নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) না চাইলেও সিটি ব্যাংক এনএর চিফ কান্ট্রি কমপ্লায়েন্স অফিসার আশিক রহমানকে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্টক এক্সচেঞ্জটির পর্ষদ। গতকাল ডিএসইর পর্ষদ সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা অনুমোদনের জন্য আজ এসইসিতে পাঠানো হবে।
ডিএসইর কৌশলগত বিনিয়োগকারী চীনা কনসোর্টিয়ামের নিযুক্ত পরিচালকও ডিএসইর এমডি পদে আশিকুর রহমানকে নিয়োগের বিরোধিতা করেছিলেন। গত বুধবার এমডি নিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা থাকলেও এসইসির হস্তক্ষেপে তা পিছিয়ে যায়। এসইসি থেকে একজন কমিশনার ডিএসইকে জানান যে, এমডি নিয়োগের জন্য প্রয়োজনে নতুন করে বিজ্ঞপ্তি দিতে। তবে ডিএসই সেই পরামর্শ আমলে না নিয়ে এমডি পদে আশিক রহমানকে চূড়ান্ত করেছে।
এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে অস্বীকার করেছেন ডিএসইর পরিচালক ও এনআরসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাসুদুর রহমান। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন পরিচালক জানিয়েছেন, আশিক রহমানের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের নির্বাহী পরিচালক ড. মোহাম্মদ এনামুল হকের বিষয়ে ডিএসই পর্ষদ সন্তুষ্ট হতে পারেনি। এনামুল হক ডিএসইর চাহিদামতো সব ডকুমেন্ট সরবরাহ করতে পারেননি। ওই পরিচালক আরও জানান, আশিক রহমানের পুঁজিবাজারের অভিজ্ঞতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা পুরোপুরি সঠিক নয়। পুঁজিবাজার সম্পর্কে তার ধারণা রয়েছে। এছাড়া চিফ কমপ্লায়েন্স অফিসার হিসেবে কাজ করার কারণে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যাবে।
যোগ্য আবেদনকারীকে ডিঙ্গিয়ে পুঁজিবাজারে বাস্তব অভিজ্ঞতা না থাকা সিটি ব্যাংক এনএর চিফ কান্ট্রি কমপ্লায়েন্স (সিসিসি) ও চিফ অ্যান্টি মানি লন্ডারিং অফিসার এম আশিক রহমানকে এমডি পদে নিয়োগ নিয়ে গত কিছুদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। অভিযোগ উঠেছে, ডিএসইর নতুন এমডি নিয়োগে নেপথ্যে থেকে ভূমিকা রাখছেন পর্ষদের একজন শেয়ারহোল্ডার পরিচালক, যিনি বর্তমান এমডি কাজী সানাউল হকের নিয়োগেও প্রধান ভূমিকা রাখেন। সম্প্রতি ওই শেয়ারধারী পরিচালক আইনে সুযোগ না থাকলেও বেস্ট হোল্ডিংসের মতো বেসরকারি কোম্পানিকে সরাসরি তালিকাভুক্তির চেষ্টা চালিয়েছিলেন। যদিও নিয়ন্ত্রক সংস্থার হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত তা হয়নি।
অবশ্য নিয়োগের আট মাসের মাথায় পদত্যাগ করেন ডিএসইর বর্তমান এমডি কাজী সানাউল হক, যা ৮ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। এমন পরিস্থিতিতে এমডি পদের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ডিএসই। আবেদনকারীদের মধ্য থেকে ডিএসইর এনআরসি কমিটির সংক্ষিপ্ত তালিকায় দুজনকে রাখা হয়। এর মধ্যে একজন এম আশিক রহমান ও অন্যজন বর্তমানে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ড. মোহাম্মদ এনামুল সরকার। তবে ইন্টারভিউ শেষে এম আশিক রহমানকে ডিএসইর এমডি পদের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করেছে ডিএসইর এনআরসি কমিটি, যেখানে তিনজন শেয়ারধারী পরিচালকও উপস্থিত ছিলেন। এক্ষেত্রে ডিএসইর কৌশলগত বিনিয়োগকারীর মনোনীত পরিচালকের মতামতও উপেক্ষা করা হয়।
এমডি পদের জন্য দুই আবেদনকারীর কাউকেই ডিএসইর জন্য যোগ্য নয় বলে এক জুম মিটিংয়ে ডিএসইর কৌশলগত বিনিয়োগকারী চীনা প্রতিষ্ঠানের মনোনীত পরিচালক জানিয়েছেন, তাদের কারোরই বাংলাদেশের পুঁজিবাজার নিয়ে অভিজ্ঞতা নেই। বরং ডিএসইর অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে এমডি ও সিআরও পদের জন্য বেছে নেওয়ার সুপারিশ করেন তিনি।
ডিএসইতে এর আগের এমডি ছিলেন কে এ এম মাজেদুর রহমান, যিনি ডিএসইতে যোগদানের আগে একটি বেসরকারি ব্যাংকের এমডি হিসেবে কাজ করেছেন। তার আগে ডিএসইর এমডি পদে ছিলেন অধ্যাপক স্বপন কুমার বালা, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।
ডিএসইর অপর এক পরিচালক জানান, ডিএসইর আগের দুই এমডি কে এ এম মাজেদুর রহমান ও স্বপন কুমার বালা কারোরই পুঁজিবাজার নিয়ে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ছিল না। তারপরও তারা ডিএসই চালিয়েছেন।
