সান্তা ক্লজ ও ভার্জিনিয়ার বিখ্যাত চিঠি

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:২২ এএম

১৮৯৭ সালে আট বছর বয়সী ভার্জিনিয়া দ্য সান পত্রিকায় একটি চিঠি লিখে জানতে চায় সান্তা ক্লজ নামে আসলেই কেউ আছেন কি না। পত্রিকাটির সম্পাদক পরের এডিশনেই সম্পাদকীয় পাতায় সেই চিঠির উত্তরে একটি লেখা ছাপান। এই একটি চিঠিই ভার্জিনিয়াকে বিখ্যাত করে তোলে। লিখেছেন আন্দালিব রাশদী

সান্তাকে নিয়ে ভার্জিনিয়ার ভাবনা

আট বছর বয়সী ভার্জিনিয়া ও’হ্যানলনের কাছে ফাদার ক্রিসমাস সান্তা ক্লজকে নিয়ে এই ডিসেম্বরেই তিনটি মন খারাপ করা খবর এসেছে। অথচ মাত্র এতটুকু বয়সে মন খারাপের সংবাদ পেতে একটুও ভালো লাগে না। যদিও দুঃখের সংবাদ কোনো বয়সের জন্যই ভালো নয়। একটু বেশি বয়সের মানুষ হলে তো হার্ট অ্যাটাকই হয়ে যেতে পারে। তিনটি খবরের প্রথমটি হচ্ছে, সান্তার একদম ঘরের মানুষরাই তাকে লকডাউন করে রেখেছে, বের হতে দিচ্ছে না। কারণ তারা জানে প্রত্যেক বছর ডিসেম্বরে সান্তা বস্তাবোঝাই উপহার নিয়ে অনেক জায়গায় যায়। আমেরিকা, বাংলাদেশ, সোমালিয়া, পাপুয়া নিউগিনি, ফিলিস্তিন, জার্মানি- যেসব দেশে, শহরে, গ্রামে শিশুরা আছে সব জায়গাতেই তিনি যান। হোয়াইট হাউজে এবার কোনো শিশু নেই, তাই যাওয়ার কথা নয়, তা ছাড়া ট্রাম্প লোকটা কেমন যেন সুবিধারও নয়। তিনি নাকি প্রেসিডেন্টের পদ হারিয়ে এবার সান্তার পদ দখল করতে চান। ঘরের মানুষরা বলেছে যেসব জায়গায় সান্তার যাওয়ার কথা, সব জায়গাতেই করোনাভাইরাস ছড়িয়ে আছে। শ্বাসনালি দিয়ে একটা খুদে ভাইরাস ফুসফুস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারলেই হলো। এমনেই সান্তা বুড়ো মানুষ, শরীরে বার্ধক্যের সমস্যা তো লেগেই আছে, এ অবস্থায় যদি করোনাভাইরাসের কবলে পড়েন, তাহলে আর রক্ষা নেই। সান্তা এন-৯৫ মাস্ক পরে, ভালো স্যানিটাইজার সঙ্গে নিয়ে যাবেন বলেছেন, তবু তারা রাজি হচ্ছে না। এর মানে হচ্ছে, ফাদার ক্রিসমাস সান্তার এবার আসা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আবার তিনি যদি জীবনের এত ঝুঁকি নিয়ে এসে জীবনটাই হারান? তাহলে প্রতি বছর কে শিশুদের কাছে আসবেন? সান্তার কিছু হোক এটা ভার্জিনিয়া কখনো চায় না।

দ্বিতীয় সংবাদটি আরও খারাপ। সান্তা কভিড টেস্টে ধরা পড়ে গেছেন। তিনি করোনা পজিটিভ। তবে তিনি হাসপাতালে আসেননি, বাড়িতেই আইসোলেশনে আছেন। তিনি নিজেই তার ডিসেম্বর কর্মসূচি স্থগিত করেছেন। তিনি চান না তার দেওয়া উপহার হাতে নিয়ে জ্যান্ত ভাইরাসটি ভার্জিনিয়ার হাত হয়ে মুখে কিংবা নাকে এমনকি চোখেও ঢুকে পড়ুক। শুধু ভার্জিনিয়া নয়, এই ভয়ংকর রোগটি কোনো শিশুর হোক, এমনটি তিনি চান না। ভার্জিনিয়ার কাছে এটি বিশ্বাসযোগ্য এবং গ্রহণযোগ্য কারণ বলে মনে হয়েছে।

