করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ প্রথমবোরের চাইতে আরও প্রবল আঘান হেনেছে বিশ্বে। বিশেষ করে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র পড়েছে বেহাল দশার মধ্যে। ইউরোপে গত কয়েক সপ্তাহে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যায় ছাড়িয়ে গেছে অন্যসব মহাদেশকে। আর যুক্তরাষ্ট্রে এক দুই বাদে বাদে ভাঙছে রেকর্ড।গত কয়েক সপ্তাহে ইউরোপের মতো যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্ত ও মৃত্যু লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এর মধ্যেই বুধবার ২৪ ঘণ্টায় দেশটি সংক্রমণ ও মৃত্যুর নতুন রেকর্ড গড়েছে। জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে একদিনেই নতুন করে আরও ৩ হাজার ৭০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। অপরদিকে আক্রান্ত হয়েছে আরও ২ লাখ ৪৮ হাজারের মতো মতো মানুষ। অবশ্য ওয়ার্ল্ডোমিটারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশটিতে এর আগে এক দিনে ২ লাখ ৪৭ হাজার রোগী শনাক্ত হয়েছিল।
দেশটির স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এক মাসের বেশি সময় ধরেই দেশটিতে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া বর্তমানে আরও প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
বিশ্বের বাকি দেশগুলোর তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্ত ও মৃত্যু অনেক বেশি। ওয়ার্ল্ডোমিটারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ৭৩ লাখ ৯২ হাজার ৬১৮। এর মধ্যে মারা গেছে ৩ লাখ ১৪ হাজার ৫৭৭ জন। ইতোমধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠেছে ১ কোটি ১ লাখ ৭০ হাজার ৭৩৫ জন। দেশটিতে বর্তমানে করোনার অ্যাক্টিভ কেস ৬৯ লাখ ৭ হাজার ৩০৬। অপরদিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে ২৮ হাজার ৩২৫ জন।
তবে এর মধ্যেও আশার কথা হচ্ছে দেশটিতে ইতোমধ্যেই ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। চলতি সপ্তাহে ফাইজার এবং তাদের জার্মান অংশীদার বায়োএনটেকের তৈরি ভ্যাকসিনের ২৯ লাখ ডোজ প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
চলতি মাসে ওয়াশিংটনের হেলথ মেট্রিকস অ্যান্ড ইভালুয়েশন ইন্সটিটিউট আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, মাস্ক পরিধান এবং সামাজিক দূরত্ব সঠিকভাবে মেনে চলা না হলে আগামী মার্চের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার লাখে পৌঁছাতে পারে।
এদিকে বুধবার হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এক ঘোষণায় জানানো হয়েছে যে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স এবং তার স্ত্রী ক্যারেন আগামী শুক্রবার একটি অনুষ্ঠানে জনসম্মুখে ভ্যাকসিন গ্রহণ করবেন। শুক্রবার সার্জন জেনারেল জেরোমি অ্যাডামসেরও ভ্যাকসিন গ্রহণ করার কথা।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আগামী সপ্তাহের মধ্যে নব-নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণ করতে পারেন। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বাইডেন জানান, জাতীয় সংক্রামক রোগের শীর্ষ বিশেষজ্ঞ ডা. অ্যান্থনি ফাউসি তাকে যত দ্রুত সম্ভব ভ্যাকসিন গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন।
বাইডেন জানিয়েছেন, তিনি চান সম্মুখ সারির স্বাস্থ্যকর্মী এবং করোনার ঝুঁকিতে থাকা লোকজন আগে ভ্যাকসিন গ্রহণ করুক। বর্তমানে তার বয়স ৭৮ বছর। বয়সের কারণে তিনি নিজেও করোনার ঝুঁকিতে রয়েছেন।
