সিদ্ধিরগঞ্জে অবৈধ কয়েল কারখানায় গ্যাস চুরি

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:৫৪ এএম

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে অর্ধশতাধিক কয়েল তৈরির কারখানা। এসব কারখানায় অবৈধভাবে দেওয়া হয়েছে গ্যাসসংযোগ। ফলে সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।

এসব কারখানার সামনে নেই কোনো সাইনবোর্ড। তিতাস কর্তৃপক্ষ বলছে, অবৈধ সংযোগ নিয়ে ওভারলোডে আছি। জরিমানা, মামলা করেও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশ ছাড়পত্র, বিএসটিআই ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই বিভিন্ন বাসাবাড়ি ভাড়া নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে মশা দূর করার কয়েল বানানোর কারখানা। প্রতিটি কারখানায় একাধিক নামে কয়েল তৈরি ও বাজারজাত করা হচ্ছে। বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এসব কয়েল তৈরির কারখানা চালাচ্ছেন মালিকরা। এসব কারখানায় প্রতিনিয়তই ঘটছে অগ্নিকা-ের ঘটনা। অনুমতি না থাকায় কারখানাগুলো করা হয়েছে অলিগলির ভেতরে। ফলে আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছাতে পারে না ঘটনাস্থলে। যে কারণে আগুন নেভানো কঠিন হয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা জানান, নারায়ণগঞ্জ তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ অবৈধ কয়েল কারখানায় অভিযান চালিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন, আর্থিক জরিমানা ও কারখানা সিলগালা করে মাঝেমধ্যে। তবে অভিযান শেষ করে চলে যাওয়ার পরই মালিকরা আবার গ্যাস লাইন সংযোগ দিয়ে কারখানা চালু করেন। বছরের পর বছর ধরে চলছে তিতাস আর কয়েল কারখানার মালিকদের এই রহস্যজনক অভিযান খেলা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মিজমিজি পশ্চিমপাড়ার হাজেরা মার্কেট এলাকায় এখলাছ মিয়ার ‘বুশরা ও চমক’, হারুনের ‘সোনালি’, প্রিন্সের ‘কুইন’, আসাদ মিয়ার ‘সিভিল ম্যাজিক’; মিজমিজি মতিন সড়কে আলমের ‘ডিকে’; মিজমিজি ধনু হাজি সড়কে বজলু মিয়ার ‘হক কয়েল’, কামালের ‘গর্জন’ ও ‘পাগলা’; পাইনাদী শাপলা চত্বরে লাভলু মিয়ার ‘মারুফ’; মিজমিজি বাতানপাড়া মহিউদ্দিনের ‘পিসিপি’, ‘নাইট ফোর্স’, ‘বোস্টার’, ‘বাসক পাতা’, ‘অল মার্ডার’; একই এলাকায় সামছুল ইসলামের ‘ভেনিস’ ও ‘পিয়াস’; মিজমিজি পশ্চিমপাড়ায় আনোয়ারের ‘ক্রাউন’, জামানের ‘হিরু’; মিজমিজি কান্দাপাড়ায় সোহরাব হোসেনের ‘সিক্স স্টার গোল্ড’, দক্ষিণ সানারপাড়ে তফাজ্জল হোসেনের ‘অ্যাপেক্স’ নামের কয়েলসহ প্রায় অর্ধশতাধিক কয়েল তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে। যেগুলো চলছে অবৈধ গ্যাসসংযোগে।

এ বিষয়ে সিভিল ম্যাজিক কয়েল কারখানার মালিক আসাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিতাসের অভিযানের পর এলপি গ্যাস দিয়ে কারখানা চালাচ্ছি।

তিতাসের সঙ্গে বিভিন্ন অভিযানে অংশ নেওয়া র‌্যাব-১১-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন বলেন, অভিযানের পরে আবার কীভাবে কারখানা চালু হয় বা গ্যাসসংযোগ পায়, তা দেখার দায়িত্ব তিতাসের। নারায়ণগঞ্জ তিতাসের উপমহাব্যবস্থাপক মমিনুল হক বলেন, অবৈধ লাইন নিয়ে আমরা অসম্ভব ওভারলোডে আছি। একসময় লাইন সংযোগ দিতে দক্ষ লোক লাগত। এখন এলাকার ওয়েল্ডিং ও পানির মিস্ত্রিরা এ কাজটি করতে পারছে। যে কারণে কোনোভাবেই অবৈধ সংযোগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না। অভিযান চালিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন, অর্থদ- ও মামলাও করি। কিন্তু কারখানার মালিকরা এলাকার মিস্ত্রি দিয়েই গোপনে আবার সংযোগ দিয়ে দেয়। আর ইচ্ছা করলেই আমরা অভিযান চালাতে পারি না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত