তৃতীয় অধ্যায় : সৌরজগৎ ও ভূমণ্ডল
সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও
সমুদ্রের পানি নিয়মিতভাবে ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে। প্রতি ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট পরপর জোয়ার ও ভাটা হয়ে থাকে।
ক. শূন্য ডিগ্রি অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমা কোথায় পরস্পরকে ছেদ করেছে?
খ. পৃথিবীর আবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত হ্রাস-বৃদ্ধি বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকে ঘটনাটি সংঘটনের পূর্ণিমা ও অমাবস্যার ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উক্ত ঘটনার ফলে আমরা কী সুবিধা পেয়ে থাকি? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর
ক. গিনি উপসাগরের কোনো এক স্থানে মূল মধ্যরেখায় ০ ডিগ্রি অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমা পরস্পরকে ছেদ করে।
খ. পৃথিবীর আবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত হ্রাস-বৃদ্ধি বলতে দিন-রাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধিকে বোঝায়।
পৃথিবী নিজ অক্ষে অবিরাম ঘোরার সময় একটি নির্দিষ্ট উপবৃত্তকার কক্ষপথে, একটি নির্দিষ্ট দিকে এবং নির্দিষ্ট সময়ে সূর্যের চারদিকে পরিক্রমণ করছে। পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে পৃথিবীর এই পরিক্রমণকে বার্ষিক গতি বলে। বার্ষিক গতির ফলে পৃথিবীতে দিন-রাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। পৃথিবীর আবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত হ্রাস-বৃদ্ধি বলতে বার্ষিক গতির প্রভাবে এই দিন-রাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধিকেই বোঝায়।
গ. উদ্দীপকের ঘটনাটি অর্থাৎ জোয়ার-ভাটা সংঘটনে পূর্ণিমা ও অমাবস্যার প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে।
চন্দ্র ও সূর্য ভূ-পৃষ্ঠের জল ও স্থলভাগকে অবিরাম আকর্ষণ করে। এ আকর্ষণের ফলে ভূ-পৃষ্ঠের পানি নির্দিষ্ট সময় অন্তর প্রত্যহ এক স্থানে ফুলে ওঠে এবং অন্যত্র নেমে যায়। এভাবে প্রত্যেক সাড়ে বারো ঘণ্টায় সমুদ্রের পানি নিয়মিতভাবে ওঠানামা করে। সমুদ্রের জলরাশির নিয়মিতভাবে এ ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে। জোয়ার ও ভাটা প্রতি ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট পরপর হয়।
সৌর জগতের গঠন
সূর্য মাঝারি আকারের একটি নক্ষত্র। তারপরও এটি পৃথিবীর তুলনায় লাখ লাখ গুণ বড়। সূর্য পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। তাই পৃথিবী থেকে আমরা সূর্যকে এত ছোট দেখি।
গ্রহগুলোর পরিচয় : সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে আটটি গ্রহ। পৃথিবী এমন একটি গ্রহ। গ্রহসমূহ সাধারণত : গোলাকৃতির। গ্রহগুলোতে বিভিন্ন গ্যাসীয় পদার্থ রয়েছে। কিন্তু গ্রহগুলো নিজেরা শক্তি উৎপাদন করে না। তাই কোনো গ্রহ নিজে আলো বা তাপ নিঃসরণ করে না। পৃথিবী থেকে সূর্যের অন্যান্য গ্রহকে উজ্জ¦ল দেখালেও এগুলো আসলে সূর্যের আলোতে আলোকিত। গ্রহগুলোর সংক্ষিপ্ত পরিচয় হলো
বুধ : বুধ সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহ। এতে কোনো বায়ু মণ্ডল নেই। এটি ৮৮ দিনে সূর্য কে একবার প্রদক্ষিণ করে আসে।
শুক্র : পৃথিবী থেকে সন্ধ্যায় পশ্চিম আকাশে সন্ধ্যাতারা এবং ভোরবেলায় শুকতারা রূপে যে তারাটি দেখা যায় সেটি কোনো নক্ষত্র নয়। এটি আসলে সূর্যের একটি গ্রহ যার নাম শুক্র। সূর্যের আলো এ গ্রহের ওপরে পড়ে। তাই আমরা একে আলোকিত দেখি। এটি ৫৯ দিনে একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে।
পৃথিবী : তোমরা হয়তো জান যে, কেবল পৃথিবীতেই জীবনের জন্য উপযোগী উপকরণ ও পরিবেশ রয়েছে। পৃথিবী সূর্য থেকে দূরত্বের দিক দিয়ে তৃতীয় গ্রহ।
মঙ্গল : মঙ্গলকে কখনো কখনো লাল গ্রহ বলা হয় কারণ এর পৃষ্ঠ লাল রঙের। এর পৃষ্ঠ ধূলিময় এবং এর খুবই পাতলা বায়ুমণ্ডল রয়েছে। মঙ্গলের মাটির নিচে পানি থাকার সম্ভাবনা আছে বলে বিজ্ঞানীরা এখন মনে করেন।
বৃহস্পতি : বৃহস্পতি সূর্যের সবচেয়ে বড় গ্রহ। এটিতে শুধু গ্যাসই রয়েছে, কোনো কঠিন পৃষ্ঠ নেই।
শনি : শনি গ্রহটিও কেবল গ্যাস দিয়ে তৈরি। এটিকে ঘিরে কতগুলো রিং বা আংটা রয়েছে।
ইউরেনাস : ইউরেনাস গ্যাস ও বরফ দিয়ে গঠিত।
নেপচুন : নেপচুনও অনেকটা ইউরেনাসের মতো একটি গ্রহ।
আগে প্লুটো নামক একটি জ্যোতিষ্ককে গ্রহ বলা হতো। কিন্তু ২০০৯ সালে বিজ্ঞানীরা সিদ্ধান্ত নেন যে, এটি একটি ক্ষুদ্র অসম্পূর্ণ গ্রহ।