তৃতীয় সংবাদটি তাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছে এবং তা মেনে নিতে পারছে না। এই সংবাদটি সে মাত্র পেয়েছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার দেশের সীমান্ত সিল করে রেখেছে। এক মাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়া অন্য কোনো পথ দিয়ে কাউকে আসতে দেওয়া হবে না। কাজেই শ্লেজসহ সান্তা রানওয়েতে অবতরণ করবেন, বাকিটা উড়োজাহাজ যাত্রীর মতোই। সর্বনাশটা তো সেখানেই। ক্রিসমাস ইভ মানে ২৪ ডিসেম্বর রাতে এসে পৌঁছার সঙ্গে এয়ারপোর্টের শকুনচোখা লোকগুলো তাকে ধরে ঠিক পনেরো দিনের জন্য কোয়ারেন্টাইন রুমে ঢুকিয়ে দেবে। তিনি ছাড়া পাবেন ৯ জানুয়ারি। কি আশ্চর্য! যে বুড়ো মানুষটা শিশুদের এত ভালোবাসেন, নিজের ঘাড়ে তুলে উপহারের বস্তাটা নিয়ে বাড়ি বাড়ি যান, শিশুদের জন্য গোপনে ক্রিসমাস ট্রির নিচে উপহারগুলো রেখে আসেন, সেই মানুষটাকে পনেরো দিন আটকে রাখলে তো ক্রিসমাসের উৎসব করতে হবে ৯ জানুয়ারি। কিন্তু তা তো হতে পারে না, যিশু খ্রিস্ট জানলে খুব অসন্তুষ্ট হবেন।

ভার্জিনিয়ার মন খারাপ দেখে সত্যিটা তাকে বলতেই হলো। সত্যি ঘটনা জানার পর ভার্জিনিয়া শুনে বলল, সত্যিই? তার মানে এই করোনাকালেও সান্তা আসছেন? হ্যাঁ, তিনি এবারও আসছেন। আর এবার উপহারের সঙ্গে তিনি এনেছেন ২.২ বিলিয়ন শিশুর জন্য সবচেয়ে জরুরি কভিড ভ্যাকসিন। সবার আগে শিশুদের করোনার হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। তাকে যখন এয়ারপোর্টের লোকজন কোয়ারেন্টাইন করতে যাবে, তিনি বলবেন, বেশ তাহলে তোমাদের শিশুরা আর ভ্যাকসিন পাচ্ছে না। নিজের শিশুকে এয়ারপোর্টের লোকরাও ভালোবাসেন। সান্তার মুখে একটা মাস্ক বেঁধে দিয়ে বলবেন, তাহলে তাড়াতাড়ি যান, আমাদের বাসায় আগে যাবেন। ভার্জিনিয়া জানে সান্তা যত বুড়োই হন না কেন ২.২ বিলিয়ন ভ্যাকসিন আর উপহার বিতরণ করতে তার সময় লাগবে মাত্র চার ঘণ্টা। রাত ১২টা এক মিনিটে শুরু করবেন আর ভোর ঠিক ৪টায় তার বিতরণ শেষ হয়ে যাবে। এসব ভেবেই ভার্জিনিয়ার মন ভালো হয়ে গেল। ভার্জিনিয়া জানে, সান্তা আছেন, এখন নিশ্চিত হলো করোনাকালেও তিনি আসবেন। পৃথিবীতে যত দিন শিশু থাকবে, রোদ-বৃষ্টি-ঝড়, প্লেগ কিংবা করোনাভাইরাস উপেক্ষা করে তাকে আসতেই হবে।

(ভার্জিনিয়ার সঙ্গে কাল্পনিক কথোপকথন)

