পারটেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক সাংসদ শিল্পপতি এম এ হাসেমের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বাদ জুমা রাজধানীর গুলশানের আজাদ মসজিদে তার জানাজা শেষে তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়। দাফনের সময় মরহুমের ছেলেসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তবে স্বাস্থ্যবিধি থাকায় সীমিত সংখ্যক মানুষকে কবরস্থানে প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়।
জুমার নামাজের পর এম এ হাসেমের বড় ছেলে আজিজ আল কায়সার বাবার জন্য সবার কাছে ক্ষমা চান। কারও দেনাপাওনা থাকলে তার সঙ্গে দেখা করার কথা বলেন। বাবার আত্মার মাগফিরাতের জন্য তিনি সবার কাছে দোয়া চান। এরপর এম এ হাসেমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় কিছু লোক অংশ নিতে না পারায় পরে বেলা সোয়া ২টায় দ্বিতীয় দফা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত বুধবার রাত ১টা ২০ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাসত্যাগ করেন এম এ হাসেম। ১১ ডিসেম্বর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১৬ ডিসেম্বর তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।
এম এ হাসেম ১৯৪৩ সালের ৩০ আগস্ট নোয়াখালীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৬২ সালে তামাকের ব্যবসার মাধ্যমে তার ব্যবসায়ী জীবনের সূচনা করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি উৎপাদন ও পরিষেবাবিষয়ক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, যেমন ফার্নিচার, বোর্ড, খাদ্য ও পানীয়, প্লাস্টিক, কাগজ, তুলা, সুতা, পাট, রিয়েল এস্টেট, টেক্সটাইল, শিপিং, অ্যাগ্রো, গার্মেন্টস, অ্যারোমেরিন লজিস্টিকস ইত্যাদি গড়ে তোলেন। তিনি ব্যবসার পাশাপাশি বেসরকারি খাতের সিটি ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতাদেরও একজন। ব্যাংক দুটির চেয়ারম্যান পদেও দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া জনতা ইনস্যুরেন্স কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতাদেরও একজন তিনি। নোয়াখালীর এম এ হাসেম কলেজের প্রতিষ্ঠাতা এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তিনি।
নোয়াখালী-২ (বেগমগঞ্জ ও সোনাইমুড়ী) থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ২০০১ সালের নির্বাচনে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন এম এ হাসেম। ২০১৬ সালের ২৫ ডিসেম্বর বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেন। এদিন নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তার পদত্যাগপত্র দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে পাঠিয়ে দেন।
