সীতাকুন্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ের পাদদেশে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী মিত্র’

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:১৭ এএম

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণের অংশ হিসেবে সীতাকুন্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ের পাদদেশে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী মিত্র’ নামে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করেছে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ। মুক্তিযুদ্ধে অর্ধশতাধিক ভারতীয় মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর শহীদ সদস্যকে এখানে দাহ ও দাফন করা হয়। মিত্রবাহিনীর স্মৃতিবিজড়িত এ ভাস্কর্যটি আজ মঙ্গলবার সকালে উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ সালাম।

তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মৃত্যুঞ্জয়ী মিত্র নামের এই স্মারক স্মৃতিস্তম্ভটি মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণের অংশ হিসেবে জেলা পরিষদের নিজস্ব অর্থায়নে এটি নির্মাণ করা হয়েছে। গত মার্চেই এটি উদ্বোধনের কথা ছিল। করোনার কারণে তা সম্ভব হয়নি। তাই বিজয়ের মাসেই এটি উদ্বোধন করছি। আজ (মঙ্গলবার) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি ও সীতাকুন্ডের সাংসদ দিদারুল আলম, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, জেলা পরিষদ সদস্য, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত থাকবেন। মৃত্যুঞ্জয়ী মিত্র নামের এ স্মৃতিস্তম্ভ ছাড়াও জেলা পরিষদ ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় ৩২টি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করেছে। যেখানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালও রয়েছে।

জেলা পরিষদের তথ্যমতে, সীতাকু-ের ছোট দারোগাহাট হতে কুমিরা এলাকায় ১৯৭১ সালের ১২ ডিসেম্বর ভারতীয় মিত্র ও মুক্তিবাহিনী সম্মুখযুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান গ্রহণ করে। স্থানীয় দেশপ্রেমিক জনসাধারণের সহযোগিতায় ওইদিন রাত ১০টা থেকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালায়। পরে ১২ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ সম্মুখযুদ্ধ শেষে ১৭ ডিসেম্বর সীতাকুন্ড হানাদারমুক্ত হয়। বীরত্বপূর্ণ এ সম্মুখযুদ্ধে মিত্র ও মুক্তিবাহিনীর অসংখ্য সদস্য শহীদ হন। এ সময় সীতাকুন্ড সদরে চন্দ্রনাথ মন্দিরসংলগ্ন এলাকায় মিত্রবাহিনীর পঞ্চাশের অধিক শহীদ জওয়ানের মরদেহ দাহ করা হয় এবং মুক্তিবাহিনীর শহীদদের বর্তমান উপজেলা কমপ্লেক্স এলাকায় দাফন করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধে এসব শহীদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এ স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণ করা হয়েছে জানিয়ে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (উপসচিব) শাব্বির ইকবাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভারতীয় মিত্রবাহিনী ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং স্মৃতি সংরক্ষণ করতে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সালাম স্যারের নির্দেশনায় এ স্মৃতিস্তম্ভটি করা হয়েছে। ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে সীতাকুন্ডে মিত্রবাহিনীর সমাধিস্থলে মৃত্যুঞ্জয়ী মিত্র নামে এ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ প্রকল্পটি জেলা পরিষদের নিজস্ব অর্থায়নে করা হয়েছে। এ স্মৃতিস্তম্ভের পেছনে বাংলাদেশের মানচিত্র এবং সামনে ফুলের বাগান রাখা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত