ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার তার করোনা শনাক্ত হয়। এরপর থেকে ম্যাক্রোঁ স্বেচ্ছা আইসোলেশনে আছেন। তার সঙ্গে সম্প্রতি সাক্ষাৎ করা ইউরোপের অনেক দেশের শীর্ষ নেতারাও এ খবরের পর কোয়ারেন্টাইন শুরু করেছেন বলে খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
এক বিবৃতিতে ফ্রান্স প্রেসিডেন্টের দপ্তর বলেছে, করোনার প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর ম্যাক্রোঁর নমুনা পরীক্ষা করা হয়। কভিড-১৯ পজিটিভ হওয়ায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে সাত দিন আইসোলেশনে থাকবেন তিনি। আইসোলেশন বজায় রেখেই কাজ চালিয়ে যাবেন।
এরই মধ্যে বিশ্বের বেশ কয়েকজন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। সেরেও উঠেছেন তারা। এবার করোনায় আক্রান্ত হওয়ার তালিকায় যুক্ত হলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। এর আগে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প করোনায় আক্রান্ত হন।
করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ ঠেকাতে আরোপ করা বিধিনিষেধ এ সপ্তাহের শুরুতে শিথিল করে ফ্রান্স। যদিও দেশটিতে করোনা সংক্রমণের উচ্চহার রয়েছে। করোনার বিস্তার ঠেকাতে দেশটিতে রাত ৮টার পর থেকে কারফিউ জারি রয়েছে। বন্ধ রয়েছে রেস্তোরাঁ, ক্যাফে, থিয়েটার ও সিনেমা হল।
ফ্রান্সের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, করোনা মহামারী শুরুর পর থেকে দেশটিতে ৫৯ হাজার ৩০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার দেশটিতে নতুন করে ১৭ হাজার মানুষের করোনা শনাক্ত হয়। বড়দিনের ছুটির আগে মানুষ আরও বেশি কেনাকাটা ও ভ্রমণ করছে বলে করোনার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতো করোনা মোকাবিলায় ফ্রান্সও টিকার ওপর নির্ভর করছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জ্যাঁ ক্যাসতেক্স গতকাল বলেছেন, ফ্রান্স বছরের শেষ নাগাদ ১১ লাখ ৬০ হাজার ডোজ করোনার টিকা পাবে।
ম্যাক্রোঁ গত সপ্তাহে ব্রাসেলসে ইইউ সম্মেলনে যোগ দেন এবং গত সোমবার তিনি প্যারিস সম্মেলনে উপস্থিত হন। ইইউ সম্মেলনে আসা স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এবং প্যারিস সম্মেলনে যোগ দেওয়া ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট চার্লস মিশেল স্বেচ্ছা আইসোলেশনে আছেন। এক দিন আগে ম্যাক্রোঁর সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়া পর্তুগিজ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনিও কস্তা এবং ফরাসি প্রধানমন্ত্রী জ্যাঁ ক্যাসতেক্সও গতকাল আইসোলেশনে গেছেন।