ভার্জিনিয়ার আসল পরিচয়

ভার্জিনিয়ার গল্প বলা এই অংশটুকু কাল্পনিক হলেও সত্যি সত্যি কিন্তু একজন ভার্জিনিয়া ছিল। আর সে সত্যিই সান্তাকে নিয়ে ভীষণ চিন্তিত ছিল। ১৮৯৬ সালে নিউ ইয়র্ক সিটি পুলিশের সার্জন ডক্টর ফিলিপ ও’হ্যানলন স্ত্রী লরা এবং ছোট্ট মেয়ে ভার্জিনিয়াকে নিয়ে নিউ ইয়র্কের ১১৫ ওয়েস্ট ৯৫ স্ট্রিতে চলে আসেন। পরের বছর ক্রিসমাসের সময় ভার্জিনিয়া স্কুলে জানতে পারল আসলে সান্তা ক্লজ বলতে কেউ নেই। ভার্জিনিয়া এ কথা বিশ্বাস করেনি। দ্রুত বাড়ি গিয়ে বাবাকে জিজ্ঞেস করল আসলেই সান্তা আছে নাকি নেই। বাবা ফিলিপ তাকে নিরাশ করতে চাননি। ভার্জিনিয়া নিজে নিজে যেন সত্যিটা জেনে নেয় সেজন্য বেশ মজার একটি পরামর্শ দেন। তিনি ভার্জিনিয়াকে বলেন, ‘তুমি দ্য নিউ ইয়র্ক সানে একটি চিঠি লেখো। জানতে চাও আসলেই সান্তা আছে কি না। যদি দ্য সান জানায় সান্তা আছে, তাহলে সত্যিই সান্তা আছে।’

বাবার দেওয়া পরামর্শ মেনে ভার্জিনিয়া দ্য সানে একটি চিঠি লেখে। ১৮৯৭ সালের ২০ সেপ্টেম্বর, পত্রিকাটির সম্পাদক, এবং দ্য নিয় ইয়র্ক সান পত্রিকার প্রবীণ ও সুপরিচিত লেখক ফ্র্যান্সিস চার্চ এই চিঠিটি পান। পরের এডিশনেই এই চিঠির উত্তর লিখলেন তিনি।

ভার্জিনিয়ার চিঠি :

প্রিয় সম্পাদক,

আমার বয়স আট বছর। আমার ছোট বন্ধুদের কেউ কেউ বলে সান্তা নেই। বাবা বলেছে, দ্য সান পত্রিকা যদি হ্যাঁ বলে, তাহলে সান্তা আছেন। আপনি আমাকে সত্যটা বলুন সান্তা কি আছেন?

ভার্জিনিয়া ও’হ্যানলন

১১৫ ওয়েস্ট নাইনটি ফিফথ স্ট্রিট।

চিঠির জবাব ও সম্পাদকীয় :

ভার্জিনিয়া, তোমার ছোট বন্ধুরা ভুল বলেছে। সন্দেহের যুগে সন্দেহপরায়ণতা তাদের পেয়ে বসেছে। তারা যা কিছু দেখতে পায়, তার বাইরে কিছু বিশ্বাস করে না। তারা মনে করে তাদের ছোট মনে যদি কোনো কিছু বোধগম্য না হয়, তার অস্তিত্ব থাকতে পারে না। ভার্জিনিয়া, এমন ভাবনার যারাই আছে, তারা ছোট হোক বা বড়, সবার মনই ছোট। পৃথিবীটা অনেক বড় আর সে তুলনায় মানুষ হচ্ছে তুচ্ছ কীটের মতো। অসীম পৃথিবীর সঙ্গে তুলনা করলে মানুষের বিদ্যাবুদ্ধি ও কীটপতঙ্গ আর পিঁপড়ের চেয়ে বেশি নয়। যতটুকু জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তা আয়ত্ত করতে পারলে সব সত্য জানতে পারা যায়, সে তুলনায় মানুষের জ্ঞান মোটেও যথেষ্ট নয়।

