হেফাজত নেতাদের প্রতিক্রিয়া

আহমদ শফী ‘হত্যা মামলা’ হেফাজতের উত্থান ধ্বংসের চক্রান্ত

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০২০, ০৪:০১ এএম

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাবেক আমির আল্লামা আহমদ শফীকে হত্যার অভিযোগে সংগঠনের ৩৬ নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে হেফাজতের নব উত্থানকে ধ্বংস করার চক্রান্ত বলে মন্তব্য করেছেন সংগঠনের নেতারা। তারা আইনি প্রক্রিয়ায় এ মামলা মোকাবিলার পাশাপাশি প্রয়োজনে সাংগঠনিক কর্মসূচিও দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। 

গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আল্লামা আহমদ শফীর শ্যালক মো. মঈনুদ্দিন বাদী হয়ে এ মামলা করেন। মামলায় সাম্প্রতিক সময়ে ভাস্কর্যবিরোধী বক্তব্যের কারণে আলোচিত হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক, নাসির উদ্দিন মুনির, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদীসহ ৩৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জুনাইদ আল হাবিব দেশ রূপান্তরকে বলেন, আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যু ছিল স্বাভাবিক। তার ইন্তেকালের পর পরিবারের পক্ষ থেকে তার বড় ছেলে মাওলানা ইউছুফ এবং হাটহাজারী মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষকবৃন্দ ভিডিও বার্তার মাধ্যমে দেশবাসীকে তা জানিয়েছিলেন। আল্লামা আহমদ শফীর (রহ.) মৃত্যু স্বাভাবিক হয়েছিলএটি একটি মীমাংসিত বিষয়। এটা নিয়ে দীর্ঘদিন পর নতুনভাবে মামলা করা জাতির কাছে প্রত্যাখ্যাত হওয়া জনবিচ্ছিন্ন কিছু ব্যক্তির ষড়যন্ত্র বৈ কিছু নয়।

তিনি বলেন, একটি মহল আল্লামা আহমদ শফীর জীবদ্দশায় তাকে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করেছে। তাকে ব্যবহার করে নিজেদের হীনস্বার্থ হাসিল করতে গিয়ে তার আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তাকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে তারা আলেমদের সরকারের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ফায়দা হাসিলের চেষ্টা চালাচ্ছে।

মামলার আসামি ও হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী দেশ রূপান্তরের কাছে মামলার বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, মামলার অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। এটা হেফাজতের নব উত্থানকে ধ্বংস করা এবং সংগঠনের সঙ্গে জড়িত স্বনামধন্য আলেমদের জাতির সামনে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই এ ষড়যন্ত্রমূলক মামলা করা হয়েছে। এ ধরনের মামলায় হেফাজতের নেতাকর্মীরা ভীত নন। আইনি প্রক্রিয়ায় এ মামলা মোকাবিলার পাশাপাশি প্রয়োজনে সারা দেশে এ ব্যাপারে সাংগঠনিক কর্মসূচি দেওয়া হবে।

শাহ আহমদ শফীর ছেলে মাওলানা আনাস মাদানীকে হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়াসহ ১৬ দফা দাবিতে গত ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুরের পর থেকে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায়ে ১৬ ও ১৭ সেপ্টেম্বর টানা দুই দিন মাদ্রাসা অচল করে রাখেন তারা। এ নিয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মাদ্রাসার শূরা কমিটির বৈঠক থেকে মহাপরিচালকের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন হেফাজতের তৎকালীন আমির আল্লামা আহমদ শফী। একই সঙ্গে আনাস মাদানীকেও মাদ্রাসা থেকে অব্যাহতি দেয় শূরা কমিটি। ওইদিনই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় আহমদ শফীকে। ১৮ সেপ্টেম্বর অসুস্থাবস্থায় হেলিকপ্টারে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকার গে-ারিয়া আজগর আলী হাসপাতালে নেওয়া হয়। ওইদিন সন্ধ্যায় সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত