শীতের আবির্ভাবের সঙ্গে সঙ্গে আবহাওয়ার শুষ্কতা আর পর্যাপ্ত আর্দ্রতার ঘাটতির কারণে পা ফাটার মতো সমস্যা দেখা দেয়। গোড়ালির ত্বকের শুষ্কতা বা স্তরীভূত মরা কোষের কারণেই শীত ছাড়া অন্যান্য সময়েও পা ফাটে। এ ছাড়া অনেক বেশি হাঁটাচলা, দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে কাজ করা, পানিশূন্যতা, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা, সোরিয়াসিস, একজিমা, ছত্রাক সংক্রমণ, স্থূলতা, পরিধেয় জুতার বিভিন্ন সমস্যায়, যেমন খোলা জুতা বা স্যান্ডেল ব্যবহার, জুতার পেছনদিকে ঘর্ষণ, জুতা ঠিকমতো ফিট না করা ইত্যাদি কারণেও গোড়ালির চামড়া ফেটে যেতে পারে। এমন হলে পায়ের গোড়ালিতে ব্যথা ও যন্ত্রণা হয় এবং হাঁটতে বেশ সমস্যা হয়। এ ছাড়া পা ফাটা স্থানে জীবাণু সংক্রমণও ঘটে থাকে।
পা ফাটা এড়াতে
মোমবাতির মোমের সঙ্গে সরিষার তেল কিংবা গোলাপজলের সঙ্গে কিছুটা গ্লিসারিন মিশিয়ে এই মিশ্রণ ফাটা স্থানে লাগিয়ে সারারাত রেখে দিলে পা ফাটা দ্রুত সেরে উঠবে এবং ব্যথাও কমবে। গ্লিসারিন ত্বক নরম রাখে আর গোলাপজলে রয়েছে ভিটামিন এ, বি ৩, সি, ডি ও ই এবং বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টিসেপটিক উপাদান। এ ছাড়া পা ফাটার সমস্যা সমাধানে অলিভ অয়েল, নারকেল-বাদাম-তিলের তেলজাতীয় ভেজিটেবল অয়েলও দারুণ কার্যকর। এতেও কাজ না হলে ভ্যাসলিনের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে তা ফাটা স্থানে মালিশ করলেও পা ফাটা দ্রুত সেরে যায়। পাশাপাশি এক কাপ মধু আধা বালতি গরম পানিতে মিশিয়ে এতে ১৫-২০ মিনিট পা ভিজিয়ে রাখলেও পা ফাটা প্রতিরোধ করা সম্ভব।
যদি কারও খোলা স্যান্ডেল পরার অভ্যাস থাকে, তাহলে ১০ দিনে অন্তত একবার পেডিকিওর করিয়ে নেওয়া উচিত। এ ছাড়া যাদের সব সময়ই পা ফাটে, তারা কখনোই পা শুষ্ক রাখবেন না। প্রতিবার পা ভেজানোর পর ভালোভাবে মুছে পায়ের গোড়ালি ও পুরো পাতায় ভ্যাসলিন লাগিয়ে নেবেন। প্রতিদিন গোসলের সময় পিউমিক স্টোন ও ব্রাশ দিয়ে পায়ের গোড়ালি, নখ ও আঙুলের ডগা পরিষ্কার করে ফেলতে পারেন। কারণ পায়ের গোড়ালিতে মরা কোষ জমে জমে পুরু স্তর তৈরি হয়, যার কারণে গোড়ালি শক্ত হয়ে পা ফেটে যায়। পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। কারণ পানি বা পানিজাতীয় খাবার কম খেলে ত্বকের শুষ্কতা এবং ঠোঁট বা পা ফাটার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
অতিরিক্ত গরম পানি ত্বককে আরও শুষ্ক করে দেয়। তাই গোসলের সময় বা পা পরিষ্কার করতে হালকা কুসুম-গরম পানি ব্যবহার করাই শ্রেয়। এ ছাড়া বেশি সময় ধরে পা পানিতে ডুবিয়ে রাখাও ভালো নয়। শীতকালে গোসল শেষ করতেও খুব বেশি হলে ৫-১০ মিনিট সময় নিন। অতিরিক্ত ক্ষারযুক্ত সাবান ব্যবহার ও অতিরিক্ত ঘষাঘষি ত্বকের শুষ্কতা বাড়িয়ে দেয়। তাই যত দূর সম্ভব এগুলো এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। খালি পায়ে না হেঁটে ঠান্ডা বাতাসে বের হলে খোলা জুতা বা স্যান্ডেলের পরিবর্তে এ সময় বন্ধ জুতা ব্যবহার করুন। পায়ের মরা চামড়া ওঠাতে কখনোই নিজে নিজে ধারালো কিছু ব্যবহার করবেন না। ঝামা পাথর দিয়ে বেশি ঘষতে গেলে ত্বক কেটে যেতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিসের রোগীরা মৃত ত্বক ওঠাতে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন।