হ্যাঁ ভার্জিনিয়া, সান্তা ক্লজ আছেন। ভালোবাসা, উদারতা ও সাধনা যেমন আছে এবং চারদিক থেকে তোমাকে ঘিরে রেখে তোমার জীবনকে সর্বোচ্চ আনন্দ দেয় এটা যেমন সত্য, তেমনি সত্য সান্তা ক্লজ। হায়! সান্তা ক্লজ যদি না থাকতেন, তাহলে পৃথিবীটাই কেমন নিরানন্দ হয়ে যেত। পৃথিবীতে যদি ভার্জিনিয়া না থাকত, তাহলে পৃথিবী যেমন মন খারাপ ও বিষণœ হয়ে থাকত, সান্তার ব্যাপারটাও ঠিক সে রকম। তাহলে আমাদের জীবনকে সহনীয় করে তোলার মতো শিশুসুলভ কোনো বিশ্বাস থাকত না, কবিতা থাকত না, রোমাঞ্চ থাকত না। শৈশবের যে অনন্ত আলো পৃথিবীকে ভরে রাখে, তা নিভে যেত। কেউ কেউ সান্তা ক্লজে বিশ্বাস করে না এটা সত্যি। তুমিও চাইলে পরীদের অবিশ্বাস করতে পারো। তুমিও তোমার বাবাকে বলতে পারো তিনি যেন লোক ভাড়া করে তাদের ক্রিসমাস ইভে চিমনির দিকে লক্ষ রাখার দায়িত্ব দেন, সান্তা ক্লজ নামছেন কি না দেখবেন এবং তারপর ধরে ফেলবেন। তারপরও যদি দেখা যায় সান্তা চিমনি দিয়ে নামছেন না, তাহলে কী প্রমাণিত হবে? কেউ যেহেতু সান্তাকে দেখেনি অতএব সান্তা নেই! কিন্তু এটা কোনো প্রমাণ হতে পারে না। পৃথিবীর সবচেয়ে সত্যিকার জিনিসগুলো শিশু কিংবা বুড়ো কেউ দেখে না। তুমি কি তোমাদের বাড়ির লনে পরীদের নাচতে দেখেছো? নিশ্চয়ই দেখোনি। এটা কি প্রমাণ করে যে পরী নেই? তা হতে পারে না। যা দেখা যায় না কিংবা যা দেখা হয়নি পৃথিবীর এমন বিস্ময়কর বিষয়গুলো কেউ তাদের ধারণায় আনতে পারে না কিংবা কল্পনায় রাখতে পারে না।

হ্যাঁ ভার্জিনিয়া, সান্তা ক্লজ আছেন। তিনি আজীবন থাকবেন। এখন থেকে হাজার বছর পরেও, হাজার বছরেরও আরও দশ গুণ বছর পরেও তিনি থাকবেন। সান্তা আজীবন শৈশবকে রঙিন করে যাবেন।

ফ্র্যান্সিস চার্চ, এডিটর

ভার্জিনিয়ার জীবন

১৮৯৭ সালে লেখা ছোট্ট ভার্জিনিয়ার বিখ্যাত চিঠি ‘সত্যিই কি সান্তা ক্লজ আছে?’ ছিল অজানাকে জানার জন্য তার আগ্রহের বহিঃপ্রকাশ। লেখাপড়াতেও তিনি পিছিয়ে ছিলেন না। ১৯১০ সালে হান্টার কলেজ থেকে আর্টে ব্যাচেলর ডিগ্রি এবং ১৯১২ সালে কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। ফোর্ডহাম ইউনিভার্সিটি থেকে ডক্টরেটও সম্পন্ন করেছেন ভার্জিনিয়া। ৪৭ বছর বয়সে শিক্ষক ও প্রিন্সিপাল হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন নিউ ইয়র্ক সিটির একটি স্কুলে। ১৯৫৯ সালে সেখান থেকে অবসর নেন। সামাজিক কোনো পরিচয়ের কারণে নয়, সব শিশু যেন সমান সুযোগ পায় সেটি নিয়ে কাজ করেছেন আজীবন।

