আগামী ২৬ মার্চ থেকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছরব্যাপী কর্মসূচি শুরু করতে জাতীয় কমিটি ও স্টিয়ারিং কমিটির বাইরে আরও ২৫টি কমিটি গঠন করেছে বিএনপি। এর মধ্যে ১৫টি বিষয়ভিত্তিক কমিটি এবং ১০টি বিভাগীয় কমিটি। গতকাল মঙ্গলবার গুলশানে দলটির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কমিটির নাম ঘোষণা করেন বিএনপির স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটির যে লোগো উন্মোচন করা হয়েছে তার নিচে লেখা রয়েছে ‘২৬ মার্চ, ১৯৭১ যেখান থেকে শুরু’। এর আগে স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির বছরব্যাপী অনুষ্ঠান সফল করতে খন্দকার মোশাররফকে আহ্বায়ক ও আবদুস সালামকে সদস্য সচিব করে ১৩৪ সদস্যের জাতীয় কমিটি করা হয়। এতে স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের
সদস্যসহ কেন্দ্রীয় নেতারা রয়েছেন। এছাড়া পুরো কার্যক্রম তদারকি করতে সাত সদস্যের একটি স্টিয়ারিং কমিটিও করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা বিএনপির পক্ষ থেকে এই সুবর্ণজয়ন্তী পালনকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছি। এজন্য দিয়েছি যে, বিএনপি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল এবং মুক্তিযোদ্ধাদের দল। এজন্য আমাদেরই সুবর্ণজয়ন্তী পালন দায়িত্ব মনে করি। আমাদের কর্মসূচি থাকবে বছরব্যাপী। শুধু ঢাকায় নয়, প্রত্যেক সিটি করপোরেশন, প্রত্যেক জেলা সদর এবং উপজেলায় তৃণমূল পর্যন্ত পালন করব। বহির্বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজধানীতে আমরা অনুষ্ঠানের কর্মসূচি করব। কর্মসূচিগুলো সমন্বয় করতেই ১০টি বিভাগীয় ও ১৫টি বিষয়ভিত্তিক কমিটি গঠন করেছি।’
তিনি বলেন, ‘সারা বছরের কর্মসূচিগুলো ঠিক করে আমরা পুরো বছরের একটা ক্যালেন্ডার প্রকাশ করব। বিষয়ভিত্তিক ও বিভাগীয় কমিটির নেতারা বৈঠক করে কর্মসূচির ক্যালেন্ডার প্রকাশ করবে। এরপর সব মিলিয়ে জানুয়ারি মাসে ক্যালেন্ডার প্রকাশ করা হবে।
হাফিজ ও শওকত রয়েছেন কমিটিতে : সম্প্রতি শোকজ করা দলের দুই ভাইস চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও শওকত মাহমুদও জাতীয় কমিটিতে রয়েছেন। ১৩৪ সদস্যে জাতীয় কমিটিতে মেজর হাফিজ ১৫নং এবং শওকত মাহমুদ ৩০ নম্বর সদস্য। এছাড়া হাফিজকে বরিশাল বিভাগীয় কমিটিতে এবং শওকত মাহমুদ মিডিয়াবিষয়ক কমিটিতেও সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।
বিষয়ভিত্তিক কমিটি : আইনের শাসন ও মানবাধিকার কমিটির আহ্বায়ক ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এবং সদস্য সচিব ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন ও অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা কমিটির আহ্বায়ক অবসরপ্রাপ্ত মেজর শাহজাহান ওমর বীরউত্তম, সদস্য সচিব অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল জয়নুল আবেদীন। প্রচার কমিটির আহ্বায়ক গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সদস্য সচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। সেমিনার ও সিম্পোজিয়াম কমিটির আহ্বায়ক ড. আবদুল মঈন খান, সদস্য সচিব ইসমাইল জবিউল্লাহ। প্রকাশনা কমিটির আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল নোমান, সদস্য সচিব হাবিবুল ইসলাম হাবিব। স্মরণিকা কমিটির আহ্বায়ক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সদস্য সচিব আবদুস সালাম। স্বরচিত কবিতা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা কমিটির আহ্বায়ক সেলিমা রহমান, সদস্য সচিব আবদুল হাই শিকদার। মিডিয়া কমিটির আহ্বায়ক ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সদস্য সচিব শামা ওবায়েদ। সাংস্কৃতিক কমিটির আহ্বায়ক গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সদস্য সচিব আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল। রচনা প্রতিযোগিতা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মুস্তাহিদুর রহমান, সদস্য সচিব প্রফেসর এবিএম ওবায়দুল ইসলাম। র্যালি কমিটি আহ্বায়ক মো. বরকত উল্লাহ বুলু, সদস্য সচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। সাজসজ্জা, মুক্তিযুদ্ধের বইমেলা ও চিত্রপ্রদর্শনী কমিটির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান, সদস্য সচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। ক্রীড়া উপকমিটি আহ্বায়ক অবসপ্রাপ্ত লে. কর্নেল এমএ লতিফ খান, সদস্য সচিব আমিনুল হক। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটির সচিবালয়ের আহ্বায়ক বিজন কান্তি সরকার, সদস্য সচিব জেড খান মো. রিয়াজ উদ্দীন নসু। চিকিৎসা ও সেবা কমিটির আহ্বায়ক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, সদস্য সচিব ডা. হারুন-অর-রশিদ।
বিভাগীয় কমিটিসমূহ : ঢাকা বিভাগে আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস, সদস্য সচিব ফজলুল হক মিলন। চট্টগ্রাম বিভাগে আহ্বায়ক আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সদস্য সচিব মাহবুবে রহমান শামীম। রাজশাহী বিভাগে আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিনু, সদস্য সচিব রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। খুলনা বিভাগে আহ্বায়ক নিতাই রায় চৌধুরী, সদস্য সচিব নজরুল ইসলাম মঞ্জু। বরিশাল বিভাগে আহ্বায়ক সেলিমা রহমান, সদস্য সচিব মজিবর রহমান সরোয়ার। ময়মনসিংহ বিভাগে আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান, সদস্য সচিব মো. শরীফুল আলম। ফরিদপুর বিভাগে আহ্বায়ক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল রুহুল আলম চৌধুরী, সদস্য সচিব সেলিমুজ্জামান সেলিম। সিলেট বিভাগে আহ্বায়ক আরিফুল হক চৌধুরী, সদস্য সচিব ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন। কুমিল্লা বিভাগে আহ্বায়ক মনিরুল হক চৌধুরী, সদস্য সচিব মো. মোস্তাক মিয়া। রংপুর বিভাগে আহ্বায়ক ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জমিরউদ্দিন সরকার, সদস্য সচিব আসাদুল হাবিব দুলু।
এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করতে যাচ্ছি। আমাদের সামনে একটাই লক্ষ্য, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে আমরা যে মূল চেতনাটির জন্য সংগ্রাম করেছি, লড়াই করেছি, যুদ্ধ করেছি, প্রাণ দিয়েছি, আমাদের লক্ষ লক্ষ মানুষ শহীদ হয়েছেন, মা-বোনেরা সম্ভ্রম হারিয়েছেন, অনেক মূল্য দিতে হয়েছে আমাদের, সেই চেতনাকে পুনরুদ্ধার করা। সেই গণতান্ত্রিক চেতনাকে আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে আসা এবং গণতন্ত্রের জন্য যারা সেদিন লড়াই করেছিলেন, যুদ্ধ করেছিলেন তাদের সেই মর্যাদাটাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করাই সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের মূল লক্ষ্য।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব আবদুস সালাম।
