হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে বাল্লা স্থলবন্দরের নির্মাণকাজ। এর অংশ হিসেবে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যে অধিগ্রহণ করা ভূমির দখল বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্র্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে। গত সোমবার স্থলবন্দর কর্র্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের পক্ষে সচিব ও প্রকল্প পরিচালক মো. আমিনুল ইসলামের কাছে ওই প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা ১৩ একর জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তারেক মো. জাকারিয়া।
জানা গেছে, গত ২৯ নভেম্বর ‘লোভের ফাঁদে ধরা’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ হয় দৈনিক দেশ রূপান্তরে। তাতে সংশ্লিষ্ট আসনের সংসদ সদস্য এবং আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাসহ স্থানীয় প্রভাবশালীদের বাল্লা স্থলবন্দরের প্রস্তাবিত অধিগ্রহণ এলাকায় জায়গা কিনে সরকারের কাছ থেকে তিনগুণ বেশি দাম আদায় চেষ্টার তৎপরতার তথ্য তুলে ধরা হয়। এরপর জেলা প্রশাসনসহ স্থলবন্দর কর্র্তৃপক্ষ জমি অধিগ্রহণের কাজ দ্রুত শেষ করে নির্মাণকাজ শুরুর জন্য নড়েচড়ে বসে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তারেক মোহাম্মদ জাকারিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাল্লা স্থলবন্দরের জন্য অধিগ্রহণকৃত ভূমির দখল সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে একটি গেজেট নোটিফিকেশন হবে। শিগগিরই নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে আশা করছি।’
সংশ্লিষ্টরা জানান, স্থলবন্দর এলাকায় ড্রেনসহ সীমানা দেয়াল, গার্ড রুম, ফটক নির্মাণ, ওপেন স্টেক ইয়ার্ড, পার্কিং ইয়ার্ড, অভ্যন্তরীণ সড়ক নির্মাণ ও ভূমি উন্নয়নকাজের জন্য স্থলবন্দর কর্র্তৃপক্ষ দরপত্র আহ্বান করেছে। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৮ কোটি ৯০ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
১৯৫১ সালে বাল্লায় ৪ দশমিক ৩৭ একর জমির ওপর শুল্ক স্টেশন স্থাপন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে এর কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। ১৯৯১ সালে শুল্ক স্টেশনটির কার্যক্রম ফের শুরু হয়। এই স্টেশন ও ভারতীয় সীমান্তের বুক চিরে খোয়াই নদী বহমান থাকায় পণ্য আনা-নেওয়ায় নানা অসুবিধার সম্মুখীন হতে হতো ব্যবসায়ীদের।
বাংলাদেশ ও ভারতের স্থলবন্দর কর্র্তৃপক্ষের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বাল্লা এলাকায় কয়েক দফা পরিদর্শন শেষে বর্তমান স্থান থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দক্ষিণে সরিয়ে কেদারাকোটে পূর্ণাঙ্গ একটি স্থলবন্দর স্থাপনের জন্য একমত হন। সে অনুযায়ী বাল্লায় একটি স্থলবন্দর স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলে। ২০১২ সালের ১১ জুন বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদল প্রস্তাবিত এলাকা পরিদর্শন করে। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হবিগঞ্জে এক জনসভায় বাল্লায় স্থলবন্দর স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্র্তৃপক্ষ ২০১৬ সালের ২৩ মার্চ বাল্লা স্থলবন্দর স্থাপনের ঘোষণা দেয়। ২০১৭ সালে বাল্লা স্থলবন্দর প্রকল্প একনেকে অনুমোদন পায়। ২০১৮ সালে জেলা প্রশাসন প্রস্তাবিত এলাকায় ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু করে। জেলা প্রশাসন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জমি অধিগ্রহণের জন্য স্থলবন্দর কর্র্তৃপক্ষ ৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর ক্ষতিগ্রস্ত ৭৪ ভূমিমালিককে ক্ষতিপূরণের অর্থ গ্রহণ করার জন্য নোটিস দেওয়া হয়।