শিক্ষা ক্ষেত্রে ও শিশুদের অধিকার নিয়ে সামাজিক কাজে যুক্ত থাকার সুবাদে ভার্জিনিয়া বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিখ্যাত এই চিঠি নিয়ে প্রচুর ই-মেইল পেতেন। নিজের কাছে সেই সম্পাদকীয় পাতার একটি কপি তিনি রেখে দিয়েছিলেন। ভার্জিনিয়া এক লেখায় জানিয়েছিলেন, ‘আমি শুধু খুব ছোট্ট একটি প্রশ্ন করেছিলাম। সত্যিই কি সান্তা ক্লজ আছেন? আমি আলাদা কিছু করিনি। অবশ্যই চার্চের লেখাগুলো এত সুন্দর ছিল যে, সবাই সেটি মনে রেখেছে। দারুণ মুহূর্ত তৈরি করতে ভালোবাসতেন চার্চ।’ এক শতাব্দী পরে এসে আমরাও আজকে জানি শুধু চার্চ নন, ভার্জিনিয়াও দারুণ কাজ করতে ভালোবাসতেন। ১৯৭১ সালের ১৩ মে, ৮১ বছর বয়সে মৃত্যু হয় ভার্জিনিয়ার। যে বাড়িতে বসে তিনি সেই বিখ্যাত চিঠি লিখেছিলেন, সেখানে এখন একটি স্কুল চালানো হয়।

কেমন আছেন সান্তা

ভার্জিনিয়া বড় হয়েছেন, জীবনের বাস্তবতা জেনেছেন। তার সেই ছোট্ট বয়সে জানার আগ্রহকে যেমন চার্চ আরও বাড়িয়ে তুলেছিলেন, তেমনই এখনো অনেকের মধ্যে সান্তাকে নিয়ে জানার আগ্রহ প্রবল। কঠিন এই সময়ে সান্তা নিয়ম করে যদিও আসছেন, তবু জানতে ইচ্ছে করে সবার প্রিয় বুড়ো সান্তা কেমন আছেন এখন? বার্ধক্যের কিছু সমস্যা তো মেনে নিতেই হয়, তবু তিনি প্রবল তুষারপাতের মধ্যেও উত্তর মেরু থেকে ছুটে আসেন। কারণ তিনি জানেন তাকে ছাড়া শিশুদের ক্রিসমাস অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।  ছোট্ট ভার্জিনিয়ার মতো জেনেভার ছয় বছর বয়সী প্যাক্সটন সিএনএন প্রতিবেদককে জিজ্ঞেস করেছে, এই করোনাভাইরাস মৌসুমে সান্তা আমার জন্য আসতে পারবেন তো? সিএনএন সংক্রামক রোধ প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রধান করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রক ব্যক্তিত্ব অ্যান্থনি ফাউচিকে জিজ্ঞেস করেছে : সান্তা বের হতে পারবেন তো?

অ্যান্থনি জবাব দিয়েছেন, ‘তিনি ভালো আছেন। আমি নিজে উত্তর মেরুতে গিয়ে তাকে করোনা ভ্যাকসিন দিয়ে এসেছি। তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও পরীক্ষা করেছি, এখন পর্যন্ত সেটিও বেশ ভালোই মনে হয়েছে। তিনি চিমনি দিয়ে নেমে পুরস্কার রেখে যেতে পারবেন, দুশ্চিন্তার কারণ নেই। তবে রাস্তাঘাটে যেসব পোশাক পরা সান্তা থাকবেন, তাদের কাছ থেকে শিশুদের অবশ্যই দূরে থাকতে হবে।’ যেখানে ডাক্তার অ্যান্থনি ফাউচি আশ্বস্ত করেছেন, ‘ভার্জিনিয়ার কিংবা আমাদের কারোরই দুশ্চিন্তার প্রয়োজন নেই। তবে করোনাকালের হেলথ প্রটোকল-স্বাস্থ্যবিধি তো আমাদের মানতেই হবে। শিশুদেরও জানতে হবে এবারের ক্রিসমাসের মৌসুমে সে কোনো সান্তার কাছে না যাওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত