ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতা

৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত খেলাপি করা যাবে না

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০১:১৪ এএম

করোনাভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা করতে ক্ষুদ্রঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর (এমএফআই) গ্রাহকদের বড় ধরনের ছাড় দেওয়া হয়েছে। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে কোনো গ্রাহকের ঋণকে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে না। একই সঙ্গে ঋণের শ্রেণিমান বিবেচনায় না নিয়ে সব ধরনের ঋণের আসলের ওপর অতিরিক্ত ১ শতাংশ হারে প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হবে। এ বিষয়ে বুধবার ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) থেকে একটি সার্কুলার জারি করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এ নির্দেশনা সার্কুলার জারির দিন থেকে কার্যকর হবে বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়, করোনাভাইরাসের প্রভাবে অর্থনৈতিক কর্মকা-ে নেতিবাচক পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে ঋণ শ্রেণিকরণ ও কিস্তি আদায়ে ছাড় দেওয়া হয়েছে। করোনার কারণে দেশের অর্থনীতির অধিকাংশ খাতই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব এখনো অব্যাহত রয়েছে। ফলে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না। এই পরিপ্রেক্ষিতে এ খাতে আগে দেওয়া ছাড়ের সময়সীমা আরও বাড়ানো হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়, ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ গ্রাহকরা সক্ষমতার অভাবে ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে কোনো ঋণকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে না। আলোচ্য সময়ে কোনো গ্রাহক খেলাপি ঋণ পরিশোধ করলে তা নবায়ন করে নিয়মিত ঋণে রূপান্তর করা যাবে।

এর আগে দুই দফায় গত ৩০ জুন ও ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই সীমা বাড়ানো হয়েছে। এবার নিয়ে তৃতীয় দফায় বাড়ানো হলো।

আগে ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি আদায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করা হলেও এবার সে ব্যাপারে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। তবে যেহেতু কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে কোনো ঋণখেলাপি করা যাবে না, ফলে কিস্তি আদায়েও জোরজবরদস্তি করা যাবে না। কেউ স্বেচ্ছায় কিস্তি পরিশোধ করলে তা নিতে হবে। তবে কোনো গ্রাহককে কিস্তি পরিশোধের জন্য চাপ দেওয়া যাবে না।

এমআরএ সূত্র জানায়, অনেক ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতা এখন কিস্তি পরিশোধ করছে। কিস্তি আদায় না হলে এ খাতে তারল্যসংকট প্রকট আকার ধারণ করে। এ কারণে কিস্তি আদায়ের বিষয়ে কোনো স্থগিতাদেশ জারি করা হয়নি। এদিকে বিভিন্ন মানের ঋণের বিপরীতে বিভিন্ন হারে প্রভিশন রাখতে হয়। এর মধ্যে ১ থেকে শতভাগ পর্যন্ত প্রভিশন রাখার বিধান রয়েছে। নতুন সার্কুলারে এ খাতে ছাড় দেওয়া হয়েছে। ঋণের শ্রেণিমান বিবেচনায় না নিয়ে সব ঋণের ওপর অতিরিক্ত ১ শতাংশ হারে প্রভিশন রাখতে বলা হয়েছে। এতে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর তহবিল প্রভিশন খাতে আটকে থাকার পরিমাণ কমে যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত