সাবেক প্রতিমন্ত্রী, প্রাক্তন সংসদ সদস্য (এমপি) ও আওয়ামী লীগ নেতা আ. খ. ম. জাহাঙ্গীর হোসাইন মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি....রাজিউন)। করোনা আক্রান্ত অবস্থায় প্রায় ২২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি মারা যান। তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা।
জাহাঙ্গীর হোসাইন গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার শোকবার্তায় দুঃসময়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রতিষ্ঠায় ছাত্রলীগের সাবেক এই সাধারণ সম্পাদকের সংগ্রাম এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর হোসাইনের মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক শূন্যতা সৃষ্টি হলো।’ প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
সিইসি নুরুল হুদা এক শোকবার্তায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। সিইসি বলেন, জাতি একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদকে হারালেন।
জাহাঙ্গীর হোসাইন স্ত্রী সেলিনা হোসাইন, ছেলে আসম জাওয়াদ সুজন, মেয়ে ড. শারমীন জাহান শাম্মি ও নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসন থেকে চারবার আওয়ামী লীগ থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ছিলেন প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন তিনি।
স্বজনরা জানান, তিনি গত ২ ডিসেম্বর প্রথম কভিড-১৯ পজিটিভ হন। অবস্থার অবনতি হলে গত ৪ ডিসেম্বর তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
প্রবীণ এই আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যুতে গলাচিপা-দশমিনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জাহাঙ্গীর হোসাইনের পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, গলাচিপা উপজেলার চরচন্দ্রাইল গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে আজ শুক্রবার তার মরদেহ দাফন করা হবে।
রাজনৈতিক জীবন : পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের চরচন্দ্রাইল গ্রামে জন্ম নেওয়া আ.খ.ম. জাহাঙ্গীর হোসাইনের রয়েছে দীর্ঘ বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন। পাকিস্তান আমলে গলাচিপা মডেল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত হন। ’৭৫ সালে জাতির পিতার নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তিনি ছিলেন প্রথম সারির লড়াকু সৈনিক।
মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন যখন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন, তখন আ.খ.ম. জাহাঙ্গীর হোসাইন সফলতার সঙ্গে ওই কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। সে সুবাদে তিনি দেশব্যাপী ছাত্রনেতা হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
১৯৮১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এলে আ.খ.ম. জাহাঙ্গীর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে তিনি প্রথমবারের মতো পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০১৪ সালে তিনি আরও তিনবার একই আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন।
১৯৯৬ পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারে তিনি বস্ত্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সংসদীয় বিভিন্ন কমিটির সদস্যও ছিলেন। সর্বশেষ তিনি আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। এছাড়া, বরিশাল বিভাগীয় আওয়ামী লীগের অন্যতম সমন্বয়কারী ছিলেন। এমপি ও মন্ত্রী থাকাকালে তিনি এলাকার সার্বিক উন্নয়নে ছিলেন নিবেদিত। তার উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে এলাকায় অসংখ্য প্রতিষ্ঠান মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে। তার মৃত্যুতে গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
