লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও কুয়েতের কারাগারে থাকা কাজী শহিদুল ইসলাম পাপুলসহ ৬ ব্যক্তি ও দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৩৮ কোটি ২২ লাখ ৪০ হাজার টাকা পাচারের অভিযোগে অর্থপাচার আইনে মামলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহকারী পুলিশ সুপার আল-আমিন হোসেন বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলাটি করেন।
এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় পাপুলের স্ত্রী সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলাম ও মেয়ে ওয়াফা ইসলামকে ২৮ ডিসেম্বরের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে। সিআইডির এক সূত্র জানিয়েছে, অর্থপাচার মামলায় কাজী শহিদুল ইসলাম পাপুল ছাড়াও টাঙ্গাইলের গোপালপুর থানার সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে কাজী মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান ওরফে মনির (৩৫), পাপুলের শ্যালিকা কুমিল্লার মেঘনা থানার শিবনগর সোনাকান্দা গ্রামের মুজিবুর রহমানের মেয়ে জেসমিন প্রধান (২৩), পাপুলের মেয়ে ওয়াফা ইসলাম (২৬), লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর থানার করোয়া গ্রামের মোহাম্মদ নূরুল ইসলামের ছেলে কাজী বদরুল আলম লিটন ও কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী থানার বানুর খামার গ্রামের আফসার আলীর ছেলে গোলাম মোস্তফা (৫৬)। মামলায় যে প্রতিষ্ঠানের নাম দেওয়া হয়েছে সেগুলো হচ্ছে জেসমিন প্রধানের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান জে. ডব্লিউ লীলা বালী ও কাজী বদরুল আলম লিটনের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান জব ব্যাংক ইন্টারন্যাশনাল। এছাড়া মামলায় আরও অজ্ঞাত ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। রূপালী ব্যাংক রাজধানীর রাজারবাগ শাখা থেকে ৩৮ কোটি ২২ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৭ টাকা পাচারের অভিযোগে এই মামলা করা হয়।
স্ত্রী ও মেয়েকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ : এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় পাপুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম ও মেয়ে ওয়াফা ইসলামকে ২৮ ডিসেম্বরের মধ্যে অধস্তন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। এর আগে হাইকোর্টে আগাম জামিন চেয়ে আবেদন করলে গত ১০ ডিসেম্বর পাপুলের স্ত্রী ও মেয়েকে জামিন না দিয়ে ১০ দিনের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। কিন্তু অধস্তন আদালতে অবকাশকালীন ছুটি থাকায় আত্মসমর্পণ সম্ভব হয়নি উল্লেখ করে এ বিষয়ে সময়ের আবেদন করলে গতকাল এ আদেশ দেওয়া হয়। দুদকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশিদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক। পাপুলের স্ত্রী ও মেয়ের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আব্দুল বাসেত মজমুদার।
মানবপাচার, ভিসা জালিয়াতি ও অর্থপাচারের অভিযোগে পাপুলকে গত ৭ জুন গ্রেপ্তার করে কুয়েতের পুলিশ। তদন্তের পর সেখানকার একটি ব্যাংকে জমাকৃত পাপুল এবং তার কোম্পানির প্রায় ৫০ লাখ কুয়েতি দিনার (প্রায় ১৪০ কোটি টাকা) ফ্রিজ করে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আগামী ২৮ জানুয়ারি কুয়েতের আদালতে পাপুলের মামলার রায় হওয়ার কথা রয়েছে। জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত ১১ নভেম্বর পাপুল এবং তার স্ত্রী, মেয়ে ও শ্যালিকার বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। তাতে অভিযোগ করা হয়, পাপুলের শ্যালিকা জেসমিন দুই কোটি ৩১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৮ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ কাগুজে প্রতিষ্ঠানের আড়ালে পাঁচ ব্যাংকের মাধ্যমে ২০১২ সাল থেকে ২০২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ১৪৮ কোটি টাকা পাচার করেছেন। এসব কাজে তাকে পাপুল এবং তার স্ত্রী ও মেয়ে সহযোগিতা করেছেন। মামলায় জেসমিনের বিষয়ে আরও বলা হয়, বিভিন্ন ব্যাংকে তার প্রায় ৪৪টি হিসাব পাওয়া গেছে। এর মধ্যে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকেই ৩৪টি এফডিআর হিসাব রয়েছে।
গত ২২ জুলাই সেলিনা ইসলাম ও জেসমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। এর আগে গত ২২ জুন বাংলাদেশ ব্যাংককে দুদকের দেওয়া চিঠিতে পাপুল, স্ত্রী সেলিনা, মেয়ে ওয়াফা ইসলাম ও শ্যালিকা জেসমিনের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের হিসাব স্থগিত রাখতে অনুরোধ জানানো হয়।
