কোটি ছাড়াল ভারতে শনাক্ত করোনা রোগী

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:১২ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের পরে ভারতেও করোনা আক্রান্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এক কোটি ছাড়িয়েছে। গত শুক্রবার রাতেই দেশটিতে মোট শনাক্তের সংখ্যা এক কোটি ছাড়িয়ে যায়। যদিও সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতে যখন দৈনিক শনাক্ত লাখের কাছাকাছি থাকত তখন বিশেষজ্ঞরা দেশটিতে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুতই কোটি ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল। তবে আশার কথা হলো, গত মাস থেকে ওই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। একাধিক টিকা সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। এ অবস্থায় দেশটিতে মোট শনাক্তের সংখ্যা দেড় কোটিতে পৌঁছানোর আগেই পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে বলেই মনে করছেন চিকিৎসক-বিশেষজ্ঞরা।

আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারসের পরিসংখ্যান বলছে, গত ১১ মাসে ভারত ১ কোটি রোগী শনাক্ত করতে ১৫ কোটি ৮৯ লাখের বেশি টেস্ট করেছে। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে ২৩ কোটির বেশি টেস্ট করে শনাক্ত হয়েছে ১ কোটি ৭৮ লাখের বেশি রোগী। 

ওয়ার্ল্ডোমিটারসের হিসাবে ভারতে গত শুক্রবার ২৪ ঘণ্টায় ২৫ হাজার ১২৫ জন নতুন শনাক্ত হয়েছে আর মারা গেছে ৩৪৭ জন। দেশটিতে এখন পর্যন্ত এ রোগে ১ লাখ ৪৫ হাজার ১৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, দেশটিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা যে ১ কোটিতে পৌঁছবে, সেটা ছিল শুধু সময়ের অপেক্ষা। সেই সংখ্যা পেরিয়ে গেল শনিবার। তবে অক্টোবরের পর থেকেই সংক্রমিতের সংখ্যা নামতে শুরু করায় অনেকটাই স্বস্তিতে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বস্তির আরও একটি কারণ আছে।  মোট আক্রান্তের সংখ্যা এমন সময়ে কোটিতে পৌঁছাল, যখন অন্তত দু’তিনটি টিকা প্রায় প্রস্তুত। সরকারি অনুমোদনের অপেক্ষায়। এমনকি ভারতীয় বিজ্ঞানীদের আবিষ্কার করা এবং দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ভারত বায়োটেকের টিকাও মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের তৃতীয় তথা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ফলে টিকা চলে এলে সংক্রমিতের সংখ্যা আর লাফিয়ে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। ফলে সংখ্যাটা দেড় কোটিতে পৌঁছানোর আগেই পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে বলেই মনে করছেন চিকিৎসক-বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ৬৮ দিনের সম্পূর্ণ লকডাউনও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে অনেকটাই কাজে এসেছে। দেশটিতে লকডাউন শুরু হয়েছিল ২৫ মার্চ। ওই দিন দেশে ২৪ ঘণ্টায় নতুন সংক্রমিতের সংখ্যা ছিল ৮৭। মোট কভিড আক্রান্ত ছিলেন মাত্র ৬০৬ জন। অর্থাৎ তখন সবে শুরু হয়েছিল সংক্রমণ। ফলে লকডাউনের মধ্যেও লাফিয়ে বাড়ছিল সংক্রমণ। তখন অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু পরের দিকে সংক্রমণ দ্রুত নেমে যাওয়ার কারণ হিসেবে অনেকেই মনে করেন তড়িঘড়ি লকডাউন ঘোষণা করা।

ভারতে প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী ধরা পড়েছিল ৩০ জানুয়ারি। চীনের উহান থেকে কেরালায় ফেরার পর ধরা পড়েছিল সংক্রমণ। গোড়ার দিকে ভাইরাস ছড়ানোর গ্রাফ খুব ধীর হবে, এটাই স্বাভাবিক ছিল। ফলে দেশে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখে পৌঁছেছিল ১৯ মে, প্রায় সাড়ে তিন মাস পর। তবে ফলে ১ লাখ থেকে ২ লাখে পৌঁছতে সময় লেগেছে মাত্র মাত্র ১৭ দিন। এর পর ৫ লাখে পৌঁছেছে ২৭ জুন, ১০ লাখে ১৭ জুলাই। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২০ লাখ হয়েছে ৭ আগস্ট। ৫০ লাখে পৌঁছেছে ১৬ সেপ্টেম্বর। ওই দিন ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৯০ হাজার ১২৩। আবার তার পরের দিনই ২৪ ঘণ্টায় নতুন সংক্রমণের সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি ৯৭ হাজার ৮৯৪। এটাই দেশে এক দিনে সর্বোচ্চ সংক্রমণ। তার পর থেকেই কমতে শুরু করেছে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা। টানা ৫ দিন আক্রান্তের সংখ্যা কমেছিল। তার পর আবার কিছুটা বৃদ্ধি পেয়ে আবার নামতে শুরু করে।

ভারতে মোট আক্রান্ত কোটি ছাড়ালেও সুস্থতার হার শুরু থেকেই স্বস্তিদায়ক। এখনো অবধি দেশটিতে মোট ৯৫ লাখ ৫০ হাজার ৭১২ জন সুস্থ হয়েছে। অর্থাৎ মোট আক্রান্তের প্রায় সাড়ে ৯৫ শতাংশই সুস্থ হয়েছে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত