে দিয়ে এ দেশ স্বাধীন করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এদেশের মাটিতে ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সবাই সমান অধিকার নিয়ে বাস করবে। যার যার ধর্ম পালনের অধিকার সবার থাকবে। সেই চেতনায় আমরা বিশ্বাস করি। ইসলাম আমাদের সেই শিক্ষাই দিয়ে থাকে। নবীজিও আমাদের সেই শিক্ষাই দিয়ে  গেছেন।’

সরকারপ্রধান আরও বলেন, ‘আর কে কী বলল, না বলল সেগুলো শোনার থেকে আমরা কতটুকু দেশের জন্য করতে পারলাম সেটিই আমাদের চিন্তায় থাকবে। তাহলে আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারব, সঠিক কাজ করতে পারব। সেইভাবে আমরা করে যাচ্ছি।’

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দলের সভাপতি বলেন, ‘সবাইকে অনুরোধ করব আমাদের সংগঠনটাকে শক্তিশালী করতে হবে। জাতির পিতার আদর্শকে মানুষের কাছে নিয়ে যেতে হবে। যে নামটি পঁচাত্তরের পর মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল আজ আপনারা জানেন ইউনেস্কো ঘোষণা দিয়েছে যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে আন্তর্জাতিক পুরস্কার দেওয়া হবে, অর্থনীতিতে যারা অবদান রাখতে পারবে তাদের। মুজিব শতবর্ষে জাতির জন্য এটা বড় উপহার বলে মনে করি।’

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বলব প্রতিটি সময়ে আপনারা মানুষের পাশে দাঁড়ান। এই করোনাভাইরাসের সময় আমাদের প্রতিটি সংগঠনের নেতাকর্মীরা যেভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ফলে অনেকে মানুষের সেবা করতে গিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। অনেকে মৃত্যুবরণ করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘মানুষের সেবা করা আওয়ামী লীগের কাজ এবং সেই সেবা আমরা করে যাচ্ছি, সেই সেবা আমরা করে যাব। আমরা আগামীর জন্য কর্মসূচি নিয়েছি যে আজকের বাংলাদেশকে আমরা সামনে নিয়ে যাব ২০৪১ সালে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে।’

সশরীরে সভায় উপস্থিত হতে না পারায় নিজের কষ্টের কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘খুব কষ্ট লাগছে, দুঃখ লাগছে। সবাই ওখানে বসে আছে আর আমি দূরে বন্দিশিবিরে আরেকটা জেলখানার মতো বসে আছি। করোনা নামক বন্দিশিবির থেকে কবে মুক্তি পাবে সারা বিশ্ব। এখান থেকে কীভাবে মুক্তি আসবে সেটাই বড় কথা।’

শিগগির ভ্যাকসিন পাওয়ার আশা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভ্যাকসিন আসার ব্যবস্থা আমরা করেছি। ইতিমধ্যে আমাদের চুক্তিও হয়ে গেছে। আমরা আশা করি তাড়াতাড়ি ভ্যাকসিন পেয়ে যাব। তারপরও বলব আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। করোনাভাইরাসে সবাই সুস্থ থাকার চেষ্টা করবেন, মাস্কটা পরে রাখবেন। একটু দূরত্ব বজায় রাখবেন।’ করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাস হলেও আমরা আমাদের অর্থনৈতিক গতিটাকে অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছি। বাংলাদেশ যে আজ এগিয়ে যাচ্ছে, এ গতি আমরা চলমান রাখার চেষ্টা করছি। সরকার হিসেবে জনগণের প্রতি আমাদের যে দায়িত্ব সে দায়িত্ব আমরা যথাযথভাবে পালন করে যাচ্ছি।’

দলের প্রচার সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নেতা বেগম মতিয়া চৌধুরী, আবদুর রাজ্জাক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মির্জা আজম, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ বজলুর রহমান এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ সভাপতি আবু আহাম্মদ মন্নাফি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত