মৃত্যুর আগে তীব্র যন্ত্রণায় ভোগেন ম্যারাডোনা

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:৫৯ এএম

তাহলে কি চিকিৎসা গাফিলতির কারণেই মৃত্যু হয়েছে ডিয়েগো ম্যারাডোনার? ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তেমন ইঙ্গিতই মিলছে।

গত ২৫ নভেম্বরে মৃত্যু হয় আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির। এরপর ম্যারাডোনার পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তোলা হয়েছিল। এবার ম্যারাডোনার দেহের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর সেই বিতর্কটা আবার ফিরে এসেছে। বুধবার আর্জেন্টিনার সরকারি কৌঁসুলির পেশ করা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে মৃত্যুর আগে ম্যারাডোনার শরীরে কোনো মাদকের অস্তিত্ব মেলেনি। এমনকি অ্যালকোহলের অস্তিত্বও ছিল না। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঘুমের মধ্যেই মারা গেছেন ম্যারাডোনা। মৃত্যুর সময় তার হৃদযন্ত্রের গতি স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ ছিল। ফুসফুস, কিডনি ও যকৃৎ কাজ করছিল না। বুয়েনস আয়ার্সের বৈজ্ঞানিক পুলিশের অফিস থেকে ম্যারাডোনার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম এক তদন্তকারীকে উদ্ধৃত করে লিখেছে, ‘পরীক্ষাগারের বিশ্লেষণে যে ফল জানা গেছে তা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ম্যারাডোনাকে মানসিক সমস্যার ওষুধ দেওয়া হচ্ছিল, কিন্তু হৃদরোগের কোনো ওষুধ দেওয়া হয়নি।’ মৃত্যুর সময় চিকিৎসকদের গাফিলতির অভিযোগে ম্যারাডোনার দীর্ঘদিনের চিকিৎসক লিওপোলদো লুক এবং মনোবিদ অগাস্তিনা কোসাচভকে আগেই জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল আর্জেন্টিনা পুলিশ। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর চিকিৎসা গাফিলতি নিয়ে যে অভিযোগ তার তদন্তে গতি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নতুন ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃত্যুর আগে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা ভীষণ যন্ত্রণায় ভুগেছেন ম্যারাডোনা। সেই সময় তাকে খিঁচুনি, পেটের সমস্যা, মাদকাসক্তিসহ মানসিক সমস্যার জন্য ওষুধ দেওয়া হলেও ফুসফুস, কিডনি কিংবা যকৃতের চিকিৎসার কোনো ওষুধ দেওয়া হয়নি। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ম্যারাডোনার মেয়ে জিয়ান্নিনা লিখেছেন, ‘সবাই আমার বাবার ময়নাতদন্তে ড্রাগ, মারিজুয়ানা ও মদের অস্তিত্ব পাওয়ার অপেক্ষায় ছিল। আমি কোনো চিকিৎসক নই, কিন্তু তাকে ধীরে ধীরে স্ফীত হতে দেখেছি। কণ্ঠস্বর ছিল যান্ত্রিক, মনে হতো না এটা তার গলা।’

৩০ অক্টোবর জন্মদিনের পর ম্যারাডোনার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ  হয়েছিল। এরপর অস্ত্রোপচার করানো হয়। তখন লুকের চিকিৎসা দল অপারেশনে সাফল্য দাবি করেছিল। কিন্তু ২৫ নভেম্বর ঘুমের মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুকরণ করেন ফুটবল কিংবদন্তি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত